শিরোনাম

প্রকাশিত : ১২ মে, ২০২১, ০২:৩৫ রাত
আপডেট : ১২ মে, ২০২১, ০৭:১৭ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শুভজিত ভৌমিক : "কুকুর-বেড়াল মেরোনা, শিবির পেলে ছেড়োনা"

শুভজিত ভৌমিক : (১) নেহারি খেয়েছেন কখনো? ওই যে, গরু-খাসির পায়া দিয়ে বানায় যে নেহারি?
এই "নেহারি" নামটা এসেছে আরবী "নাহার" শব্দ থেকে। নাহার মানে হচ্ছে সকাল বেলা, দিনের বেলা। সারাদিনের জন্য আপনি কাজ করতে বাইর হবেন। আপনার দরকার এনার্জি, আপনার দরকার সারাদিন পেট ভরা থাকে - এইরকম কোনো রিচ খাবার।
কিন্তু আপনি গরীব শ্রমিক, মাংস কেনার সামর্থ্য আপনার নাই। তাই রাস্তার পাশে যারা খাবার বিক্রি করে, তারা গরু-খাসির ফেলে দেয়া পায়া জ্বাল দিয়ে আপনার জন্য তৈরি করলো একধরনের ঘন স্যুপ। নাহার বেলায়, অর্থাৎ দিনের বেলায় খাবারটা আপনি খেয়ে কাজে বের হবেনঃ সেইখান থেকে আসলো এই নাম - "নেহারি।"

(২)
এইরকম প্রত্যেকটা খাবারের যে নাম - তার শব্দ ধরে, ইতিহাসের গোড়া ধরে যদি টান দেন, তাহলে দেখবেন ইন্টারেস্টিং সব কাহিনী বের হয়ে আসবে।
খুব সম্ভবত, পৃথিবী জুড়ে মানুষ যখন একসাথে ধানচাষ শিখে ফেললো, ওইরকম কোনো পয়েন্টে চালের নাম ছিলো "পল"। সংস্কৃতে এখনও পুলাক, পলান্ন ধরনের শব্দ পাওয়া যায়।

মহাভারতে "পালাও" নামের একধরনের রাইস ডিশের বর্ণনা আছে। সেটাই আজকের দিনে আমাদের পোলাউ। আর্মেনিয়াতে এই জিনিসকেই বলা হয় পিলাফ, উজবেকিস্তানে প্লোভ, ওয়েস্ট ইন্ডিজে পেলাউ, চীনে পলু, ফ্রান্সে পিলাফ, গ্রিসে পিলাফি, ইরানে পোলো, পাকিস্তানে পুলাও - থেকে শুরু করে স্পেনে পায়েলা (পাইয়া)।
(৩)
তো এইরকমই, হালকা খাবার, নাশতা, স্ন্যাক - এইধরনের খাবারকে বলা হয় পরিজ। ইংরেজিতে porridge নাম শুনে থাকবেন আপনারা।

এই পরিজকে আর্মেনিয়াতে বলে হারিসা। আরবে বলে জারিশ। অন্যান্য মিডল ইস্টার্ন কান্ট্রিতে বলে হারিশ।
দেশ ঘুরতে ঘুরতে ডাল-মাংস দিয়ে বানানো এই "হালকা খাবার" হায়দ্রাবাদে যখন আসলো, তখন সে নাম ধারণ করলো "হালিম"।

২০১৬ সালের দিকে প্রথম কিছু পাকিস্তানি আর হায়দ্রাবাদি মোল্লা ফতোয়া নিয়ে আসলোঃ - আল্লাহ'র নাম হালিম, তাই খাবারকে হালিম ডাকা যাবেনা। আজকাল দেখি বাংলাদেশের কিছু রেস্টুরেন্ট হালিমকে "ডালিম" নাম দিয়ে বিক্রি করা শুরু করেছে। তারা যুক্তি দিচ্ছে, ডাল দিয়ে বানানো , ফলে ডালিম ডাকা যেতে পারে। আল্লাহ'র নামের সাথে ক্ল্যাশ না করলেই হয়।

(৪)
বাংলাদেশি মোল্লাদের একটা ইন্টারেস্টিং চরিত্র হচ্ছে, এরা জেনুইন কোনো জিনিস বানাতে পারেনা, শুধু এইদিক -ওইদিক থেকে কপি করে।

"ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই" - এই জিনিসকে এরা বানিয়েছে "নাস্তিকদের ফাঁসি চাই"। "কুকুর-বেড়াল মেরোনা, শিবির পেলে ছেড়োনা" - এইটাকে এরা বানিয়েছে "নাস্তিক পেলে ছেড়োনা।

আজকে এরা যে ডালিম আন্দোলন চালাইতেছে, এই আন্দোলন পাকিস্তান আর হায়দ্রাবাদে পাঁচ বছর আগে হয়ে গেছে। হালে পানি পায় নাই এই আন্দোলন, হালিম হালিমই রয়ে গেছে।

এরাই আন্দোলন চালিয়েছিলো যে "রামছাগল" বলা যাবেনা কারণ রাম হিন্দু, "লক্ষ্মীসোনা" বলা যাবেনা কারণ লক্ষ্মী হিন্দুদের দেবী, "ব্রাহ্মণবাড়িয়া" বলা যাবেনা কারণ ব্রাহ্মণরা হিন্দু......ইত্যাদি, ইত্যাদি।
এই সবকিছুর ফলাফল হচ্ছেঃ
লক্ষ্মীসোনা - লক্ষ্মীসোনাই রয়ে গেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া - ব্রাহ্মণবাড়িয়াই রয়ে গেছে।
হালিম - হালিমই রয়ে গেছে।
এবং রামছাগল, রামছাগলই রয়ে গেছে।

সূত্র-

(১)

নেহারি খেয়েছেন কখনো? ওই যে, গরু-খাসির পায়া দিয়ে বানায় যে নেহারি?

এই "নেহারি" নামটা এসেছে আরবী "নাহার" শব্দ থেকে।...

Posted by Shubhajit Bhowmik on Tuesday, May 11, 2021

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়