প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রবিউল আলম: ঢাকার রাজনীতিতে ‘উড়ে আসা পাখি’দের কিচিরমিচির!

রবিউল আলম: ‘যারা গ্রামের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, ঢাকা মহানগরের পদ-পদবি দখল করে আছেন, অনেকেই ওয়ার্ড, থানার পদ আশা করছেন, তাদের সাবধান হতে হবে’- ওবায়দুল কাদের। ‘১২ বছর আওয়ামী লীগ একটানা ক্ষমতায়। ওয়ার্ড, থানা, মহানগরে নিজস্ব অফিস নেই, ফুটপাতে সাইনবোর্ড লাগানো বন্ধ করুন’-মির্জা আজম। কথাগুলো হৃদয় ছুঁয়ে গেলো।
৪৫ বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, ৪০ বছর হাজারো সমস্যা নিয়ে লিখছি, নেতাদের পড়ার এবং শোনার সময় নেই। ঢাকাকে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রাণকেন্দ্র বলা হয়। ঢাকা দখলে রাখতে পারলে বিপক্ষ দলকে কোণঠাসা করা যায়। দাবি আদায় সহজ হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে ঢাকার রাজনীতিতে হানিফ-মায়া কমিটিকে অপ্রতিরোধ্য বলা হয়, সুফলও ভোগ করেছে আওয়ামী লীগ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্বলতা ছিলো বলেই ঢাকাইয়া মুক্ত হতে দেননি ঢাকাকে। হানিফ-মায়ার বিকল্প না হলেও রহমতুল্লাহ-সাদেক খানকে দিয়ে উত্তর, দক্ষিণের জন্য শাহাআলম,হাসানাতকে খুঁজে আনা হয়েছিলো।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মানবঢাল শেখ হাসিনার মন থেকে মুছে দিতে পারেনি বলেই সাঈদ খোকনকে একক সিদ্ধান্তে মেয়র করা হয়েছিলো। কী হলো হানিফ-মায়ার মহানগর, কী জাদু ছিলো? ঢাকার মানুষের মন্ত্রী, এমপি না থাকলেও পরিচয় দেওয়ার মতো, গর্ব করার মতো হানিফ ছিলো, সমস্যা সমাধানের আশার আলো ছিলো, মহানগরে প্রাণ খুলে কথা বলা যেতো, প্রতিটি সভাসমাবেশ জন্য ওয়ার্ড কমিটির জন্য সম্মানি ছিলো, জবাবদিহিতা ছিলো, প্রাণের স্পন্দন জাগ্রত ছিলো মহানগরে। আজ একটু সতর্ক হলে ঢাকা মহানগর উজ্জীবিত হতে পারে।

হানিফ-মায়ার অনুসারীরা এখনো জীবিত। সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও মির্জা আজমের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে, ঢাকার রাজনীতি থেকে উড়ন্ত পাখি মুক্ত করতে হবে, তারা মহানগরে রাজনীতি করলেও নির্বাচনে গ্রামে। ওয়ার্ড, থানা ও মহানগরের নিজস্ব অফিস হতে হবে, ওয়ার্ড, থানা কমিটির নেতাদের কথা বলতে দিতে হবে, শুনতে হবে পরামর্শ।

কাউন্সিলরদের মেয়রের মাধ্যমে প্রতিটি কর্মসূচিতে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে, তারা দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হলেও দলের কর্মসূচিতে থাকেন না। চাঁদাবাজ মুক্ত আওয়ামী লীগ চাইলে ওয়ার্ড কমিটিকে হানিফ-মায়ার মতো কিছুটা অর্থ সহায়তা করতে হবে। মির্জা আজমের পরামর্শ অনুসারে প্রতি চার মাস পর পর দিনব্যাপি বর্ধিতসভা করতে হবে। নগর কমিটির নেতাদের সঙ্গে ওয়ার্ড কমিটির সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। মহানগরের নেতারা কম কথা বলে, ওয়ার্ড নেতাদের কথা শুনতে হবে বেশি। প্রতিটি সভায় কম করে হলেও দুজন ওয়ার্ড ও দুইজন থানার নেতার বক্তব্য বাধ্যতামূলক হতে হবে, যে নিয়ম আলহাজ্ব মো. সাদেক খান এমপি শুরু করেছিলেন।

লেখক : মহাসচিব, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি

সর্বাধিক পঠিত