শিরোনাম
◈ রেকর্ড দল ও প্রতীক নিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ফিরে দেখা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাস ◈ আরব আমিরাতের ক্লাবে নাম লেখালেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফুটবলার জায়ান ◈ চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক অন্য কোনো শক্তিতে প্রভাবিত হবে না: চীনা দূতাবাস ◈ বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, রণক্ষেত্র জয়পুরহাট (ভিডিও) ◈ নির্বাচনে অনিয়ম বিতর্ক ও অভিযোগ আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হবে: সিইসি ◈ ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানকে সমর্থন, সরে দাঁড়ালেন ৫ প্রার্থী ◈ নির্বাচনে যেসব ইস্যু গুরুত্ব পাচ্ছে ◈ ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাস উল্টে প্রাণ গেল দু'জনের, আহত ২০ ◈ হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশ কি তারেক রহমানকেই খুঁজছে? ◈ জামায়াতের আমিরের সাথে কেনো সবাই দেখা করতে চায়: আল জাজিরা পর্যবেক্ষণ

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৮:১৯ রাত
আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: চট্টগ্রামেও সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন, কেন্দ্রে পৌছেছে নির্বাচনী সরঞ্জাম

এম.ইউছুপ রেজা, চট্টগ্রাম : সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণের সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম।

নির্ধারিত সময় সকাল ১০টায় বিতরণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে সকাল ১১টার দিকে কার্যক্রম শুরু হয়। চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে নগরের পাঁচটি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, সিল, ভোটকক্ষের প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ সব উপকরণ বুঝে নেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। এর আগেই জেলার দূরবর্তী ও গ্রামীণ আসনগুলোর জন্য নির্বাচনী সরঞ্জাম সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে পাঠানো হয়েছে। ধাপে ধাপে পুরো জেলার ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রে এসব সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. জিয়াউদ্দীন বলেন, ভোট উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এখন পর্যন্ত কোনো ঝুঁকি তারা দেখছেন না। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ভোটকেন্দ্রগুলোর ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা, পরিবহন ও তদারকিতে থাকবে বাড়তি সতর্কতা।

নির্বাচনী আচরণবিধি জারির পর থেকে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবপক্ষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন
করায় জেলার সার্বিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা
প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম
জেলা স্টেডিয়ামে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে পুরো চট্টগ্রাম জেলাকে নিরাপত্তার
চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে রয়েছে ৪০ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং প্রায় ১১৫ জন জুডিশিয়াল ও অ্যাক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। প্রত্যেক ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে
স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করছে এবং তারা সার্বক্ষণিক টহল ও মুভমেন্টের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নিয়মিত তল্লাশি অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে কিছু অর্থ জব্দ করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনের লক্ষ্য কেবল ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নয় বরং প্রতিটি ভোটার যেন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের সুচিন্তিত মতামত প্রকাশ করতে পারেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন-সেই নিশ্চয়তা প্রদানই প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। সীতাকুণ্ড ও রাউজানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাসহ প্রতিটি উপজেলা বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং কোনো ধরনের উদ্বেগের ইঙ্গিত পাওয়া গেলে তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে নির্বাচনের পরিবেশ স্বস্তিকর।

চট্টগ্রাম জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪
লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭ জন। নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৭০ জন। এসব ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন জেলার মোট ১ হাজার ৯৬৫টি
ভোটকেন্দ্রে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে নাশকতা ঠেকাতে ৫০টি র‌্যাবের টহল দল : সতর্ক র‌্যাব ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ
নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে চট্টগ্রামে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে র‌্যাব-৭। নির্বাচন
কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ টহল, চেকপোস্ট
স্থাপন এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল
মো.হাফিজুর রহমান বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি ) সকালে নগরের এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ কেন্দ্রে
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বিক নিরাপত্তা ও টহল কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে এ ব্রিফিংকালে এসব
কথা বলেন। তিনি বলেন, র‌্যাব-৭ এর আওতাধীন চার জেলায় ২০টি সংসদীয় আসনে মোট ৫০টি টহল
দল মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি একটি ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট দায়িত্ব পালন
করছে। এ কার্যক্রম ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহর ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে জানিয়ে মো.হাফিজুর রহমান বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ টহলও পরিচালিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ১৬টি সংসদীয় আসন রয়েছে, যেগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় নিয়ে ৪০টি টহল দল কাজ করছে। ভোটাররা যেন ভীতি ছাড়াই কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো.হাফিজুর রহমান বলেন যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা নাশকতার বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। ভোটের আগে ফাঁকা চট্টগ্রাম নগর, সীমিত যান চলাচল : ভোটগ্রহণের আগের দিন চট্টগ্রাম নগরের
প্রধান সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মূল সড়কে যানবাহন চলাচল খুবই কম লক্ষ্য করা গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকে রাস্তায় বের হতে দেখা যায়নি।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। তারা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা তদারকি করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার
জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের সব অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। সকাল থেকেই বন্দরকেন্দ্রিক ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ আছে।

চট্টগ্রাম মহানগরের ব্যস্ততম বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, চকবাজার,
জামাল খান, আন্দরকিল্লা, গণি বেকারি মোড়, কাজীর দেউড়ি, লাভলেইন, কোতোয়ালীর মোড় ও নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে যানবাহনের সংখ্যা হাতেগোনা। চলাচল করছে মূলত রিকশাও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সীমিত সংখ্যক গণপরিবহন চলাচল করতে দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভুইয়া বলেন, নির্বাচনকে
কেন্দ্র করে চারদিনের বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল
টিম আগে থেকেই মাঠে কাজ শুরু করেছে। রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভোটারদের নিরাপদে
আসা যাওয়া নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়