প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

.[১] কিশোরগঞ্জের সবচেয়ে সুন্দর গরু ‘ভাটির রাজা’, দাম ১২ লাখ টাকা

মনোয়ার হোসাইন : [২] গ্রামের নাম কাজলা। গ্রামের নামের সাথে তার গায়ের রঙের অস্বাভাবিক মিল। ওজন ২৫ মণ। হাঁটাচলায় বনেদি ভাব, দেখতে নান্দনিক। তাই সখ করে নাম রাখা হয়েছে ‘ভাটির রাজা’। এই ভাটির রাজাই এখন পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের সবচেয়ে বড় হিসেবে আলোচিত গরু।

[৩] জেলার তাড়াইল উপজেলার দামিহা ইউনিয়নের মধ্য কাজলা গ্রামের খামারী মো. মতিউর রহমান এই গরুটির মালিক। ভাটির রাজাকে দেখতে প্রতিদিন তার বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা। দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন ক্রেতারাও। মালিক দাম হাঁকছেন ১২ লাখ টাকা।

[৪] জানা গেছে, সামনে কুরবানির হাটে বিক্রি করার জন্য খামারী মতিউর এই গরুটিকে লালন পালন করেছেন। ফ্রিজিয়ান (ব্ল্যাকবি অস্ট্রেলিয়ান) জাতের ৩০ মাস বয়সী (দুই দাঁত) এই গরুটিকে এখন প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ কেজি করে খাবার দিতে হচ্ছে। খাবারের তালিকায় রয়েছে নিজস্ব জমির কাঁচা ঘাস, শুকনো খড়, গমের ভুষি, খেসারির ভুষি, ভুট্টাভাঙা ও কলা।

[৫] খামারী মতিউর রহমান জানান, স্থানীয় একজন কৃষকের কাছ থেকে দেড় বছর আগে এক বছর বয়সী ‘ভাটির রাজা’কে কিনেছিলেন তিনি। কেনার পর এটিকে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করার প্রক্রিয়া শুরু করেন। প্রয়োজনমতো খাবার ও পরিচর্যায় এর আকৃতি বাড়তে থাকে। দিন দিন গরুটির ওজন বেড়ে ১০০০ কেজিতে এসে দাঁড়ায়। পশু চিকিৎসকদের সহযোগিতায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ফিতার মাপে গরু টির ওজন নিশ্চিত হওয়া গেছে।

[৬]  এর ওজন এখন দেড় থেকে দুই কেজি করে বাড়ছে বলে খামারী মতিউর রহমান জানান।

[৭] তাড়াইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নূরজাহান বেগম বলেন, গরুটির মালিক একজন সফল উদ্যোক্তা। আহমেদ এগ্রো নামে তিনি একটি খামার গড়ে তুলেছেন। গত বছর তিনি দেশি জাতের ছয়টি গরু বিক্রি করেছেন। এবার প্রথম বড় জাতের গরু মোটাতাজা করেছেন তিনি।

[৮] গরুটি লালন পালনে খামারী মতিউর রহমান কোনো ধরণের হরমোন বা স্টেরয়েড ব্যবহার করেননি। গরুটি যতটা না ওজন তার চেয়ে সুন্দর বেশি।

[৯] জেলা প্রাণিসম্পদক কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম জানান, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার বিপুল পরিমাণ গবাদি পশু লালন-পালন হচ্ছে। অনেক জায়গায় বড় বড় গরু মোটাতাজাকরণ হচ্ছে। এগুলোর নিয়মিত খোঁজ রাখা হচ্ছে।

[১০] তবে তাড়াইলের এ গরুটি কিশোরগঞ্জের সবচেয়ে নান্দনিক এবং সুন্দর গরু। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় গরুটি পালনে বিভিন্ন টেকনিকেল সাপোর্ট দিয়েছে। আশা করছি খামারী এটির ন্যায্য মূল্য পাবে। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

সর্বাধিক পঠিত