ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি: আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট সম্পন্ন করতে প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে বিভাগীয় প্রশাসন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, নির্বাচন ও গণভোট একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
রাজশাহী বিভাগে রয়েছে ৮টি জেলা, ৬৭টি উপজেলা, ১টি সিটি কর্পোরেশন, ৬২টি পৌরসভা ও ৫৬৫টি ইউনিয়ন। প্রায় ১৮ হাজার ১৫৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ মানুষের বসবাস। চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ৫ হাজার ২৮৭টি; এর মধ্যে ১ হাজার ৭৬৭টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বিভাগে ২১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ১০ হাজার, বিজিবি ৪ হাজার ১২৩, রেঞ্জ পুলিশ ১৩ হাজার ৭৯৬, আরএমপি ২ হাজার ৪০৫, র্যাব ১ হাজার ৬ এবং আনসার ৭২ হাজার ৭৩৬ জন। প্রতি আসনে গড়ে ২ হাজার ৬৬৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ৫ হাজার ২৬৬টি কেন্দ্রে সিসিটিভি এবং ২ হাজার ৩১৮টি বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জোরদার অভিযান চালানো হয়েছে। গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৫৬টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ ৭৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪৩৩টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। একই সময়ে বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে ৪ হাজার ৫৯৪টি। নির্বাচনকালীন গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ে কোর কমিটি সক্রিয় রয়েছে এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জয়েন্ট অপারেশন সেল চালু হয়েছে, যা ভোট-পরবর্তী সময় পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পাশাপাশি মিডিয়া সেল থেকে নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, সকলের সহযোগিতায় রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।