শিরোনাম
◈ রেকর্ড দল ও প্রতীক নিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ফিরে দেখা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাস ◈ আরব আমিরাতের ক্লাবে নাম লেখালেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফুটবলার জায়ান ◈ চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক অন্য কোনো শক্তিতে প্রভাবিত হবে না: চীনা দূতাবাস ◈ বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, রণক্ষেত্র জয়পুরহাট (ভিডিও) ◈ নির্বাচনে অনিয়ম বিতর্ক ও অভিযোগ আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হবে: সিইসি ◈ ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানকে সমর্থন, সরে দাঁড়ালেন ৫ প্রার্থী ◈ নির্বাচনে যেসব ইস্যু গুরুত্ব পাচ্ছে ◈ ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাস উল্টে প্রাণ গেল দু'জনের, আহত ২০ ◈ হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশ কি তারেক রহমানকেই খুঁজছে? ◈ জামায়াতের আমিরের সাথে কেনো সবাই দেখা করতে চায়: আল জাজিরা পর্যবেক্ষণ

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:৩০ রাত
আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রেকর্ড দল ও প্রতীক নিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ফিরে দেখা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাস

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর এবারই সবচেয়ে বেশি দল ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছে প্রার্থীরা। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) মোট ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্রসহ মোট ২০২৮ প্রার্থী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, এবার ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলিসহ মোট ১১৯টি নির্বাচনী প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন ভোটাররা। এছাড়া সংস্কার প্রস্তাবের ওপর ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেওয়ার ঐতিহাসিক ব্যবস্থা তো থাকছেই।

অংশগ্রহণ ও বর্জনের পরিসংখ্যান

বর্তমানে ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৬০টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বর্তমানে স্থগিত থাকায় দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এছাড়া নিবন্ধিত অন্য আটটি দল কোনো প্রার্থী দেয়নি।

ইসির চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী— সাম্যবাদী দল (এম.এল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (বিডিবি), তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়বাদী আন্দোলন (বিএনএম) ও তরিকত ফেডারেশনের কোনো প্রার্থী নেই।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের বিতর্কিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৮টি দল অংশ নিয়েছিল এবং ৬৯টি প্রতীকে ভোট হয়েছিল। সেই তুলনায় এবার অংশগ্রহণকারী দল ও প্রতীকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।

দলের শক্তিমত্তা ও প্রার্থী বিন্যাস

বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ২৮৮ জন। জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২২৪ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখায় ২৫৩ জন, জাতীয় পার্টির (জাপা) লাঙলে ১৯২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য দলগুলোর মধ্যে— গণ অধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে ৯০ জন, সিপিবির কাস্তে প্রতীকে ৬৫ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মই প্রতীকে ৩৯ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকে ৩৪ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২ জন, খেলাফত মজলিসের দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে ২১ জন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির ঈগল প্রতীকে ৩০ জন, গণফোরামের উদীয়মান সূর্য প্রতীকে ১৯ জন, গণসংহতি আন্দোলনের মাথাল প্রতীকে ১৭ জন, এলডিপির ছাতা প্রতীকে ১২ জন এবং নাগরিক ঐক্যের কেটলি প্রতীকে ১১ জন প্রার্থী আছেন।

অন্যদিকে, আওয়মী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সব শরিক দল নির্বাচন বর্জন করছে। তবে, নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় এই জোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) ছয়জন প্রার্থী দেখা যাচ্ছে। যদিও জাসদ বলছে, তারা নির্বাচন বর্জন করেছে। 

ফিরে দেখা নির্বাচনী ইতিহাস

প্রথম সংসদ নির্বাচন

স্বাধীন বাংলাদেশে সর্বপ্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। ওই নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসন জয় পায় আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে ১১টি আসনে দলটির প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ১৪টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়। বিরোধীদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় লীগ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল একজন করে এবং স্বতন্ত্র পাঁচজন প্রার্থী বিজয়ী হন। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫.৬১ শতাংশ। এই সংসদের মেয়াদ ছিল দুই বছর ছয় মাস।

দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপির নামক রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের অধীনে ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ ২৯টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫১.২৯ শতাংশ। এতে বিএনপি ২০৭টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। বাকি ৯৩ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ (মালেক) ৩৯টি, জাতীয় লীগ দুটি, আওয়ামী লীগ (মিজান) দুটি, জাসদ আটটি, মুসলিম ও ডেমোক্রেটিক লীগ ২০টি, ন্যাপ একটি, বাংলাদেশ গণফ্রন্ট দুটি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল একটি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দল একটি এবং জাতীয় একতা পার্টি একটি আসনে জয়ী হয়। ১৬টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল তিন বছর।

তৃতীয় সংসদ নির্বাচন

১৯৮৬ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির অধীনে তৃতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিলেও প্রথমবারের মতো ভোট বর্জন করে বিএনপি। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৫৩টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। ভোটের হার ছিল ৬৬.৩১ শতাংশ। অংশ নেয় ২৮টি রাজনৈতিক দল। জাতীয় পার্টি বাদে অন্য দলগুলো পায় ১১৫টি আসন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৭৬টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) পাঁচটি, ন্যাপ (মোজাফফর) দুটি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি পাঁচটি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) তিনটি, জাসদ (রব) চারটি, জাসদ (সিরাজ) তিনটি, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ১০টি, মুসলিম লীগ চারটি এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি আসন পায়। বাকি ৩২টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল ১৭ মাস।

চতুর্থ সংসদ নির্বাচন

১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব চতুর্থ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুটি দলই বর্জন করে। নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে এরশাদের দল জাতীয় পার্টি। পরে ১৯৯০ সালে গণআন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয় এরশাদ। এ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫১.৮১ শতাংশ। জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। নির্বাচনে আটটি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। ১৯টি আসন পেয়ে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসেন সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ)। এছাড়া জাসদ (সিরাজ) তিনটি ও ফ্রিডম পার্টি দুটি আসনে জয় পায়। বাকি ২৫টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল দুই বছর সাত মাস।

পঞ্চম সংসদ নির্বাচন

এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ৭৫টি দল অংশ নেয়। এ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫.৪৫ শতাংশ। বিএনপি ১৪০টি আসনে জয় পায়। আওয়ামী লীগ ৮৮টি, জাতীয় পার্টি ৩৫টি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) পাঁচটি, জাসদ (সিরাজ) একটি, ইসলামী ঐক্যজোট একটি, জামায়াতে ইসলামী ১৮টি, সিপিবি পাঁচটি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি একটি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) একটি, গণতন্ত্রী পার্টি একটি ও ন্যাপ (মোজাফফর) একটি আসন পায়। বাকি তিনটি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। পরে বিএনপি-জামায়াতের চারদলীয় জোট ক্ষমতা যায়। আর আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকে। সংসদের মেয়াদ ছিল চার বছর আট মাস।

ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন

১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়রির অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ দুটি দল অংশ নেয়। দলীয় সরকারের অধীনে হওয়া এ নির্বাচন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ অনেকগুলো দল বর্জন করে। বিএনপি ২৭৮টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। এর মধ্যে ৪৯টি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নির্বাচনে ফ্রিডম পার্টি একটি আসন পায়। বাকি ১০ আসনে জয়লাভ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এছাড়া ১০টি আসনের ফলাফল অসমাপ্ত ছিল এবং একটি আসনের নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত করা হয়। এ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ২৬.৫৪ শতাংশ। এ সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১২ দিন।

সপ্তম সংসদ নির্বাচন

১৯৯৬ সালের ১২ জনু সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তত্ত্বাবধয়াক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ৮৮ দল নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ২৫৪৭ জন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয়লাভ করে জোটগতভাবে ক্ষমতায় আসে। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৪.৯৬ শতাংশ। ৮১ রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ১১৬টি, জাতীয় পার্টি ৩২টি, জামায়াতে ইসলামী তিনটি, ইসলামী ঐক্যজোট ও জাসদ একটি করে আসন পায়। বাকি একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করে। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

অষ্টম সংসদ নির্বাচন

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ৫৪টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। নির্বাচনে ১৯৩৯ জন প্রার্থী ছিলেন। ভোট পড়েছিল ৭৫.৫৯ শতাংশ। এ নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৬২টি, জামায়াতে ইসলামী ১৭টি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১৪টি, জাতীয় পার্টি (নাজিউর) চারটি, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) একটি, ইসলামিক ঐক্যজোট দুটি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ একটি আসন পায়। বাকি ছয়টি আসন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

নবম সংসদ নির্বাচন

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মহাজোট ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটসহ ৩৮ দল অংশ নেয়। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পদ্ধতি চালু হওয়ার পর এটি প্রথম ভোট। নির্বাচনে ১৫৭৬ জন প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৮৭.১৩ শতাংশ। আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ৩০টি, জাতীয় পার্টি ২৭টি, জাসদ তিনটি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি দুটি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) একটি, জামায়াতে ইসলামী দুটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটি আসন পায়। বাকি চারটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেন। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

দশম সংসদ নির্বাচন

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো। নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ সাতটি দল অংশ নেয়। এতে ১৫৩টি আসনে প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৩৪টি আসনে জয় পায়। অন্য দলগুলোর মধ্যে জাতীয় পার্টি ৩৪টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ছয়টি, জাসদ (ইনু) পাঁচটি, তরিকত ফেডারেশন দুটি, জাতীয় পার্টি (জেপি) দুটি, বিএনএফ একটি আসনে জয় পায়। বাকি ১৬টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৪০.০৪ শতাংশ। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

একাদশ সংসদ নির্বাচন

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় একাদশ সংসদ নির্বাচন। কাগজে–কলমে এটি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলেও ‘রাতের ভোট’ হিসেবে বেশি পরিচিত এই নির্বাচন। আওয়ামী লীগের মহাজোট ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ নিবন্ধিত ৩৯টি দল নির্বাচনে অংশ নেয়। প্রার্থী ছিল ১৮৬৫ জন। ভোট পড়েছিল ৮০.২০ শতাংশ। আওয়ামী লীগ ২৫৮টি আসন নিয়ে টানা তৃতীয়বার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে। আর ২২টি আসন নিয়ে সংসদের বিরোধী দল হয় এরশাদের জাতীয় পার্টি। বিএনপি ছয়টি, গণফোরাম দুটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তিনটি আসনে জয়ী হন। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।   
 
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন। আওয়ামী লীগসহ নিবন্ধিত ২৮টি দল এতে অংশ নেয়। বিএনপিসহ ১৬টি নিবন্ধিত দল ভোট বর্জন করে। মোট প্রার্থী ছিল ১৯৭০ জন। ভোট পড়েছিল ৪১.৮ শতাংশ। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২২টি, জাতীয় পার্টি ১১টি আসনে জয় পায়। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ ও কল্যাণ পার্টি একটি করে আসন পায়। বাকি ৬২টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করে। এটি ‘আমি’ ও ‘ডামি’ নির্বাচন নামে পরিচিত লাভ করে। সংসদ স্থায়ী হয় মাত্র ছয় মাস সাত দিন।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান। ওই দিন রাতেই রাষ্ট্রপতি সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। ৮ আগস্ট নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়