প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] গাইবান্ধায় এক জমিতে একই সঙ্গে ১০ ফসলের চাষ

আনোয়ার হোসেন: [২] এক জমিতে এক ফসলের চাষ হয়। ধানের সময় ধান, পাটের সময় পাট চাষ। এটাই কৃষি ফসল ফলানোর আদি নিয়ম। তবে এক জমিতে এক সাথে দু-তিন ফসল এটাও স্বাভাবিক। তবে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পুটিমারি গ্রামের কৃষক আমির আলী এক জমিতে এক সাথে ১০টি সাথী ফসল চাষ করছেন।

[৩] মাত্র ৩৭ শতক জমিতে দন্ডায়মান উন্নত জাতের আখ। একই জমিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পেয়ারা ও পেপের গাছ। এসব গাছের নিচে দাঁড়িয়ে মরিচ, নবরত্ব কচু ও ডাটা শাক। মাটির নিচ থেকে উকি দিচ্ছে হলুদ ও আদা। জমির চারিদিকে দেশীয় কলার গাছ। চারদিকের চারটি আইলে দোল খাচ্ছে নেপিয়ার ঘাস। এভাবে একই জমিতে ১০ প্রকার ফসল উৎপাদন করছেন গাইবান্ধার পুটিমারি গ্রামের কৃষক আমির আলী। কৃষি কাজ করেই পাঁচশতক জমি থেকে তিনি এখন ১২ বিঘা জমির মালিক।

[৪] সাঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় ও আমির আলীর পারিবারিক সূত্র জানায়, এই জমিতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩০০টি উন্নত জাতের আখের চারা রোপন করেন। এখন আখের সংখ্যা প্রায় তিন হাজারে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি আখ লম্বা হয়েছে প্রায় ১১ ফুট। জুলাই থেকে আখের ফলন পাওয়া যাবে। একই জমিতে গতবছরের এপ্রিলে ২৬৫টি উন্নত জাতের পেয়ারার চারা রোপন করেন। গতমাস থেকে পেয়ারা বিক্রি চলছে। এসব গাছ থেকে আগামি পাঁচবছর ফলন পাওয়া যাবে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ৫০০টি মরিচ গাছ রোপন করেন। মরিচ তোলা শুরু হয়েছে। এছাড়াও পেঁপে,নবরত্ব কচু, আদা, হলুদ ডাটা শাক, জমির আইলে চারদিকে কলার গাছসহ নেপিয়ার ঘাস চাষ করছেন।

[৫] আমীর আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব ফসলের চাষ করতে উৎপাদন খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। তার বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ টাকা। বার্ষিক খরচ দুই লাখ টাকা। খরচ বাদে বার্ষিক আয় হচ্ছে তিন লাখ টাকা। কৃষি কাজ করেই তিনি পাঁচশতক থেকে এখন ১২বিঘা জমির মালিক (কেনা ও বন্ধক নেওয়াসহ) হয়েছেন। অভাব আর দুয়ারে হানা দিতে পারে না। বর্তমানে কৃষি ক্ষেত্রে যেসব নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন হচ্ছে, আমি সেসব প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে চাষাবাদ করছি।

[৬] এদিকে কৃষি কাজে বিশেষ অবদানের জন্য আমির আলী বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই ঢাকার ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন। তাকে ক্রেষ্ট ও ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

[৭] সাঘাটা উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের পুটিমারি গ্রামে আমির আলীর (৫২) । পৈত্রিক সুত্রে পাঁচ শতক জমি পান। এ ছাড়া তার কোনো সম্পদ ছিল না। এক সময় তিনি দিনমজুরের কাজ করে অনাহার অর্ধাহারে দিন কাটতো। পাঁচশতক জমিতে সবজি চাষ শুরু করেন। পরবর্তীতে কৃষি বিভাগের পরামর্শে একই জমিতে একাধিক ফসল ফলাতে থাকেন। এভাবে গত ৩০ বছর ধরে ফসল ফলিয়ে তিনি এখন ১২ বিঘা জমির মালিক হয়েছেন।

[৮] আমির আলীর একমাত্র ছেলে আয়নুল হক পানি উন্নয়ন র্বোডে চাকরি করেন। বড়মেয়ে লিপি আক্তারের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে আরাফা জান্নাত অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। স্ত্রী করিমন নেছাকে নিয়ে তিন সদস্যের সংসার।

[৯] গ্রামের ইউপি সদস্য পরিমল চন্দ্র বলেন, ইচ্ছে শক্তি ও পরিশ্রম করলে যে কেউ তার ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে। কৃষক আমির আলী তার প্রমান। তিনি বলেন, আমরাই তাকে দিনমজুরের কাজ করতে দেখেছি। অথচ এখন তার জমিতে অনেক দিনমজুর কাজ করেন। তিনি আমাদের গ্রাম তথা দেশের অহংকার। তিনি এক জমিতেই একাধিক ফসল ফলিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

[১০] সাঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো, সাদেকুজ্জামান বলেন, আমির আলী একজন আর্দশ কৃষক। তিনি পরিশ্রম ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সফল হয়েছেন। কৃষি বিভাগ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সম্পাদনা: হ্যাপি

সর্বাধিক পঠিত