প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আজ অমর ‘কথা শিল্পী’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর জন্মদিন

নিপু সাইদ নুরুলহুদা: ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে শরৎচন্দ্র জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মতিলাল চট্টোপাধ্যায় ও মাতার নাম ভুবনমোহিনী দেবী। তাঁর ডাক নাম ছিল ‘নেড়া’। ১৮৯৪ খৃষ্টাব্দে হুগলী ব্রাঞ্চ স্কুল ছেড়ে তিনি তাঁর মামার বাড়ি ভাগলপুর চলে যান এবং সেখান হতে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগে পাশ করেন। এরপর পড়াশোনায় ইস্তফা দিযে সাহিত্য চর্চা, সঙ্গীত ও খেলাধুলায় মনোনিবেশ করেন।

তিনি একাধারে রাজনীতিবিদ, ঔপন্যাসিক, ও গল্পকার। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় এবং বাংলা ভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। তার অনেক উপন্যাস ভারতবর্ষের প্রধান ভাষাগুলোতে অনূদিত হয়েছে। তাঁর প্রায় সবগুলো উপন্যাসের সিনেমা নির্মাণ হয়েছে। বড়দিদি ,পল্লীসমাজ , দেবদাস, চরিত্রহীন, শ্রীকান্ত (চারখণ্ডে), দত্তা, গৃহদাহ, পথের দাবী, পরিণীতা, শেষ প্রশ্ন ইত্যাদি শরৎচন্দ্র রচিত বিখ্যাত উপন্যাস।

পথের দাবী শরৎচন্দ্রের সমসাময়িক কালজয়ি রাজনৈতিক উপন্যাস। বিটিশ বিরোধী সশস্ত্র স্বাধানতা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাসের প্রেক্ষাপট। যে সব বীর বিপ্লবী লেখক ইংরেজেদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলো, ইংরেজদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল তাঁদের মধ্যে শরৎচন্দ্র, নজরুল একই শ্রেণী ভূক্ত। তাঁর উপন্যাস ‘পথের দাবী’ ইংরেজ সরকার ১৯২৭ সালের ১৫ই জানুয়ারি বাজেয়াপ্ত করে। বইটি সম্বন্ধে দখলদার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল – “ঞযব সড়ংঃ ঢ়ড়বিৎভঁঃ ড়ভ ংবফরঃরড়হ রহ ধষসড়ংঃ বাবৎু ঢ়ধমব ড়ভ ঃযব নড়ড়শ.” এখন যেমন স্বাধীন দেশে সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ ঘোষণা করা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ‘পথের দাবী’র সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়।

শরৎচন্দ্র কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি কংগ্রেসের অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন এবং হাওড়া জেলা জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি সুভাষচন্দ্র বসু, চিত্তরঞ্জন দাস ও গান্ধীজির সঙ্গে একত্রে কাজ করেছেন। ধর্ম ব্যবসা, সামাজিক নিপীড়ন, কুসংস্কার, জাত পাত ভেদাভেদ, নারী নির্যাতন ইত্যাদির বিরোদ্ধে তার লেখনি ও প্রতিবাদ অমৃত্যু সরব ছিলো।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার দরুন তিনি ‘অপরাজেয় কথাশিল্পী’ নামে খ্যাত। তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক পান৷এছাড়াও, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে ‘ডিলিট’ উপাধি পান ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে। এই অমর কথা শিল্পী ১৬ জানুয়ারি ১৯৩৮ সালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ফেসবুক থেকে।

[তথ্য সূত্র: বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও উইকিপিডিয়া]

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত