শিরোনাম
◈ রেকর্ড দল ও প্রতীক নিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ফিরে দেখা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাস ◈ আরব আমিরাতের ক্লাবে নাম লেখালেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফুটবলার জায়ান ◈ চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক অন্য কোনো শক্তিতে প্রভাবিত হবে না: চীনা দূতাবাস ◈ বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, রণক্ষেত্র জয়পুরহাট (ভিডিও) ◈ নির্বাচনে অনিয়ম বিতর্ক ও অভিযোগ আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হবে: সিইসি ◈ ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানকে সমর্থন, সরে দাঁড়ালেন ৫ প্রার্থী ◈ নির্বাচনে যেসব ইস্যু গুরুত্ব পাচ্ছে ◈ ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাস উল্টে প্রাণ গেল দু'জনের, আহত ২০ ◈ হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশ কি তারেক রহমানকেই খুঁজছে? ◈ জামায়াতের আমিরের সাথে কেনো সবাই দেখা করতে চায়: আল জাজিরা পর্যবেক্ষণ

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৭:৩৩ বিকাল
আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:১৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নোয়াখালীতে সাংবাদিক পরিচয়ে ‘পর্যবেক্ষক’ কার্ডের ছড়াছড়ি, প্রভাব বিস্তারের শঙ্কা 

নোয়াখালী প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় এক অভিনব ও উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। সাংবাদিকতার সঙ্গে দূরতম সম্পর্ক নেই- এমন ব্যক্তিদের হাতেও এখন সাংবাদিক পরিচয়ে ‘পর্যবেক্ষক’ কার্ড দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটকেন্দ্র দখল ও নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যেই প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব ভুয়া কার্ড সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে সাধারণ ভোটার ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় যারা আগে রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাদের কেউ কেউ এখন রাতারাতি ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ে সক্রিয় হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অনলাইন পোর্টাল বা অনিবন্ধিত সামাজিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে তারা কৌশলে নির্বাচন কমিশন থেকে পর্যবেক্ষক কার্ড সংগ্রহ করেছেন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সাংবাদিকতার ‘ঢাল’ ব্যবহার করে ভোটের দিন কেন্দ্রের ভেতরে নির্বিঘ্ন প্রবেশ এবং প্রভাব খাটানোই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

মঙ্গলবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে- সকাল টিভির প্রতিনিধি পরিচয় দেওয়া মাসুদের রহমানের সাংবাদিক পর্যবেক্ষক কার্ড। পরে ওই চ্যানেলের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা হয় মাসুদের রহমান একজন ভুয়া সাংবাদিক। কাগজপত্র নকল করে তিনি সাংবাদিক পর্যবেক্ষক কার্ড হাতিয়ে নিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- মাসুদের রহমান জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলায় একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে রয়েছেন। একই চিত্র জেলা শহরেও। সাংবাদিক নন, এমন একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তি হাতিয়ে নিয়েছেন সাংবাদিক পর্যবেক্ষক কার্ড। আবার পিছিয়ে নেই বাসের টিকিট বিক্রেতা, পত্রিকার হকার ও পিয়নরাও। পেসবুক পেইজ খুলেও নেওয়া হয়েছে সাংবাদিক পর্যবেক্ষক কার্ড। আবার একাধিক পেশাদার সাংবাদিককে নির্বাচন পর্যবেক্ষকের কার্ড ও গাড়ির স্টীকার প্রদানে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা রয়েছে- সাংবাদিকরা প্রশাসনের বিশেষ সম্মান ও অগ্রাধিকার পান। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভুয়া কার্ডধারীরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালট পেপার ছিনতাই, জোরপূর্বক প্রভাব বিস্তার বা ভোটারদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে- এমন আশঙ্কা করছেন তারা।

সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিক পরিচয়পত্র থাকলে তল্লাশিতে কিছুটা শিথিলতা মেলে। আর এই সুযোগটিকেই হাতিয়ার করতে চাইছে অসাধু চক্র।

নোয়াখালীর কয়েকটি আসনে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ভুয়া সাংবাদিকদের অনুপ্রবেশ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সময় থাকতে এসব কার্ডের কঠোর যাচাই-বাছাই না হলে ভোটের দিন পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,পর্যবেক্ষক কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে আমরা তথ্য যাচাই করছি। তবে কিছু ক্ষেত্রে ফাঁকফোকর থেকে যেতে পারে। কোনো অপেশাদার ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিটি কার্ডের কিউআর কোড ও বৈধতা যাচাইয়ে বিশেষ তৎপর থাকবে। সন্দেহভাজন ব্যক্তির কার্ড বাতিলের পাশাপাশি তাৎক্ষণিক আটক করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে ভুয়া সাংবাদিকদের এই দৌড়ঝাঁপ বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, প্রকৃত সাংবাদিক ও বৈধ পর্যবেক্ষকদের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়