প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মির্জাগঞ্জে খাল ভরা অবৈধ জাল

সোহাগ হোসেন:[২] মির্জাগঞ্জে খালে দেখা যায় অবৈধ জালের সমাহার। খালের উপরে ভেসাল (বেগ), বেন্দি ও কারেন্ট জালের অবৈধ ব্যবহারের মাধ্যমে অবাধে চলছে মাছ শিকার।দেখার যেন কেউ নেই। সাধারণত এই ধরনের জালে দেশীয় প্রজাতির মাছ শিকার হয়ে থাকে। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ও উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

[৩] সেই সঙ্গে ওইসব খালের পানির স্রোত ও পানি নিষ্কাশনে বাধাগ্রস্তসহ খালের আশ-পাশে কৃষিজমি জলাবদ্ধতা হয়ে থাকছে এবং ডিমওয়ালা ও ছোট পোনা মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী অকালে মারা যাচ্ছে। এতে হুমকির মুখে রয়েছে মৎস্য সম্পদ ও কৃষি জমি।

[৪] সরজমিন উপজেলার মাধবখালীর বাজিতা ৪র্থ খন্ড এলাকার সৌজলিয়া খাল, চত্রার বকশির খাল, পশ্চিম সুবিদখালীর বেগমপুর খাল, কাকড়াবুনিয়ার মকুমা, গাজীপুরা খাল, ভয়াং এর কেওয়াবুনিয়া খালসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের খাল পরিদর্শন করে দেখা যায়, এমন কোনো খাল নেই, যে খালে ভেসাল জাল নেই এবং এমন কোনো খাল নেই তার আশেপাশে বেন্দি, কারেন্ট ও চাক জালের ব্যবহার নেই।

[৫] বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে গ্রামের খাল-পুকুর ও নিচু এলাকা ধীরে ধীরে পানিতে ভরে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই ভেসাল (বেগ) ও কারেন্ট জালের ব্যবহার শুরু হয়ে যায়।ওই সব খালের এপার-ওপার বরাবর বাঁশের বেড়া ও চাটাই দিয়ে মাঝে কিছু অংশ ফাঁকা রেখে সেখানে অবৈধভাবে প্রকাশ্যে ভেসাল (বেগ) জাল, ফাঁস জাল, ঠুশি জাল, ঝার জাল, গুড়ি জাল, গড়া জাল ও নেট জাল পেতে রেখে ঐসব জাল তুলে সংগ্রহ করা নানা প্রজাতির ছোট-বড় মাছ।

[৬] মৎস্য আইনানুযায়ী উন্মুক্ত জলাশয়ে, খাল-বিলে মাছ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা, খালে কোনো কিছু দিয়ে আড়াআড়ি বাঁধ দেয়া বা যে কোনো ধরনের ফাঁদ ব্যবহার ও স্থাপনা নির্মাণ এবং ভেসাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। অথচ মৎস্য আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে অবাধে দেশীয় প্রজাতির মাছ শিকার করা হচ্ছে। এর ফলে দিনের পর দিন ওই সব খালের মাঝে বেড়া ও জাল থাকার কারণে পানির স্রোত ও পানি নিষ্কাশনে বাধাগ্রস্থ দু’পাশে কৃষিজমি ও ঘর-বাড়িতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

[৭] সেই সঙ্গে জালে ধরা পড়ছে ডিমওয়ালা মাগুর, কৈ, পুঁটি, শিং, টেংরা, দেশী চিংড়ি, টাকি, মলা, শোলসহ ছোট ছোট পোনামাছ। এছাড়ও ওই সব জালে আটকে পড়ে জলজ ব্যাঙ, গুঁইসাপ, কুচিয়া, সাপসহ নানা প্রজাতির প্রাণী অকালে মারা গিয়ে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

[৮] নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভেসাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকারি জানান, ভেসাল (বেগ) জাল, ফাঁস জাল, ঠুশি জাল, ঝার জাল, গুড়ি জাল, গড়া জাল ও নেট জালের ব্যবহার অনেক আগে থেকেই চলছে। তাদের বুঝ-জ্ঞান হওয়া থেকে দেখছেন এই এলাকায় ঐসব জাল দিয়ে মাছ শিকার হচ্ছে। ঐসব জাল বিক্রির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তারা আরও জানান, কেউ প্রকাশ্যে আবার কেউ গোপনে জাল বিক্রি করছে। শুধু বড় বাজারগুলোতে নয়, উপজেলার অনেক হাট-বাজারেই কারেন্ট জাল পাওয়া যায়।

[৯] স্থানীয়রা বলেন,খালে বাধ দিয়ে বিলে পানি ওঠানামা বন্ধ করেছে, খালে বিলে মাছ নাই। খালের সংযোগ পুরাই বন্ধ। পানি আটকে পঁচে যাচ্ছে। এসব ব্যবাহারে অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। নষ্ট হচ্ছে আমাদের বীজতলা। উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আরাফাত হোসেন বলেন, খালের উপরে বেড়া নির্মাণ করায় পানি প্রবাহ চরমভাবে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এর ফলে খালের আশপাশে অনেক জমিতে দিনের পর দিন পানি বেধে থাকায় কৃষকের বীজতলা নষ্ট হচ্ছে ।

[১০] উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ তানজিমুল ইসলাম বলেন, খালে বেড়া দিয়ে কেউ মাছ ধরতে পারবে না, এটা বেআইনি। ইউএনও স্যারের কথা বলে ঐ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

[১১] উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাঃ তানিয়া ফেরদৌস জানান, কেউ যদি পানির গতিপথ আটকে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াসহ এসব অবৈধ বেড়া ও জাল উচ্ছেদে করা হবে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত