প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: ‘লকডাউন’ কীভাবে পালিত হচ্ছে তা দেখার জন্য কৌতূহলী মানুষের ভিড়

দীপক চৌধুরী: আমরা শুনি এক, করি অন্য- এটা আমাদের বৈশিষ্ট্য কি না কে জানে! কোভিড-১৯ এর কারণে আমাদের সবার মনেই আতঙ্ক থাকার কথা। অথচ এই ভয়ংকর ভাইরাসটি নিয়ে আমরা একের পর এক যেন ‘মশকরা’ করে যাচ্ছি। এই মশকরা কা’র সঙ্গে? এটা তো নিজের সঙ্গে, মৃত্যুর সঙ্গে। দরকার সচেতনতা। কিন্তু উল্টো কথা প্রচার করা হলো। এ ভাইরাসে নাকি গ্রামের কেউ আক্রান্ত হবে না- এমন কথাও শোনা গিয়েছিল। এখন নাকি গ্রামেই আক্রান্তের হার বেশি। করোনা কী গ্রাম কিংবা শহরের ফারাক বোঝে? হাট-বাজারের অবস্থা ভয়ংকর। ব্যাংকে যাচ্ছিলাম অতি প্রয়োজনীয় একটি চেক জমা দিতে। পথের দৃশ্য দেখে অবাক হলাম। দোকানের শাটার অর্ধেক নামানো। খেয়াল করে দেখলাম ভিতরে লোক আছে। রিকশাচালক যতটুকু জানালেন এর অর্থ এরকম, কিছুক্ষণ আগে এখানে ভ্রাম্যমান আদালতের গাড়ি এসেছিল। তারা দ্রুত দোকান ঘরের, শপিংয়ের এবং কাপড়ের দোকানের শাটার নামিয়ে দিয়েছিল। এখন ম্যাজিস্ট্রেট চলে গেছেন, র‌্যাব-পুলিশ চলে গেছে । তাই অধিকাংশ দোকানের শাটার খোলা। অবাক হইনি এই ফাঁকির কৌশল দেখে। এটা দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। কিন্তু গত পহেলা জুলাই থেকে কেঠার ‘লকডাইন’ বা ‘শাটডাউন’ চলাকালে এমন আচরণ অপ্রত্যাশিত ছিল। বৃষ্টিতে ভিজে, রোদের তেজ সহ্য করেও পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনীর সদস্যরা যেভাবে দায়িত্ব পালন করছেন তা দেখেও যেনো নিজের দায়িত্ববোধটি বাড়ে না। বৃষ্টিতে রাস্তায় কালো রঙা রেইনকোট পরে দায়িত্ব পালন করতেও দেখা যায় পুলিশ-র‌্যাবকে। টেলিভিশনে এমন দৃশ্য হামেশাই দেখা যাচ্ছে। তবুও প্রয়োজন ছাড়া অলিগলিতে আড্ডা, মারামারি, ঘোরাঘুরি চলছে সমানলয়ে। আইন অমান্য করার প্রবণতা একশ্রেণির মানুষের। ‘লকডাউন’ কীভাবে পালিত হচ্ছে তা দেখার জন্য কৌতূহলী মানুষের ভিড়। স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অপরাধে এ পর্যন্ত অনেকের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে। বাধ্য হয়ে পুলিশকে শত শত মানুষ গ্রেপ্তার করতে হচ্ছে।

সম্প্রতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ২১ দফা বিধিনিষেধ আরোপ করে গত ১ জুলাই থেকে সারা েেদশে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। এটা সত্য যে, করোনায় সারাবিশ^ই ক্ষতিগ্রস্ত। করোনা বিশে^র জন্যই মারাত্মক ধাক্কা। করোনার প্রবল ধাক্কা আমাদের আক্রান্ত করেছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়। বিশে^র অনেকে অসহায়। তবু আমাদের ধৈর্য্য ধরতে হবে। করোনার টিকা আসছে। মডার্না, ফাইজার আসছে। সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে করোনাকালে আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা ও সাধারণ জীবন সচল রাখতে যে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে তা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। দেশে অ্যাস্ট্রোজেনেকার টিকা নিয়েছেন এক কোটি ৮১ হাজার ৮শ জন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেছেন, ১৪ হাজার কোটি টাকা টিকার জন্য রয়েছে। সরকারের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে করোনার বাকী টীকার জন্য। নানামুখী সমালোচনার পরেও গত এক যুগে জাতি হিসেবে আমরা অনেক এগিয়েছি, এটা স্বীকার করতেই হবে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার তো আছেই। প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে, রেমিট্যান্স বেড়েছে, রিজার্ভ বেড়েছে, গড় আয়ু বেড়েছে, জীবনমান উন্নত হয়েছে- এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। পরিষ্কার অনুমান করা যায়, একদণ্ডও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিশ্চিত বসে থাকার মানুষ নন। তাঁর মতো পরিশ্রমী ও দূরদর্শী নেত্রীত্ব সম্ভবত দ্বিতীয় কেউ নেই। করোনা প্রতিরোধে ভ্যাকসিন নিয়েও আশাবাদের কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। করোনাসহ বিভিন্ন ভাইরাসের প্রতিরোধক ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ একটি আন্তর্জাতিক মানের ভ্যাকসিন ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করার চিন্তা তাঁর। আসলে স্বপ্ন থাকতে হয়। পরিকল্পনা থাকতে হয় এগিয়ে যাওয়ার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের নয়, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কথা ভাবেন। এ মহামারির মধ্যেও শেখ হাসিনা আর্থ-সামাজিক সব খাতকে সচল রাখতে সম্ভব সবরকম পদক্ষেপ নিয়েছেন। এবারের বাজেট নিয়েও এককথায় মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনা করেছেন একশ্রেণির রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, অর্থনৈতিক গবেষক। আর এতে তাদের উদ্দেশ্যই ছিল রাজনীতি। দেশের মানুষ নয়, দেশের বিশেষ গোষ্ঠীদের পক্ষে কথা রাখা। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা মেরামত করে পুনরায় প্রাণসঞ্চার করে কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে বলে বাজেট পর্যালোচনায় মনে হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছে।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত