প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেবদুলাল মুন্না: কেন প্রতিমামণ্ডপে হামলা?

দেবদুলাল মুন্না: জাতীয় নির্বাচনের সময় যতো এগিয়ে আসে ততো সার বিশ্বেই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি শুরু হয় জোরেশোরে। বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়। শুনলাম রংপুরের উলিপুরেও হামলা হয়েছে। কাল গভীর রাতে হয়েছে চট্টগ্রামে। তার আগে শুরু কুমিল্লায়। শুরুটা দেখুন কীভাবে?

কুমিল্লার এক মন্দিরের প্রতিমার সঙ্গে থাকা মাটির হনুমানের কোলে পাওয়া গেছে পবিত্র কোরআন। সেই শুরু হামলা। কয়েকটি প্রশ্ন, সিসিটিভি ফুটেজ কী বলে? পুলিশ ও আনসারের সদস্যরা চব্বিশ ঘণ্টা পাহারা দেন তারা কী বলেন? স্থানীয় হিন্দুরা কী বলেন? হিন্দুরা নিশ্চয়ই এদেশে এতো সাহসী নন এমন কাণ্ড ঘটাবার। আবার যিনি প্রকৃত মুসলমান তিনিই বা কেন তার পবিত্র বহিকে হনুমানের কোলে রেখে অবমাননা করবেন? বা একজন প্রকৃত হিন্দু তার পূজা নষ্ট করবে কেন? একজন প্রকৃত মুসলিম তো দুনিয়া উল্টে গেলেও এ কাজ করবে না। সন্দেহাতীতভাবে সেটা কোনো ভৌতিক কাজও নয়। সেটাও পরিষ্কার। তবে কারা করলো?

ধরেন, আওয়ামী লীগ হিন্দুদের ভোট বেশি পায় সেটা সত্য। এন্টি আওয়ামী লীগ ডানপন্থিরা তাই হিন্দুদের অপছন্দ করবেন সেটাও স্বাভাবিক। এসব আমরা কমবেশি সবাই বুঝি। কথা হলো, আওয়ামী লীগ এখন সরকারে আছে। তাকে এসব হামলার দায়িত্ব নিতে হবে সরকার হিসেবে। তাই তারাই বা করবে কেন? তারা তো হিন্দুদের ভোট পায়ই। আবার কন্সপিরেসি থিওরির বেলায় অনেকে বলছেন, ভারতের পাশ থেকে ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনের জন্য সরে গিয়ে চীনের ধারে নৌকা ভিড়াচ্ছে। সেটারও কিছু আলামত আছে। তাই এন্টি আওয়ামী লীগদের ঘায়েল করার জন্য সেটা একটা চালও হতে পারে বা পাশের দেশের কোনো এজেন্সিরও হতে পারে। যুক্তি তো বহুভাবেই তৈরি করা যায়। কিন্তু তাই বলে এতো জলদি? এখনো তো ওয়ার্মআপ মানে ইলেকশনের শুরুই হয়নি। ফলে এসব যুক্তি ধোপে টেকার কথা নয়। কিন্তু হামলা যে হচ্ছে সেটা তো সত্য। হিন্দুরা চুপ। তারা পূজা করে যাচ্ছেন। একবার ভাবুন পুরো উল্টো চিত্র ঘটলে কী হতো? নিদেনপক্ষে বায়তুল মোকাররম থেকে মিছিল।

অবশ্য সব দেশেই বাটে পড়ে মাইনোরিটিরা (আম্রিকা ও ইউরোপে মুসলিমরা যেমন) প্রগতিশীল। হিন্দুরাও এখানে চুপচাপ হয়তো সে কারণেই। যাই হোক, বাড়িঘরেও হামলা শুরু হয়েছে আজ রংপুরে। কারা করাচ্ছে কেন এই রাজনীতিটা ধরার চেষ্টা করুন। সেটাই ডানপন্থা রাজনীতির ভেতরের রূপ। সমাজে তো, যেমন কুমিল্লার ক্ষেত্রেও জানলাম মুসলিমরা হিন্দুদের পাশে দাঁড়িয়েছিলো। দাঁড়ায়ও। তাহলে এই ধর্মভিত্তিক বিভেদের পরিস্থিতি কেন তৈরি করা হয? রাজনীতি, রাজনীতি এবং রাজনীতি। উবনফঁষধষ গঁহহধ-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।