প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শাওন মাহমুদ: ২৯, ৩০ ও ৩১ অগাস্ট বিভীষিকাময় কালো আঁধারে ঘেরা দিন

শাওন মাহমুদ: বাবার সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া বাকি ছয়জনের সবার পরিবারের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই। হাফিজের ছোট বোন আর তাঁর ভাগ্নের সাথে অল্প হলেও যোগাযোগটা রয়ে গেছে। ফুপ্পির থেকে হাফিজের অনেকগুলো ছবি পেয়েছিলাম। বকরের বড় ভাই মোজাফ্ফর ভাইজান ক্যান্সারে ভুগে মারা গিয়েছেন। তাঁর থেকেই বকরের ছবিটা পাওয়া। ওনার স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ আছে। রুমীর ভাই জামী, তাঁর সাথে সবসময়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। হয়তো শহীদ জননী জাহানারা ইমাম সেই বন্ধনটা গাঢ় করে রেখে গিয়েছিলেন। জুয়েল, বদী এবং আজাদ পরিবারের কারো সাথে কোনোদিনও যোগাযোগ হয়নি বিধায়, কাউকে চেনা হয়ে ওঠেনি।

অগাস্ট শেষের দিন আর রাতগুলো কেমন লাগে তা লিখে বুঝাতে পারবো না। বিশেষ করে যখন খেতে বসি তখন। জেনেছিলাম টর্চার চেম্বারে তাঁদের কিছু খেতে দিতো না। জল চাইলে পেসাব করতো মুখে। রুটি খেয়ে কিনারগুলো ছুড়ে দিতো ওঁদের মুখের কাছে। রাতে রমনায় নিয়ে আসলে রুটি আর ডাল দিতো, কখনও সবজি। অত্যাচারে নুয়ে যাওয়া ওঁরা জ্বরের ঘোরে খেতে পারতো কিনা কে জানে! বাবা ৩১ রাতে শেষ ভাত খেয়েছিলেন, ডাল আর পেপে ভাজি সাথে কাঁচামরিচ দিয়ে। আর বাকিদেরটা জানি না।
২৯,৩০ ও ৩১ অগাস্ট বিভীষিকাময় কালো আঁধারে ঘেরা দিন। এমন নির্মমভাবে মারবার চেয়ে গুলি করে মেরে ফেলায় সহজ ছিল। অত্যাচারে জর্জরিত তপ্ত ভাঙাচোরা দেহের আর কিছুই তেমন ঠিক ছিল না। কেউ কখনও জানালো না সেই সাতজনের শেষ গন্তব্য কেমন ছিল, কোথায় ছিল? একবার অনেক আগে শুনেছিলাম পুড়িয়ে মারা হয়েছে তাঁদের। সত্যি বলতে মাটি খুঁড়ে কেউ কখনও খুঁজতে যায়নি ড্রাম ফ্যাক্টরী টর্চার সেলের আশেপাশে। আমি সেই রাস্তা দিয়ে কখনও যাতায়ত করি না। আফটার শক ট্রমা থেকে বের হতে পারিনি আর। আমার এই এক জীবনে পারবোও না হয়তো কখনোই। লেখক : শহীদ সুরকার আলতাফ মাহমুদের কন্যা। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত