প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শেখ মুন: পুরুষতন্ত্রের ভিক্টিম কেবল নারীই নয়, খোদ পুরুষ নিজে

শেখ মুন: সমাজতন্ত্র কায়েমের সঙ্গে নারীর অধিকার আপনা আপনি প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমরা আগে যারা স্বপ্ন দেখেছি, বাস্তবে দেখেছি সেটি হয়নি। সমগ্র সোভিয়েত ইউনিউনের ৫০ বছরের ইতিহাস সেটি বলেনি। দাসপ্রথা বিলুপ্ত হলেই নারীর দাসত্ব ঘুচেনি। কারণ নারীর দাসত্ব প্রথম তার ঘরে, পরে বৃহৎ পরিবার, পরে ধর্ম, পরে সামাজ, তারপরে আইন এবং রাষ্ট্র। এতোগুলো ইস্ট্যান্স পার হয়েই নারীকে মুক্ত হতে হয়। সেটা কি আজও সমগ্র মানব সমাজের জন্য সম্ভব হয়েছে? আর নারীর যুদ্ধেতো নারী একা এমন কি নারী নারীকেই পায়নি তার যুদ্ধে। আরোপিত রাষ্ট্রীয় দাসত্ব পুরুষের ক্ষেত্রেও সমান প্রযোজ্য। আর তার জন্য আজও শ্রমিক তার ন্যায্যমূল্য পায় না। কৃষক তার ফসলের ন্যায্য দাম পায় না। কিন্তু ঘরে এসে সে পুরুষ দাসটিরও আছে একজন দাস, সে তার অধীনস্থ নারী। কল্পনায় ধরে নেই পুরুষ এবং নারীকে রাষ্ট্রধর্ম আইন সমাজ মুক্তি দিয়েছে কিন্তু ঘরে এসে পুরুষ এসে পুরুষটি এই সংস্থার সকল এলিমেন্টস বহন করে নিজেই প্লে করছে প্রভুর রোল, নারীর সঙ্গে। অর্থাৎ সকল সংস্থা থেকে নারী মুক্ত হলেও পুরুষের কাছে তার দাসত্ব বহমান। আর এজন্যই নারীর সাপ্রেশন মাল্টিপল। তার বিধাতা এক নয় বহু। আর এর পেছনের কারণটি হাজার বছরের ‘পুরুষতন্ত্র’। পুরুষতন্ত্রের ভিক্টিম কেবল নারী নয়, খোদ পুরুষ নিজে।

যে মানসিকতার শিকার হয়ে সে পুরুষ, সে তার একার সৃষ্টি নয়। একদিনেও নয়। এ সৃষ্টি অনেককাল ধরে। একটি সিস্টেমে জন্ম নিয়ে হাজার জেনারেশন নি:শেষ হয়েছে, জেনারেশনের আবির্ভাব ঘটেছে। সেখানে জন্ম নিয়ে সে সিস্টেম আলাদাভাবে দেখতে পারা মুখের কথা নয়। এর সৃষ্টির কারণগুলো নির্ণয় করতে পারলে কাজগুলো অন্তত সহজ হয়, চিন্তাগুলো প্ল্যাটফর্ম পায়। আর তার জন্য অনেক গভীরে যাওয়া দরকার। মানুষ প্রাণী হিসেবে এমনিতেই খুব কমপ্লেক্স একটি প্রাণীকূল। কোনো নির্দিষ্ট একটি বিষয় কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের কারণ নয়। বহুবিধ কারণ। পৃথিবী নামের প্ল্যানেটে মানবকুল একটি হোমজেন গ্রুপ হলে তো কথাই ছিল না। এখানে মেধার বিভাজন আছে, সম্পদের বিভাজন আছে, যোগাযোগের বিভাজন আছে। আর এই যোগাযোগের বিভাজনের কারনেই পৃথিবীর এক কোণের সঙ্গে আরেক কোণের জীবন যাপন ধরণ ধারণে অনেক পার্থক্য অলরেডি হয়ে আছে সহস্র বছর ধরে। সেগুলো এতো যেঁতে থাকা তার ভেতর তরঙ্গ সৃষ্টি এক অসাধ্য অধ্যায়। সেগুলো অনেক বেশি শক্ত হয়ে গেঁথে রয়েছে। যা কখনও ধর্মের দ্বারা পরিচালিত কখনও সামাজিক প্রথা আবার কখনও উপনিবেশবাদের কারণে সৃষ্ট। শৃঙ্খল সৃষ্টি যে কারণে তার বিপরীতে শৃঙ্খল ভাঙা পুরুষের জন্যই সহজ হয়নি আজও। আর নারী থেকে গেছে শৃঙ্খলের অধীনস্থেরও অধীনস্থ। মুক্তি প্রার্থীর শেষ কাতারের শেষ কাতারেও নারীর জায়গা মেলেনি। কৃষির বিকাশে নারীর মুক্তি আসেনি। শিল্পের বিকাশে নারীর মুক্তি আসেনি। সমাজতন্ত্রের তাত্ত্বিক এবং প্রয়োগের ইশতেহারের সঙ্গে সমাজতন্ত্র বিকাশে নারীর অবস্থানে থেকে গেছে বিশাল পার্থক্য। একটি জাতি মনস্তাত্ত্বিকভাবে যতো উন্নত ততো উন্নত সে জাতি। আর তার পেছনে অনেক সহস্র ফ্যাক্টর কাজ করে। মানুষকে অর্জনের সুযোগ দিতে হয়। মনস্তাত্ত্বিকভাবে মানুষ কয়েকটি বিষয় কোনোদিন মেনে নেয় না। চাপিয়ে দেওয়া কোনোকিছু কোনোদিন মানুষ মেনে নেয় না।

মানুষকে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে দান করেও তার চাহিদা মেটানো যায় না। একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে হলে সে সমাজের মিনিমাম স্ট্যাডান্ডারড অফ লাইফ নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের সেটি নিশ্চিত হওয়ার পরও বহু বছর পর সে বুঝতে সক্ষম হয় ‘কোয়ালিটি অফ লাইফ’। যখন সেটি ঘটে সে মাহেন্দ্রক্ষণেই তার ঘটে নিজের সঙ্গে কন্ট্যাক্ট। আত্মপরিচয়। পরিচয় ঘটে তার ডিগনিটির সঙ্গে। এটি অবশ্যই সর্বচ্চ জীবন কোয়ালিটি। এটি এমনি ঘটেনা। কালেক্টিভ বৈষম্যহীন পরিমার্জিত প্রাপ্তির ভিত্তিতে সে বোঝে, যা আমার নয় তাকে দখল করে থাকা একটি বর্বরতা। লজ্জার। এ পৃথিবীর কিছুই নির্ধারিত নয়, সবটাই অর্জন করার। এখানে সার্ভ করার কেউ নেই। প্রতিটি মুভমেন্ট তার কর্মসঞ্চালনার প্রেক্ষিতেই ঘটবে। নতুবা নয়। সে ‘স্টেট অব মাইন্ডে’’ পৌছুতে যে সমাজ গড়া দরকার সে সমাজ থেকে এখনও পৃথিবীর বৃহদাংশ বঞ্চিত। এক অলীক না দেখা তালা বদ্ধ ভুবন। ইউটপিয়া। উন্নত জীবনবোধও যে শ্রেণি ইস্যু। সামর্থ্যের বিষয়। ইনডিড। লক্ষ্যে পৌছুতে দূরত্ব অনেক। তবে যাত্রা পথে শক্ত হাতে সাঁড়াশি দিয়ে কিছু হিস্যা আদায় করে নিতে হয় বৈকি। আর সে বিষয়ে কথা বললেই না এতো শোরগোল? ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত