প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মঞ্জুরুল হক: তারপরও আপনারা আমলাতান্ত্রিক ঘেটুগিরি থামাবেন না, লাভালাভের বাণিজ্যও ছাড়বেন না?

মঞ্জুরুল হক: ঠিক আছে, সাধারণ মানুষ করোনার ভয়াবহতা নিয়ে সচেতন নয়। অধিকাংশই মাস্ক পরে না। ধর্মান্ধরা করোনায় বিশ্বাস করেনা বলে পরে না। সচেতন মানুষরাও নাক-মুখ মাস্কে ঢাকার বদলে থুতনিতে ঝুলিয়ে রাখে। ঈদে, লকডাউনে গাদাগাদি করে বাড়ি ফেরে। সামাজিক দূরত্বে বালাই নেই (এটা বাঙালির জাতিগত সমস্যা)…তাই বলে চোঙা হাতে চ্যানেল রিপোর্টাররা ‘লকডাউন দেখতে বের হইছে’ বলে ব্যঙ্গ করবে? কোন রুচিতে? করোনার প্রকোপ কমাতে এই যে সর্বাত্মক লকডাউন, এর আগে সরকার কী করেছে? প্রায় দেড় বছর ধরে কী প্রস্তুতি তাদের? স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সীমাহীন লুটপাট, চুরি-ডাকাতি, ভ্যাকসিন নিয়ে অপরিপক্ক পদক্ষেপ, আনাড়ির মত সিদ্ধান্তহীনতা, অযোগ্য লোকজনের কারণে সময়মত ভ্যাকসিন না পাওয়ায় করোনার প্রকোপ বেড়েছে এই প্রশ্নগুলো করেন না কেন? আজকে যে আর্মি নামানো হলো সেটা দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে হলো না কেন? কেন সারা পৃথিবী চষেও ভ্যাকসিন আনা গেলো না? কেন করোনা বিপদকে মহামারি জ্ঞান করে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা হলেও সকল মাদরাসা খোলা? কেন গণপরিবহন নিয়ে বিচিত্র তামাশা হলো? একটা সিট বাদ রাখলেই কী নিরাপদ? লাক্সারি বাস ছাড়া কোনো বাসেই স্যানিটাইজার থাকলো না? এরকম ডজন ডজন অযোগ্যতা দেখিয়ে দেয়া যায়। থাক সে কথা। কারখানা খোলা রেখে অফিস বন্ধ নিয়ে আর না বলি। যখন জানা গেলো সারা বিশ্বে শুধু লকডাউন নয়, ব্যাপক হারে টিকা দিয়েই করোনা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে বা হচ্ছে। তখন টিকা দেওয়ার কাজকেই কেন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হলো না? ইউরোপ এখন প্রায় করোনাশূন্য। তার কারণ তারা বয়সভিত্তিক প্রায় সকলকেই টিকা দিয়েছে। বাদ দিন ইয়োরোপ। চার মাস আগেই বাড়ির ধারের ভুটান ৬২.৮ শতাংশ টিকা দেয়া শেষ করেছে। মালদ্বীপ ৯৩ শতাংশ, ভারত ২২.৮ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা ১৫.৭ শতাংশ নেপাল ১১.৪ শতাংশ টিকা দিয়ে ফেলেছে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইতালি ৮০ থেকে ৯৬ শতাংশ কমপ্লিট করেছে। আর যুক্তরাজ্য? তাদের ১০০% দেওয়া শেষ! বাংলাদেশে কতো শতাংশ? মাত্র ৫.৮ শতাংশ! মেরে-কেটে ৯৮ লাখ বা কোটি খানেক মানুষ টিকার আওতায় এসেছে। কেন?

একে তো টিকা কেনা, বণ্টন, মালিকানা এইসব নিয়ে বেশুমার চুরি-ডাকাতি হয়েছে, তার উপর আছে ঐতিহ্যবাহী আমলাতান্ত্রিক প্যাঁচ। এইসব প্যাঁচ না কষলে আবার বিশষ্টজনদের বিদ্যেবুদ্ধির বিচ্ছুরণ ঘটে না! ইন্টারনেটে এনআইডি জন্ম তারিখসহ চোদ্দগুষ্টির বয়ান দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তার আবার রিটার্ন মেসেজ আসতে হবে। সেইসব জটিল কাজগুলো কতো পার্সেন্ট মানুষ করতে পারে? দেশের কতো পার্সেন্ট মানুষ নিয়মিতো ইন্টারনেট ব্যবহার করে বা করতে পারে? কেন, রাস্তায় ক্যাম্প বসিয়ে গণহারে চল্লিশোর্ধ মানুষদের টিকা দেওয়া গেলো না? ইউরোপ তো পেরেছে। তারা হাসপাতালে টিকা দেয়ার পাশাপাশি প্রত্যেকটা ট্রাফিক পয়েন্টে গাড়িতে টোকা দিয়ে জিজ্ঞেস করেছে। ‘টিকা দেওয়া হয়নি’ শুনে ওখানেই তাকে টিকা দিয়েছে। টিকা দেওয়ার জন্য তো এয়ারটাইট রুমের দরকার ছিলো না। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ রেকর্ড ১৪৩ জনের মৃত্যু দেখে শিহরিত হচ্ছেন? কালকে বা আরও পরে এই সংখ্যা যখন আরও বাড়বে তখন কী করবেন? মূর্চ্ছা যাবেন? যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের কতোদিন লকডাউনে রাখবেন? কতোজনকে গ্রেপ্তার করবেন। করোনায় প্রায় আড়াই কোটি মানুষ নতুন করে বেকার হয়েছে। এদের জন্য কী করেছেন? গার্মেন্ট সেক্টরে গত বছর ৫ হাজার কোটি প্রণোদনা দিয়েছেন। এবারও দেবেন। আর যারা গতরখাটা মজুর তাদের জন্য কী ব্যবস্থা? কিসসু নেই। তারা কি নির্দেশনা খেয়ে বাঁচবে? তারপরও আপনারা আমলাতান্ত্রিক ঘেটুগিরি থামাবেন না। লাভালাভির বাণিজ্যও ছাড়বেন না? এই প্রশ্নগুলো কে তুলবে? কেন তোলা হয় না? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত