প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] চৌগাছায় আউশের ফলন ও দামে কৃষকের মুখে হাসি

বাবুল আক্তার : [২] যশোরের চৌগাছায় আউশ ধানের বাম্পার ফলন ও বাজারে দাম বেশি থাকাই কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি।

[৩] উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানাযায়, উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় ২ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আউশ ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সে তুলনায় অর্জন হয়েছে তার চেয়ে বেশি। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৮ হাজার ৭’শ ৪৩ মেট্রিক টন ধান। চাউলের হিসেবে ৫ হাজার ৮’শ ২৯ মেট্রিক টন।

[৪] সরজমিনে গেলে দেখা যায়, এখনো অনেক চাষি ধান কাটা শুরু করেনি। আবার কেউ ধান কেটে খড় খেকে ধান ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত। আবার অনেকেই ইতোমধ্যে মেশিন দিয়ে ধান কেটে ক্ষেত থেকে কাঁচা ধান বিক্রি করেছেন। আলাপকালে কয়েকজন চাষি জানালেন, এবার তাদের আউশের আবাদ ভালো হয়েছে। বাজারে দাম ভালো থাকাই লাভ হচ্ছে এজন্য তারা খুশি।

[৫] সৈয়দপুর গ্রামের কৃষক গোলজার রহমান জানান, তিনি এবছর প্রায় তিন বিঘা জমিতে আউশ ধানের চাষ করেছেন। এবছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় কম খরচে ভালো ফলন হয়েছে বলে জানান। ১০ কাটা জমির ধান কেটে ক্ষেত থেকেই বিক্রি করেছেন তিনি। দশ কাটা জমিতে ১১ মণ কাঁচা ধান বিক্রি করেছেন প্রতি মণ ৭’শ ৫০ টাকা দরে।

[৬] উপজেলার মাসিলা গ্রামের চাষী এনামুল জানান আউশ ধান চাষে উৎসাহিত করেছে উপজেলা কৃষি অফিস। তিনি বলেন আমি ৩ বিঘা জমিতে আউশের আবাদ করেছি। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে সময় মত জমি পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করায় অন্যান্য বছরের তুলনায় ভালো ফলন হয়েছে। সরকারি প্রণোদনার সার বীজ পাওয়ার কারনে তার খরচও অনেক কম হয়েছে। তিনি আরো বলেন, জমিতে পোকা-মাকড় দমনে পার্চিং ব্যবস্থা করেছেন। কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের পরামর্শ সেবা পেয়েছেন তিনি।

[৬] উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায় বৈশ্বিক মহামারি করোনা’ প্রভাবে যাতে দেশে খাদ্য সংকট সৃষ্টি না হয় সে কারণে এবার আবাদি জমির পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া আউশ আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করতে উপজেলায় ১ হাজার ৪’শ ৪৫ জন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মাঝে সরকারিভাবে বিনামূল্যে উন্নত বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে ৫ কেজি উচ্চফলনশীল জাতের বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে।

[৭] উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সমরেন সরকার জানান, চৌগাছা উপজেলায় আউশের আবাদ গতবছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশনায় ও মাননীয় কৃষি মন্ত্রীর তৎপরতায় সামাজিক আন্দোলনে পরিনত হয়েছে কৃষি কার্যক্রম। কৃষি বিভাগের তৎপরতায় হারিয়ে যাওয়া আউশ ধান নতুন রুপে কৃষকের মাঝে ফিরে এসেছে। ফলন ভালো, খরচ কম ও অব্যাহত সরকারী প্রণোদনার ফলে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আউশের আবাদ। মাঠ দিবস, প্রশিক্ষন, উঠান বৈঠক সহ কৃষি বিভাগের তৎপরতায় সময় মতো বীজ প্রাপ্তি, সার সরবরাহের ও অন্যান্য পরামর্শের ফলে বর্তমানে সকল আবাদের ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত