শিরোনাম
◈ কর ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারে ৫৫ সুপারিশ, প্রতিবেদন গ্রহণ করলেন প্রধান উপদেষ্টা ◈ খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে একমাত্র বিএনপিই কাজ করে: তারেক রহমান ◈ নিরবতা ভাঙলো আইসিসি, বিশ্বকা‌পের জন‌্য অ্যাক্রেডিটেশন পাচ্ছে বাংলাদেশি সাংবাদিকরা ◈ টেকনাফে পাহাড় থেকে ৬ কৃষককে অপহরণ ◈ বেনাপোল বন্দরে ৩ মাস পর ৫১০ টন চাল আমদানি ◈ ৯০ দিন গাম্বিয়া ভ্রমণ করতে পারবেন ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশি নাগরিকরা ◈ তারেক রহমানের গাড়ি থামিয়ে কী বললেন তরুণী (ভিডিও) ◈ অতিরিক্ত সচিব পদে ১১৮ কর্মকর্তার পদোন্নতি ◈ জাতীয় দলে সাকিবের ফেরার গুঞ্জন: বিসিবির সঙ্গে আলোচনা শুরু ◈ নির্বাচনে পুলিশ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার প্রমাণ দেবে: আইজিপি বাহরুল আলম

প্রকাশিত : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ০৬:৩৯ বিকাল
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ০৬:৩৯ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শ্রীমঙ্গলের কলেজ ছাত্রী নিঝুম লকডাউনের সময়কে কাজে লাগিয়ে আয় করেছেন ৫০ হাজার টাকা

স্বপন দেব: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লকডাউনের অলস সময়ে নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে কলেজ ছাত্রী নিঝুম তৈরী করেছেন পাঁচশ’ বেশি ফ্যাশনে বল অলংকার, পার্স ব্যগ, চাবিররিং ও কলম দানীসহ বিভিন্ন দৃষ্টি নন্দন সামগ্রী। তার হাতের এ কারু কাজ এলাকায় ব্যাপক সারা জাগিয়েছে। দৃষ্টি করেছে প্রবাসীদের ।

‘গয়নার বাক্স’ নামে একটি ফেইসবুক পেইজ দিয়ে ইতি মধ্যে আয় ও করেছেন অর্ধ লক্ষ টাকা।

নিঝুম চক্রবর্তী জানান, ২০২০ সালের মার্চ থেকে করোনার করাল আঘাতে বন্ধ হয়ে যায় স্কুল কলেজ। বন্ধ হয় তার এইচ এস সি পরীক্ষাও। এদিকে সরকারী ঘোষনা বাড়িতেই থাকতে হবে। এক বিষন্নতায় পায় তাকে।

এসময় তিনি শুরু করেন আনকমন ফ্যাশনে বল অলংকার তৈরীর কাজ। এ কাজ করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এ উৎসাহেই তিনি একের পর এক আইটেম তৈরী করছেন। তবে প্রচুর কাজ করতে গিয়ে তার যে কাঁচামাল প্রয়োজন হয় তা সংগ্রহে তার বাবা তাকে সহায়তা করেন। তিনি জানান, এ কাজ করে সে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার উপরে আয় করেছেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে কানাডা, আমেরিকা, কুয়েত, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশ ক্রেতাদের কাছে কুরিয়ার করে পাঠিয়েছেন।

শ্রীমঙ্গল সবুজবাগ এলাকার ব্যাংকার পুলক রঞ্জন চক্রবর্তী জানান, নিঝুম তার কাজে এতো বৈচিত্রতা এনেছেন যা দ্রুত সৌখিন মানুষের দৃষ্টি কারে। তিনি জানান, তার মেয়ের এক বান্ধবির মাধ্যমে নিঝুমের এই হাতের কাজের খবর পান। সোমবার সকালে তিনিসহ তারা ২/৩জন বন্ধু নিঝুমের কাজ দেখতে এসে অনেকটা আশ্চর্য হয়েছেন। এতো সুন্দর কাজ যা নিজ চোখে না দেখলে বিশ^াসই করতেন না। একই কথা জানান, তার সাথে আসা মুদ্রণ ব্যবসায়ী বিজন আচার্য ও চা ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বুলবুল।

দেখা যায়, সৌখিন এ হ্যান্ডি কাপ্ট শিল্পি গত দেড় বছরে পাটের সুতা, কাঠ, পাটের কাপর, এন্টিক মেটাল, পলিমার ক্লে, রেসিন ও পুঁতি দিয়ে তৈরী করে যাচ্ছেন একের পর এক অলংকার ও সামগ্রী। অনেকে পোষাকের সাথে (মেচিং) সামঞ্জস্য করে ডিজাইন বলে দিলে সে রং-এ ও ডিজাইনে ও তিনি তৈরী করে দিচ্ছেন অলংকার। এখন তিনি তৈরী করছেন পূজা কালেকশন।
নিঝুমের মা আলপনা ভট্টাচায্যর্ জানান,করোনার এই সময়ে সারাদিনই নিজের ঘরে থাকেন নিঝুম। প্রথম দিকে একটা দুইটা আইটেম করার পর আশে পাশের অনেকে তাকে আরো কিছু তৈরী করে দেয়ার জন্য বলেন।

প্রথমে নিজের আত্মীয় স্বজনকে তার তৈরী অর্নামেন্ট ফ্রিতে দিয়েছেন। অনেকে এটি ফেইসবুকে পোষ্ট করেন। তখন বেশ কয়েকজন প্রবাসী তার খোঁজ করে আরো কিছু অর্নামেন্টের অর্ডার করেন। সে এ গুলো তৈরী করে দেয়। এতে সে ব্যাপক উৎসাহিত হয়। এক সময় সে এই কাজেই মনোনিবেশ করে। তিনি জানান,অর্নামেন্টের কাজ করে করে যখন ক্লান্তি আসে তখন সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েন। আবার কখন ও কখন ও গিটারে সুর তোলেন

নিঝুমের এই সৃষ্টিশীল কাজে খুশি তার বাবা। নিঝুমের বাবা শ্রীমঙ্গল দ্বারিকাপাল মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক রজত শুভ্র চক্রবর্তী জানান, তার মেয়ে ঘরে সেই এন্টি মেটালের গয়না, জুটের গয়না, কাঠের গয়না, পলিমার ক্লে এরমূর্তি গয়না,পুতির গয়না, ব্যাগ, কলমদানী, চাবিররিং ও গয়নার বাক্স তৈরী করছে। যা “গয়নার বাক্স”নামে একটি ফেইসবুক প্রেইজে আপ করে অনেক সারা পেয়েছে।

এ ব্যাপারে কাতার প্রবাসী সুব্রত চক্রবর্তী জানান, কাতার থেকে ফেইসবুকে তিনি নিঝুমের তৈরী ছবি দেখেছেন। সেখান থেকে যোগাযোগ করে তিনি ও তার ভারতীয় কিছু সহকর্মী বেশ কিছ ুঅর্নামেন্টন ঝুমের কাছ থকে সংগ্রহকরেছেন।
নিঝুমের এই সৃষ্টিশীল কর্ম নতুন প্রজন্মের আরো অনেককেই উৎসাহিত করবে এমনটাই আশা এলাকাবাসীর।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়