প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জামিলুর রহমান: পাওয়া না পাওয়ার বাংলাদেশ-শ্রীলংকা সিরিজ

জামিলুর রহমান: প্রতিটি সিরিজ শুরু আগে প্রতিটি দল একটা লক্ষ স্থির করে সিরিজ শেষ করতে চায়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ দলকে শ্রীলংকা সিরিজে ১০ নম্বরের মধ্যে ৭ দেয়া যায়। একটি পরাজয় ও ফিল্ডিং ৩ নম্বর কেটে নিয়েছে। এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় কি বাংলাদেশের শেষ ম্যাচে পরাজয় কারণ ? একটা বিষয় পরিষ্কার আর তা হলো, শ্রীলংকা সিরিজ হেরে সমালোচিত হয়ে যেভাবে মরিয়া ছিল শেষ ম্যাচ যেতার জন্য বাংলাদেশ ততটা ছিলনা তাই মানসিক ভাবে আক্রমনাত্বক ও দৃঢ় চেতনা মনোভাব নিয়েই কাম ব্যাক করেছে শ্রীলংকা। যেটা বাংলাদেশ ১০ পয়েন্টের জন্য করতে পারতো।

সিরিজ শুরুর আগে শ্রীলংকা দল অনুমান করেছিলাম ৩-০ তে বাংলাদেশের সিরিজ জেতা উচিত, তার কারণ অভিজ্ঞতা, সিনিয়রিটি ও হোম কন্ডিশনের সুবিধা। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিংটা আশানুরুপ না হলেও অভিজ্ঞতার কাছেই পরাজিত হয়েছে শ্রীলংকা। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে আমরা কি দেখলাম, আমাাদের ব্যাটিংটা যে আশানুরুপ হচ্ছেনা তা আবারও প্রমাণ হলো। মুশফিক-রিয়াদের উপর ভর করেই দুটি ম্যাচ জিতলো বাংলাদেশ। ৩য় ম্যাচে মুশফিক ব্যর্থ তো দল পরাজিত তারমানে ওপেনিং ও মিডল অর্ডার ম্যাচ জয়ে কতটা গুরুত্বপুর্ণ তাই শেষ ম্যাচের স্কোর ই বলে দেয়। ওপেনিংয়ে তামিমের সঙ্গি যেন অধরা।

নাঈম শেখ একটা ও লিটন দুটো সুযোগে অধারাবাহিক। আর এই নড়বড়ে ওপেনিং নিয়েও মিডল অর্ডারে মুশফিকের দৃঢ়তায় সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ, যার প্রতিদান তিনি পেয়েছেন আইসিসির ৭৩৯ রেটিং এ ব্যাটিং তালিকার ১৪ নম্বরে উঠে। আবার তামিম প্রথম ম্যাচে ৫২ করলেও বাকি ২ ম্যাচ ব্যর্থ তবে সেটা যোগ্য পার্টনারের অভাবের প্রভাব ও হয়তো হতে পারে। অন্যদিকে ব্যাটিং এর গুরুত্বপুর্ণ তিন নম্বর পজিশনে ১৫,০ এবং ৪ স্কোরই বলে দিচ্ছে সাকিব বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স থেকে অনেক দুরে ও পুরোপুরি ফিট নন। তাই সাকিবের উচিত ৩ নম্বর জায়গা ছেড়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে পুর্ণ ফিটনেস ফিরে পাওয়া।

আরেকটি বিষয় লক্ষনীয় তা হল এই সিরিজে সিনিয়ররাই রান পেয়েছেন তরুনরা সেভাবে অবদান রাখতে পারছেননা তাই সিনিয়র ৪ খেলায়াড়ের রিপ্লেসমেন্ট আবারো ভাবাচ্ছে। তবে আনসাং হিরো রিয়াদ ই বলতে গেলে এই সিরিজের প্রকৃত হিরো কারণ দুটো জয়ে মুশফিকের সাথে তিনিই পার্শ্ব চরিত্র হিসেবে ৫৪ ও ৪১ অবদান রেখেছেন আবার শেষ ম্যাচে ৫৩ রান।

অন্যদিকে মিঠুনের ব্যর্থতায় মোসাদ্দেককে ২টি ম্যাচে ১০ ও ৫১ রান করে পাস মার্ক-ই পেয়েছেন। আবার আফিফ ৩ ম্যাচে ২৭, ১০, ১৬ রান করে মন্দ করেননি তবে তার বোলিংটা কাজে লাগানো দরকার। সিমিং অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন রান বলে ব্যাটে সমানে সমান গেছেন। তাসকিন আগের পারফর্ম্যান্সে প্রথম ম্যাচে অটোমেটিক্যালি চয়েস হলেও ব্যর্থ হয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে “কনকাশন সাব” হয়ে প্রমান করেছেন। আর শেষ ম্যচে তো ৪ উইকেট নিলেন ১ ওভার বাকি রেখেই। অধিনায়ক তামিমকে আরো সজাগ থাকতে হবে পার্টটাইম ও ফুল টাইম বোলারদের ব্যবহারে। মেহেদী হাসান মিরাজকে বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবেই দেখা উচিত কারন সিরিজ জয়েয় ক্ষেত্রে তিনি প্রথম ম্যাচে ৪ এবং ২য় ম্যাচে ৩ টি উইকেট নিয়ে প্রথম বারের মত ৭২৫ রেটিং পয়েন্ট আইসিসির বোলিং তালিকার ২য় স্থানে। শরিফুলকে নিয়ে এখনই বেশী কিছু আমি বলতে চাইনা অভিষেক ও পরের ম্যাচে ১টি করে উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাথে অনেক খানি মানিয়ে নিয়েছেন নিজেকে।

এই সিরিজে সবারই একটু বাড়তি নজর ছিল শ্রীলংকা সফরে না খেলে আইপিএল খেলা সাকিব ও মুস্তাফিজের দিকে, এক্ষেত্রে সাকিব পুরোপুরি ব্যর্থ হলেও মুস্তাফিজকে ১০ এ ৮ দিব, কারন তিনি ৩ ম্যাচে ৬টি উইকেট নিয়ে পাস মার্ক উতরে গেছেন ভালো ভাবেই।

পাওয়া না পাওয়ার কথা বললে এই সিরিজ আমাদের জন্য দু-হাত ভরে নেয়ার কথা কিন্তু আমরা তা পারিনি। তার পর না পাওয়ার মধ্যে বড় প্রাপ্তি ২০ পয়েন্ট অর্জন যা বাংলাদেশকে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার পথে এগিয়ে রাখবে কারণ বাছাই পর্ব এড়িয়ে বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশের ১০০ পয়েন্ট অর্জন করা জরুরী। আগের ৩০ পয়েন্টের সাথে এই সিরিজে ৩০ পয়েন্ট যোগ করা উচিত ছিল। বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার ক্ষেত্রে এই শ্রীলংকা ও উইন্ডিজই আমাদের মূল প্রতিপক্ষ হবে কারন আইসিসির র্যাংকিং-এ এই দুটি দেশ-ই আমাদের আশে পাশে থাকে তাই তাদের কে ঘরের মাঠে পেয়ে পুর্ণ পয়েন্ট না পাওয়াটা আমাদের জন্য ব্যর্থতা। ২০২৩ বিশ্বকাপে মোট ৮টি দল সরাসরি খেলবে যার মধ্যে ৭টি দল সুপার লীগ থেকে আর ভারত স্বাগতিক দেশ হিসেবে। তাহলে হিসেবটা হল; ৭টি দল আইসিসি সুপার লীগ থেকে প্রাপ্ত পয়েন্টের ভিত্তিতে আর ভারত স্বাগতিক হিসেবে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে আর বাকি দলগুলোকে বাছাই পর্ব খেলে আসবে হবে।

বাংলাদেশ যদি সুপার লীগের পয়েন্ট নিয়ে ৭ দলের মধ্যে থাকতে না পারে তাহলে বাছাই পর্ব খেলতেই হবে। এই সমীকরণ নিয়েই মূলতঃ বাংলাদেশ ঘরের মাঠে শ্রীলংকাকে পাখির চোখ করেছিল। তারপরও শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ জয় নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য অনন্য প্রাপ্তি। সামনে অষ্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, আফগানিস্তান, ভারত পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে হবে হোম এন্ড এ্যাওয়ে পদ্ধতিতে। তাই এই সিরিজে ৩০ পয়েন্ট পেলে এ্যাডভান্টেজ নিয়ে পরের সিরিজে খেলতে পারততো মানষিয়ক প্রশান্তি নিয়ে। তারপরও শুভ কামনা বাংলাদেশ দলের জন্য কারণ ৩৫ বছর পরে হলেও শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের দ্বার উন্মোচন করা গেছে।

জামিলুর রহমান: ক্রীড়া বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকার

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত