প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: দলের কেউ কী আছে যে, নেতৃত্ব সংকটে বিএনপির পাশে দাঁড়াবে?

দীপক চৌধুরী: চার দশক পার করা দলটি কার্যত এখন সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। খুবই কঠিন সময় অতিক্রম করছে। না আছে দলীয় কর্মী, না আছে সুসংগঠক। অনেকে আফসোস্ করেন, আহারে কী যেন হলো দলটির? সেই রঙিন দিনগুলো মরে গেলো। কী দিন ছিল?

গৃহবন্দি অসুস্থ নেত্রী খালেদা জিয়া সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে আছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রবাসে, লন্ডনে। এ অবস্থায় শক্ত রাজনৈতিক ভিত্তি ফিরে পাওয়ার পথ খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। কঠিন এ মুহূর্তে ভালো রাজনীতিবিদ দরকার। চলমান অবস্থা বা বিদ্যমান অবস্থার জন্য অনেকে ‘বিরোধী দলকে দমনের’ জন্য সরকারের কৌশলকেও দায়ী করছেন। কিন্তু বাস্তবতা কী বলছে? ভয়ংকর অবস্থা তো বিএনপি নিজেই তৈরি করেছে। মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। মানুষ পেট্রোলবোমার মুখে জীবন দিতে চায় না। একের পর এক নৃশংসতা চায় না। এক ভয়ংকর অবস্থা বিরাজ করেছে অতীতে। শোনা যায়, সক্রিয় রাজনীতিতে দলের শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে জড়তা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো ও সাংগঠনিক দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা।

কিছু কিছু মানুষ আছেন যে, দলের ওপর সব দায় চাপাতে নারাজ। তারা বিশ^বিদ্যালয়ে, চিকিৎসালয়ে, রাজনীতিতে আছেন। রাজনীতি খুবই কঠিন ‘বস্তু’। জিয়ার পথে জেনারেল এরশাদ এসেছেন। মানুষ বাংলাদেশের রাজনীতি দেখে এসেছে। এরশাদের স্বৈরাচারী কৌশল দেখেছে। কী ভয়াবহ অবস্থা ছিল। প্রতি মুহূর্তে মৃত্যু। রক্তাক্ত ইতিহাস। এখন কী রকম শান্ত পরিবেশ। বাঙালি শান্তি চায়। বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে মানুষ শান্তি দেখলো।

ক্ষমতা দখলে নেওয়া রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ১৯ দফা কর্মসূচি নিয়ে একটি ‘আত্মনির্ভরশীল’ বাংলাদেশ গঠনের জন্য দলটি প্রতিষ্ঠা করার নামে সীমাহীন দুর্বৃত্তায়ন করেছিলেন। এরপর আমরা কী দেখলাম? দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে কী রকম জঘন্য মিথ্যাচার। তিন বার তার বিধবা স্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। এ সময়ের মধ্যে দলটি দুবার বিরোধী দলে ছিল। কিন্তু প্রতিটিবারই কীভাবে ক্ষমতা দখলে রাখতে হবে সেই চিন্তা করেছেন খালেদা জিয়া। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ঢাকার একটি বিশেষ আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন। ওই রায়ে আদালত তাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। করোনা সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটি ঘোষণার আগে গত বছরের ২৫ মার্চ খালেদা জিয়া ছয় মাসের জন্য কারা হেফাজত থেকে মুক্তি পান।

খালেদা জিয়ার শাস্তিদণ্ড ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে সরকার মানবিকতা ও বয়স বিবেচনায় তাকে দুটি শর্তে মুক্তি দেয়। শর্ত দুটি হচ্ছে- তিনি দেশ ছাড়তে পারবেন না এবং তাকে বাড়িতে চিকিৎসা নিতে হবে। আমরা জানি, ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান দল কীভাবে চলা উচিত, সে ব্যাপারে নেতাদের নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কোনোভাবেই দলকে বিদ্যমান নাজুক অবস্থা থেকে বের করে আনতে পারা অসম্ভব।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

সর্বশেষ