প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাকন রেজা: তালেবান-চীনের সখ্যতা: ভারতের দায়, ধর্ম এবং ‘চরমপন্থা’

কাকন রেজা: শঙ্কার সঙ্গে মজাও লাগছে বিবিসির চীন ও তালেবানের ঘনিষ্ঠ হওয়ার খবরে। শঙ্কার ব্যাপারটায় পরে আসি, মজার ব্যাপারটা বলি। দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি, সন্ত্রাস ধর্ম ছাড়াও হয়। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, রাজনীতি এসব সন্ত্রাসের এক-একটি অনুষঙ্গ মাত্র। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার খেলা নিয়েও সন্ত্রাস হয়। আবার ধর্ম নিয়েও হয়। ‘আপার চেম্বার’ যাদের খালি তারা দীর্ঘদিনেও এ কথাটি বোঝেননি। আর বোঝেননি ধান্ধাবাজ শ্রেণিটা, যাদের জীবিকার জায়গা হলো অন্যের মধ্যেকার সংঘাত। আর সেই সংঘাতের মাঝখানে নেপো সেজে দই মারা। অন্তত তালেবান ও কমিউনিস্ট চীনের মিলন আকাক্সক্ষা এবং প্রক্রিয়া তাই বলে।

শঙ্কার কথায় আসার আগে, ট্রলের কথা বলি। কেউ ট্রল করছেন, তালেবানদের কমিউনিস্ট বানিয়ে দেওয়ার প্রার্থনা বিষয়ে। তাদের কথা ট্রল হলেও তালেবান ও চীনা কমিউনিস্টদের কিন্তু দারুণ মিল রয়েছে। চীনা কেন, কিউবা, উত্তর কোরিয়া, নকশাল, মাওবাদী, ফাওবাদী সব এক। তালেবানদের দ্বারাও মানুষের ব্যক্তি আকাক্সক্ষা, স্বাধীনতা বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে, হচ্ছে; এসব কমিউনিস্টদের দ্বারাও তাই। তালেবানরাও তাদের শত্রুদের হত্যার চিন্তা করে নকশাল, মাওবাদীরাও তাই। আর সেই শত্রু নির্ধারণ করে তারাই। কেউ ধর্ম বিরোধিতার অজুহাতে, কেউ শ্রেণিশত্রুর তালিকায়। কিন্তু মূলটা হচ্ছে হত্যা, অ্যাসাসিনেশন।
শঙ্কার কথাটা এখান থেকেই। দুই বিপরীরত মেরুর কট্টরপন্থীরা যখন যুক্ত হয়, তখন ধ্বংসের তালিকাটাও লম্বা হয়ে যায়। অ্যাসানিশনের তালিকায় যুক্ত হয়, সভ্য ও গণতন্ত্রকামী মানুষ। আফগানিস্তান দখল করে নিচ্ছে তালেবান, দখল হচ্ছে ব্যক্তি স্বাধীনতা, নারী স্বাধীনতা। না, ভুল ভাববেন না, আমি নারীদের স্বাধীনতা বলতে জরায়ুর স্বাধীনতা বোঝাচ্ছি না। নারীদের শিক্ষাসহ মানুষ হয়ে গড়ে উঠবার স্বাধীনতার কথা বলছি। বিছানা বদলের স্বাধীনতার কথা নয়। বলছি না এ কারণেই যে, সেটা অস্বাস্থ্যকর।

চীনের কোনো খবর বাইরে থেকে আমরা জানতে পারি না। করোনার কথাই ধরি। ভাইরাস যখন ছড়াতে শুরু করেছে, তখনও চীন নিশ্চুপ। বাইরের পৃথিবীর কাছে সে খবর অজানা। কেন অজানা, কারণ চীন খবর সেন্সর করে। চীনের অভ্যন্তরীণ খবর জানা অনেকটাই অসম্ভব। যার ফলে সারাবিশ্বই আজ ক্ষতিগ্রস্ত। চীনের অর্থনীতি ভালো, মানুষ ভালো আছে এটা আমরা জানি। জানি, চীন জানায় বলে। কিন্তু ভেতরের খবর কতোটা ভালো তার ক্লাসিফায়েড কোনো তথ্য নেই। জাস্টিফাইয়ের কোনো সুযোগ নেই। উত্তর কোরিয়া তো আরও একধাপ এগিয়ে। কিউবাও তাই।

বাঙাল মুলুকের বেশি ‘বুঝদার’ কমিনিউস্টরা ম্যালা তত্ত্ব কথা বোঝেন। তাদের জ্ঞান থইথই করে। তর্কে তাদের হারানো অনেকটাই অসম্ভব। ওই যে, সেই কথার মতন। ‘তাদের সাথে তর্কে যেও না, কারণ প্রথমে তারা তোমাকে তাদের পর্যায়ে নামিয়ে আনবে, তারপর হারিয়ে দেবে।’ তারা এতোদিন তালেবানদের গালিগালাজ করে এসেছে। জঙ্গি, বর্বর বলে। বৌদ্ধ মূর্তি ভেঙেছিলো তাদের দুঃখে বাঙাল মুলুকে দরিয়া বয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু এখন তালেবান বিষয়ে তেমন প্রতিবাদ নেই। দু’একজন দুঃখ-টুঃখ করছেন, হালকা-পাতলা আপত্তিও জানাচ্ছেন।যাতে ইজ্জতটা বাঁচে। ধীরে ধীরে দেখবেন তালেবানরা তাদের কাছে তালেবর হয়ে উঠেছে।

সুতরাং দীর্ঘদিন ধরে যে বলে আসছি চরমপন্থা ধর্ম নয়, রাজনীতির ফসল। এ কথাটা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। যদিও এটা সবাই জানে, জানতো। সবাই জানতো এই রাজনীতির পেছনের কারণটা যে অর্থনৈতিক তাও। তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতায় এলে এবং চীনের সঙ্গে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে এশিয়ার রাজনীতিতে পরিবর্তন ঘটবে। যার প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে। মাঝখান থেকে মার খাবে ভারত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে জনগণের অভিশাপের ফল সম্ভবত ফলতে শুরু করেছে। মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করার প্রতিফল ভারতকে পেতে হবে। সব অন্যায়ের দায়ই চুকাতে হয়।

আফগানিস্তান আসলে একটা নিদর্শন এদের নিয়ে যারা খেলতে গিয়েছে তাদেরই শেষ মিশন ফেল করেছে। সোভিয়েত তার দায় চুকিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চুকাচ্ছে। সোভিয়েত নিজে ইউনিয়ন ছিলো, ভেঙেছে। বাইডেন অত্যন্ত চালাক রাষ্টপতি। বুঝতে পারছেন, ইউনাইটেড স্টেটের ইউনিটিও বিপন্ন হতে পারে। তাই আগেভাগেই বিদায় নিয়েছেন। ছেড়ে দিয়েছেন দায়টা দালাল আফগান সরকারের উপর। দালালির দায় তারা চুকাচ্ছে তালেবানদের হাতে মার খেয়ে। দালালদের পরিণতি মূলত এই-ই হয়।              লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত