প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরদার মেহেদী গুলজার: যাপিত জীবন! আমার অভিজ্ঞতা ও রবার্ট পিটারসনের নিয়ম

সরদার মেহেদী গুলজার: রবার্ট পিটারসনের জীবন যাপনের নিয়ম গুলোকে দৃষ্টিগোচর করতে চেয়েছিলাম আগের একটি পোষ্টে, ওটার মূল বিষয় অন্যদিকে চলে যাওয়ায় এ বিষয়েই ফোকাস করছি।

এই নিয়মগুলো নিয়ে পোষ্ট দেয়ার কারণ মূলত দুইটা; এক ঐ লোকের এই উপসংহার গুলো মনোবিদ্যা নির্ভর এবং একই সাথে উপাত্ত ভিত্তিক। আর দুই, বেশ কয়েকটা নিয়মের সাথে আমার অনেক কয়টা মিলে গেছে, যখন অভিজ্ঞতা লব্ধ কিছু, উপাত্ত নির্ভর কিছুর সাথে মিলে যায় ব্যপারটা মজার।

যেমন উনার ৪ নম্বর নিয়মটা হচ্ছে, তোমাকে তোমার আগের দিনের তোমার সাথে তুলনা কর, আজকের অন্য কারোর সাথে না। নিজেকে আয়নায় দেখে নিজের একটা ভালো ভার্শন তৈরিতে একটু একটু করে আগাও। অন্যের সাথে তুলনা করা নিতান্ত বোকামি, কেননা এর ফলে অন্যের প্রতি নিজের মনে শত্রুতা তৈরি হতে পােের, যা নিয়ে বেঁচে থাকা ভাল কিছু না, বেশ কষ্টের।

অথবা যেমন উনার ৮ নম্বর নিয়মটা হচ্ছে, সত্য বল, অথবা অন্তত মিথ্যা বলো না। উনি বলতে চাচ্ছেন, আপনি অনেক সময় না জেনে ভুল বলতে পারেন, কিন্তু আপনি যখন জানেন এটা সত্য না এবং বলেন, তখন আপনি মিথ্যা বলছেন।

আমার এই নিয়ম যদিও বিশ্বাস, আর বাবা এবং একই সাথে আমার শিক্ষকের শিক্ষানির্ভর; উনি বলছেন, মিথ্যা বললে আপনি আপনার উপলব্ধি করার ক্ষমতা দুষিত করেন যার ফলে, আপনাকে যখন জীবনে সিদ্ধান্ত নিতে হয় তখন নিজেই নিজের বিচারবুদ্ধির উপর নির্ভরতা হারিয়ে ফেলেন। আর এর থেকে খারাপ আর কিই বা হতে পারে। ফলাফল জীবনের অর্থবোধ হারিয়ে ফেলা, তার মানে আগের ৭ নম্বর নিয়ম “জীবনে যা সহজ তা না করে অর্থবোধক জিনিস অন্বেষণ কর” মানাও সম্ভব না।

উনার ৯ নং নিয়মটা হচ্ছে, যখন অন্যের সাথে কথা বলেন, ধরে নেন যে ঐ লোক কিছু জানে যা আপনি জানেন না। সত্য হচ্ছে, পৃথিবীতে এত কিছু আছে যার খুব সামান্যই আপনি জানেন, তাই যত তাড়াতাড়ি এটা উপলব্ধি করা যাবে, মেনে নিয়ে এটাকে বন্ধু বানোনো যাবে, ততই আপনার জন্য ভালো। এর আর একটা দিক হচ্ছে, আর একজনকে শুনতে পারলে তর্কে জিতার থেকে অন্যের দৃষ্টিভঙ্গিটা বোঝার দিকে আগ্রহ বাড়ে আর অনেক সময়ই ফলাফল তিক্ত না হয়ে অন্তত ধমৎবব ঃড় ফরংধমৎবব করা যায়।

উনার ১০ নম্বর নিয়মটা হচ্ছে আপনার বক্তব্যে সুনির্দিষ্ট হন। যেটা আগের টার সাথে মিলালে ফল অন্যরকম, বিশেষ করে তর্কে। তর্কে মানুষ মূল প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে এত ডালপালা নিয়ে কথা বলে যে ফলাফল পাওয়া দুষ্কর।

উনার ২ নাম্বার নিয়মটা আমার কাছে নতুন, এটা যারা জীবনে দায়িত্ব নেন তাঁদের জন্য ভাবনার খোরাক। এমনিতে ভালো একটা কথা প্রচলিত আছে যে, অন্যের সাথে এমন ব্যবহার করুণ যেটা আপনি আপনার সাথে অন্যের কাছ থেকে আশা করেন। কিন্তু এই নিয়মে উনি বলছেন, আপনি নিজের এমন যত্ন নেন যেমনটি আপনি যার প্রতি দায়িত্বশীল তাঁর যত্ন নেন। উনি একটা উপাত্ত দিয়েছেন, যে, নিজের জন্য মানুষ যখন ব্যবস্থপত্র নেন ৫০ ভাগ ক্ষেত্রে ঔষধই কিনেনা না, আর যারা কিনেন তাঁদের বেশ একটা ভাগ ঠিক মত খান না, কিন্তু ঠিক এই ব্যবস্থাপত্র যদি আপনার পোষা একটা প্রানীর হয় অথবা আপনার বাচ্চার হয় তাহলে ঠিকই ১০০ ভাগ পালন করেন।

আর ৩ নম্বর নিয়ম হচ্ছে, আপনার যারা ভালো চান তাঁদের বন্ধু বানান।
(অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখকের ফেইসবুক পোস্ট থেকে সংগৃহিত)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত