শিরোনাম
◈ ফের রণক্ষেত্র শাহবাগ, পুলিশের লাঠিচার্জে ছত্রভঙ্গ আন্দোলনকারীরা ◈ মালয়েশিয়া ছাড়ছে অবৈধ অভিবাসীরা, শীর্ষে বাংলাদেশিরা ◈ বাংলা‌দেশবী‌হিন বিশ্বকাপের পর্দা উঠ‌ছে শ‌নিবার, জমকা‌লো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা থাকছে ◈ কর্মস্থলে ডে-কেয়ার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি বিএনপির ◈ যমুনার সামনে সংঘর্ষের সময় ‘গুলি ছোড়া হয়নি’, দাবি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের ◈ উন্নত দেশের সঙ্গে প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক চুক্তিতে বাংলাদেশ ◈ জুলাই সনদ জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: তারেক রহমান ◈ ‘উই হ্যাভ আ প্ল্যান’ যে কারণে বলেছিলেন তারেক রহমান ◈ ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা: নয় দফা প্রতিশ্রুতি, পাঁচ ভাগে পরিকল্পনা ◈ ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, জাবের-জুমা-আম্মারসহ আহত অনেকে

প্রকাশিত : ০৬ অক্টোবর, ২০২১, ০১:৩৩ রাত
আপডেট : ০৬ অক্টোবর, ২০২১, ০১:৩৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: বাংলাদেশই প্রাথমিকের শিক্ষকেরা রাষ্ট্রের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী!

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: বিশ্ব শিক্ষক দিবস ছিলো ৫ অক্টোবর। বাংলাদেশের সকল পর্যায়ের সকল শিক্ষকদের শুভেচ্ছা। বাংলাদেশই হলো একমাত্র দেশ যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা হলো রাষ্ট্রের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। যেখানে রাষ্ট্রের কোনো বেতনভোগ চাকরিজীবীকে তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণির বলাটাইতো একটা অপমান। কাউকেই তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণিতে ভাগ করাই হলো অসভ্যতা। আর সেখানে ছোট ছোট শিশু যারা আগামীদিনের বাংলাদেশকে গড়বে তাদের শিক্ষক হলো রাষ্ট্রের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। আবার বলে শিক্ষাই নাকি জাতির মেরুদণ্ড। যারা মেরুদণ্ড তৈরি করবে সেই কারিগরদের এমনভাবে অপমান করে আপনি কীভাবে একটি সভ্য জাতি গঠন করবেন? আবার অন্য এক্সট্রিমে তাকালে দেখুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হতে হলে একজনকে নিজ যোগ্যতায় স্কলারশিপ নিয়ে পিএইচডি করতে হয়। ক্ষেত্র বিশেষে অনেকের পোস্ট-ডক থাকে।

অনেকের আবার একাধিক পোস্ট-ডক অভিজ্ঞতা থাকে। তার বেতনাদি ও অন্যান্য সুবিধা যদি কেবল মাস্টার্স পাস সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে কম হয়, রাষ্ট্রের ওয়ারেন্ট অফ প্রিসিডেন্সে অনেক নিচে হয় সেই দেশে ভালো মানের অধ্যাপক এবং গবেষক কীভাবে পাবেন? বাংলাদেশেই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের বেতন ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। কতো বড় বৈষম্য বুঝতে পারছেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তারপরেও পাবলিকে পড়ে আছে। ভারতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলের প্রতিষ্ঠানের একজন অধ্যাপকের বেতন হলো ২.৫ লাখ টাকা। ভারতের লিভিং এক্সপেন্স বাংলাদেশ থেকে কম। গাড়ির দাম অনেক কম, গাড়ির তেলের দাম কম।

আর বাংলাদেশে বড়জোর ১ লাখ টাকা বা একটু কমবেশি। এই হলো শিক্ষা ও গবেষণার মূল্যায়ন। আবার প্রশ্ন করেন শিক্ষকরা কেন পার্টটাইম অন্যত্র পড়ায়? শিক্ষকরাতো পাজেরো চালায় না! ঢাকা শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পার্টটাইম পড়ানো কী খুব আনন্দের? শিক্ষকরা কী আনন্দে খুশিতে পার্টটাইম পড়ান। একই কথা খাটে স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে। কেউ কী আনন্দে আর খুশিতে প্রাইভেট আর কোচিংয়ে পড়ায়? এসব বিশদভাবে ভেবে এর উৎসমূলে সমাধান না করলে এসব চলবেই। যতোদিন এসব চলবে ততোদিন গবেষণা, শিক্ষকতা কোনোটিই সঠিকভাবে চলবে না। লেখক : শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়