প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কমলগঞ্জে ২৫০ পরিবার প্রধানমন্ত্রীর ঘর পেয়ে আনন্দ উচ্ছ্বাস

সোহেল রানা : [২] মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের স্বপ্নের প্রায় ২৫০ ঘরে সহস্রাধিক লোক বাস করছেন ভূমিহীন ও গৃহহীন উপকারভোগীরা। ‘মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন ও ভূমিহীন থাকবে না’- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা বাস্তবায়নে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে ২ শতাংশ জমির সঙ্গে ঘর পেয়েছেন উপকারভোগীরা। পাকাঘর পেয়ে তারা এবারের ঈদ উদযাপন করবেন আনন্দের সাথে। ভিটাবাড়িশূন্য মানুষের জন্য বিষয়টি স্বপ্নের মতো।

[৩] নবনির্মিত ঘরগুলোতে শোভা পাচ্ছে লাল রঙের টিনের ছাউনি। গৃহহীনরা তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পেরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার, মুন্সীবাজার, আলীনগর ও ইসলামপুর ইউনিয়নে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৪১ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৭৫টি ঘর উপকারভোগীদের মধ্যে হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। এতোদিন অন্যের ঘরে আশ্রিত মানুষগুলো এখন নিজের ঘরে বাস করার সুযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তাদের কাছে স্বপ্নের মতো। কমলগঞ্জ উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মিত ঘরে কিছু কিছু জায়গায় ১০/১২টি ঘরে চির ফাটল দেখা দিলে ও স্থানীয় প্রশাসনের তড়িৎ হস্তক্ষেপে সংস্কার করে দেয়া হয়।

[৪] রোববার (১৮ জুলাই) পতনঊষার ইউনিয়নের পতনঊষার, মুন্সীবাজার ইউনিয়নের হরিশ্মরণ, আলীনগর ইউনিয়নের রাজকান্দি এলাকার বকশীটিলা গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘরগুলোয় ব্যবহার করা হয়েছে লাল রঙের টিন। দুই কক্ষবিশিষ্ট বাড়িতে রয়েছে একটি রান্নাঘর, শৌচাগার ও স্টোর রুম।

[৫] কেউ কেউ শোভাবর্ধনের জন্য ঘরের আঙিনায় লাগিয়েছেন ফুল ও ফলের গাছ। ঘরঘেঁষে তৈরি করছেন আলাদা আরও প্রয়োজনীয় গুদামঘর। সবাই খুব উৎফুল্ল, আনন্দিত। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আরো বলেন, সারাদিন মাঠে-ঘাটে পরিশ্রম করে নিজের বাড়িতে থাকতে পারবে এর চেয়ে খুশির আর কি হতে পারে।

[৬] এসময় তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জন্য দীর্ঘায়ু কামনা করেন। মুন্সীবাজার ইউনিয়নের হরিশ্মরণ গ্রামের ভূমিহীন বাসন্তী মালাকার জানান, ৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে খুবই কষ্টে ছিলাম। আমাদের খুবই খুশী লাগছে। একই গ্রামের মৃত রবীন্দ্র শব্দকরের স্ত্রী সুভাসিনী শব্দকর নতুন পাওয়া ঘর ঘুরে ঘুরে দেখিয়ে বললেন, পাকা ঘরটি তাঁর খুব পছন্দ হয়েছে। থাকার কক্ষের সঙ্গে রান্নাঘর। পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থাও আছে। পরিবার নিয়ে ভালোভাবে থাকতে পারবেন।

[৭] উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক তালিকাভুক্ত ৭৪৫টি ভূমিহীন পরিবার রয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৫৬ পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের খরচ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা। প্রথম পর্যায়ে ৮৫টি ভূমিহীন পরিবার পেয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর উপহার। এতে প্রতিটি ঘরের খরচ ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

[৮] উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, প্রথম পর্যায়ের ৮৫টি ঘরের নির্মাণকাজ শেষে উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় পর্যায়ের ৩৩০ ঘরের মধ্যে ১৫৬টির কাজ সমাপ্ত হয়েছে। তবে কিছু ঘরে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগের কাজ এখনো বাকী রয়েছে। কাজ শেষ করার পর স্বপ্নের ঘরে উঠবেন উপকারভোগীরা। বাকি ঘরগুলোর কাজ চলমান। তিনি জানান, ‘আমরা নকশা অনুযায়ী কাজ করেছি।

সর্বাধিক পঠিত