প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিদেশ সফরে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন

নিউজ ডেস্ক: প্রতিযোগিতা কমিশন শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে ‘বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ও এক্সপোজার ভিজিট’র জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। কিন্তু এতে আপত্তি জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রথমদিকে এই ব্যয় পুরোটাই বাদ দেওয়ার পক্ষে থাকলেও শেষ পর্যন্ত কমিয়ে অর্ধেক করা হচ্ছে। যুগান্তর

পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তিতে কমছে বরাদ্দ। কথা দিচ্ছি এক টাকাও অপচয় হবে না -মফিজুল ইসলাম

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ‘স্ট্রেনদেনিং অব দ্য বাংলাদেশ কম্পিটিশন কমিশন’ শীর্ষক প্রকল্পের এসপিইসি’র (বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভায় এটিসহ আরও বিভিন্ন বিষয়ে ব্যয়ের ক্ষেত্রে আপত্তি তোলা হয়। বিদেশ সফরসহ পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১৩ কোটি ৮৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা। প্রক্রিয়াকরণ শেষে অনুমোদন পেলে এটি বাস্তবায়ন করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এসপিইসি সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে-বিস্তারিত ব্যয় বিভাজনে ফরেন ট্রেনিং অ্যান্ড এক্সপোজার ভিজিট অঙ্গের বিপরীতে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় প্রাক্কলন দেখানো হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ খাতের ব্যয় বাদ দেওয়া যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্পটি প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য শরিফা খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যেহেতু এটি একটি নতুন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিকভাবে তাদের কিছু কাজকর্ম করতে হবে, তাই একেবারেই বিদেশ প্রশিক্ষণের ব্যয় বাদ দেওয়া হয়নি। এছাড়া প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসনকে অনেক সময় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সেমিনারে অংশ নিতে হতে পারে। তবে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে এ খাতে বরাদ্দ কমিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা করার সুপারিশ দেওয়া হচ্ছে।

জানতে চাইলে প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মফিজুল ইসলাম বলেন, এটি একেবারেই নতুন প্রতিষ্ঠান। কাজেই অভিজ্ঞ দেশের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার প্রয়োজন আছে। না হলে কিছুই শেখা যাবে না। তবে আমি কথা দিচ্ছি এ খাতের এক টাকাও অপচয় হবে না।

প্রকল্পটির প্রস্তাবনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক ব্যবস্থার চাহিদা ও জোগানের মিথষ্ক্রিয়ায় বাজারে ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কৌশল প্রয়োগের প্রয়োজন হয়। বাজারে প্রতিযোগিতা যত বেশি হবে পণ্যের মান ও ইনোভেশন তত বৃদ্ধি পাবে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই লাভবান হবে। বাজারে যাতে প্রতিযোগিতা বজায় থাকে এবং কেউ যাতে প্রতিযোগিতাবিরোধী কার্যক্রম করতে না পারে তা নিশ্চিত করতেই প্রতিযোগিতা কমিশন আইন-২০১২ পাশ হয়েছে। এই আইনের বলে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন সৃষ্টি হয়েছে। কমিশনের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয জনবল নিয়োগ ও বর্তমানে কর্মরত জনবলের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। এছাড়া কমিশনের সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও তার বিস্তারিত প্রোফাইল তৈরির জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে হবে। সেই সঙ্গে কমিশনের কার্যক্রম বিষয়ে জনগণকে অবহিত করার জন্য অ্যাডভোকেসি প্রোগ্রামের আওতায় বিভিন্ন প্রচারমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।

পাশাপাশি কমিশনের নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। এসপিইসি সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সঙ্গে কোনো ভ্রমণ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট নয়। ফলে গাড়ি ভাড়া কিংবা মোটরসাইকেল ক্রয় কেন আবশ্যক তা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে গাড়ি ভাড়া করা হলে অথবা শুধু মোটরসাইকেলের জন্য আড়াই লাখ টাকার পেট্রল, অয়েল এবং লুব্রিকেন্ট কেন প্রয়োজন হবে তা আলোচনা করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ২ লাখ টাকা ব্যয় প্রাক্কলনের যৌক্তিকতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। আরও বলা হয়েছে, অপ্রত্যাশিত ব্যয় বলতে কী বোঝানো হয়েছে তা সুস্পষ্ট করা প্রয়োজন। তা না হলে এ অঙ্গটি বাদ দেওয়া যেতে পারে। প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক বাবদ প্রস্তাব করা হয় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে ৪ জন পরামর্শক কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যেতে পারে। এ খাতের ব্যয় যৌক্তিকভাবে কমানো যেতে পারে। সেই সঙ্গে পরামর্শক সেবা জনমাস আকারে দেখাতে হবে, সংখ্যায় নয়। বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু এবং প্রশিক্ষণগুলো কীভাবে প্রকল্পের উদ্দেশ্য অর্জনে সহায়তা করবে সে বিষয়ে সভায় আলোচনা করা যেতে পারে।

এসপিইসি সভার কার্যপত্রে আরও বলা হয়েছে-স্থানীয় প্রশিক্ষণ খাতে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ব্যয় যৌক্তিকভাবে কমানো প্রয়োজন। এছাড়া এটি একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প। তাই সিসিটিভি, এক্সসেসরিজ, মোবাইল ফোন, এসি, পিএ সিস্টেম এবং আসবাবপত্র ক্রয় অংশ বাদ দেওয়া যেতে পারে। সভা সূত্রে জানা গেছে, এসব প্রস্তাবের অনেক ব্যয়ই বিস্তারিত আলোচনার পর কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই সুপারিশসহ ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত দেওয়া হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত