প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শোয়েব সর্বনাম: নারীকে পারিশ্রমিক ও স্বীকৃতিটা দেবে কে?

শোয়েব সর্বনাম: বাংলাদেশের নারীবাদীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে শ্রদ্ধেয় ইমতিয়াজ মাহমুদ (আইনজীবী) একটা পোস্ট লিখছেন। নারীবাদীরা যেন দমে না যান, সে লক্ষ্যে তার এ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই। বিষয়টা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো, কারণ ওই পোস্টে আমাকে গালাগালি ও ব্যক্তি আক্রমণ করা হয়েছে। তিনি আমাকে মেল শভিনিস্ট পিগ বলেছেন। আমি গুগল করে করে বের করে ফেলেছি, এই শব্দবন্ধের অর্থ হবে, যে পুরুষ নিজেকে নারীর অপেক্ষা সুপিরিয়র মনে করেন। এটাকে আমি গালি হিসেবে নিচ্ছি। ইমতিয়াজ ভাই আমাকে সোশ্যালি ‘বেশ পরিচিত’ লেখক সাংবাদিক চলচ্চিত্রকর্মী বলে দাবি করেছেন। এই তথ্য ভুল। আমি এমনকি ইমতিয়াজ ভাইজানের কাছেও নিজের লেখালেখির সঙ্গে পরিচয় ঘটাতে পারিনি। ফলে তিনি আমাকে ভুল গালি দিয়ে বসেছেন। আমার লেখাপত্রের সঙ্গে মিনিমাম পরিচিত থাকলে তিনি অন্তত এটুকু বুঝতে পারতেন, নারী কেন, আমি নিজেকে জগতের কীটপতঙ্গের চেয়েও সুপিরিয়র মনে করি না। তবে ইনফেরিয়রও নই। আমি নারীদের শুধু ভালোবাসাবাসির উপলক্ষ বলে মনে করি, তারা কী গ্রহণে সক্ষম? বাট আমি কনফিউজ হয়েছি এখানে যে ইমতিয়াজ মাহমুদ আমাকে ভাইজান বলে সম্বোধন করেও ভাশুরের মতো আচরণ করেছেন। আমার পোস্টের সমালোচনা করলেও তিনি কোথাও আমার নাম নেননি। তার বিরাট পোস্টের রিপ্লাই দেওয়ার জন্য আমার নারীবাদ বিষয়ে বোঝাপড়া নিয়ে নিবন্ধ রচনা করতে হবে। তবে তিনি সম্ভবত লক্ষ্য করতে ব্যর্থ হয়েছেন, নারীবাদ বা নারীবাদীদের বিরুদ্ধে আমার কোনো কথা নেই।

আমার সকল বিষোদগার ‘বাংলাদেশের নারীবাদী’দের বিপক্ষে, যারা মুরুক্ষ, এই অর্থে, নারীবাদ জিনিসটা তারা বোঝেন না। ফলে পশ্চিমা পুঁজিবাদী নারীবাদ আমদানির যে আপ্রাণ চেষ্টা তাদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়, আমি প্রতিনিয়ত তাদের সেসকল কর্মকাÐ প্রশ্নবিদ্ধ করে থাকি। তো আমার ভাই ইমতিয়াজ মাহমুদকেও তাদের দলের লোক বলে সন্দেহ হচ্ছে। ফলে তাকেও কিছু প্রশ্ন করার দরকার আছে। নারীকে তিনি দাবি করেছেন ‘বিনা পারিশ্রমিকে বিনা স্বীকৃতিতে উদয়স্ত অন্যের জন্য খেটে যাওয়া’ প্রাণি হিসেবে। আমি বিনয়ের সঙ্গে জানতে চাই, নারীকে পারিশ্রমিক ও স্বীকৃতিটা দেবে কে? আপনি? কীভাবে? যেভাবে পোস্ট লিখে নারীবাদীদের দমে যাওয়া ঠেকাচ্ছেন সেভাবে? ফাইন আপনার স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপকেও সাধুবাদ জানাই। পাশে আছি, লাগলে বলবেন আমিও দেবোনে। আমি আরো জানতে চাই, খনাকে যে হত্যা করা হয়, সেটাকে আপনি পিতৃতান্ত্রিক প্রতিহিংসা হিসেবে দাবি করেছেন কোন লজিকে? এ দেশে সম্রাটরা তাদের আপন ভাইকে খুন করেন, পিতা পুত্রকে খুন করছেন, সেগুলো কী ছিলো তাহলে? ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াইয়ে খনার শ্বশুর তার প্রতিপক্ষকে খুন করেছেন, কোনো অবলা নারীকে নয়, এটুকু মর্যাদা কী খনাকে আজো দেওয়া যাবে না?

সিগারেট খাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার কথা বলেছেন, আমি আবারো দুঃখিত, আমার লেখাপত্র আপনার কাছে পৌঁছায়নি বলে। আমার লেখা রেফারেন্সসহ বিস্তারিত প্রবন্ধ প্রকাশিত আছে, এই দেশে সিগারেট নারীদের নেশা হিসেবেই সবসময় পপুলার ছিলো। আশির দশকের ফিল্ম সূর্যদীঘল বাড়ি সিনেমাতেও তার ডকুমেন্টেশন দেখা যাবে। বিজ্ঞাপনি সংস্থাগুলা প্রচুর পয়সা খরচ করে ‘যারা সিগারেট খায় তারাই আসল পুরুষ’ মার্কা বিজ্ঞাপন করে করে সিগারেট এ দেশের পুরুষদের কাছে জনপ্রিয় করছেন। অতএব, জানবেন সিগারেট নিয়ে নারীদের দিকে আঙুল তোলা আমার কম্ম নয়। এর বাইরে আপনার পোস্টে ফোকাস করার মতো আর কোনো টপিক নেই, তবে প্রচুর গালাগালি আছে, সেগুলাতে আমার আপত্তি নেই। যাদের অনেক ক্ষোভ, আমাকে গালাগালি করার জন্য আমি মাঝে মধ্যেই পোস্ট দিয়ে তাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকি, একটু পরে একটা দেবোনে, সেখানে আপনি আমন্ত্রিত, মন না ভরলে আরেকটু গালি দেবেন। দেন আই নিড টু ডেসক্রাইব হেয়ার, জগতে যেকোনো নারীর ওপর ঘটে যাওয়া যেকোনো ক্রাইমকে নারীকে দাবিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে পুরুষতান্ত্রিক ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার আমি ঘোর বিরোধী। রেফ জাতীয় ঘটনাকে আমি কোনো পুরুষতান্ত্রিক ঘটনা বলে মনে করি না। এটা একটা অতিনিকৃষ্ট পর্যায়ের ক্রাইম বলে মনে করি, যা কমবয়সী পুরুষের সঙ্গেও ঘটে থাকে মাদ্রাসা ও চার্চে।

খনার হত্যাকাকে নারীর বিরুদ্ধে নয়, ক্ষমতা দখলের লড়াই হিসেবে দেখি। পৃথিবীতে সামগ্রিকভাবে নারীর বিরুদ্ধে একমাত্র পুরুষতান্ত্রিক ঘটনা হিসেবে দেখি শুধু প্রোপার্টি বিষয়ক কর্মকা। প্রোপার্টির মালিক পুরুষেরা যেহেতু নিশ্চিত হতে পারতো না তার পার্টনার নারীটির গর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানটি আসলেই তার ঔরসজাত কিনা, ফলে সে নারীর পায়ে শিকল পরানোর উদ্যোগ নেয়, যা প্রাচীনকাল থেকে আজকে পর্যন্ত একই ধারাবাহিকতায় চলে আসছে। ফলে নারীর অধিকার বলতে আমি বুঝি একমাত্র তার সম্পত্তির অধিকার, যে বিষয়ে বাংলাদেশের নারীবাদীদের কোনো যৌথ বিবৃতি, সামাজিক পদক্ষেপ কিংবা লিগ্যাল ইস্যুজ সারাবছর খুঁজলেও একটা পাবেন না। আপনি পাবেন তাদের বিড়ি খাওয়া এন্ড ভলেস আর জিন্স পরার অধিকার বিষয়ক আন্দোলন গড়ে তুলতে, সেসঙ্গে কে কোন নারীকে কী বলছে এসব বিষয়ক গালাগালি, বডিশেমিং, মিটু জাতীয় ইনটেনশনাল অযৌক্তিক অযথা আক্রমণ। এসব ফালতু ইস্যুর পক্ষে আন্দোলনের স্বার্থে তারা যেন দমে না যায় সেই সাপোর্ট দিতে আপনার মতো আরো অনেক ভাইয়েরা আমার প্রস্তুত অবস্থায় আছেন, তাদের আবারো সাধুবাদ জানিয়ে রাখলাম। ওই সম্পত্তির অধিকার আদায়ের পক্ষে না নামা পর্যন্ত বাংলাদেশের নারীবাদীদের হামবড়া ধুরন্ধরপনাকে আজীবন প্রশ্ন করে যাবো, তাতে আপনারা যতো গালিই দেন আপত্তি নেই। আমিন। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত