প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আরাফাতুল ইসলাম : গেটসদের বিচ্ছেদ ও আমার দুই আনা

আরাফাতুল ইসলাম : “৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পেতে” স্বামীকে ছাড়ছেন মেলিন্ডা গেটস, এরকম এক পোস্ট ঘুরে বেড়াচ্ছে বাংলা ফেসবুকে। কোন এক প্রবাসীর বরাতে সেই পোস্ট নানাজন শেয়ার করছেন। ভাবখানা এমন, দেখো মোয়েরা কত লোভী। ২৭ বছরেরর সংসার, নামি স্বামী, সন্তান – টাকার কাছে সবই নস্যি!

প্রথমত, বিলকে ছাড়লে মেলিন্ডা যে ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারই পাবেন সেটা মূলধারার কোন মার্কিন গণমাধ্যমই বলছে না। গেটস দম্পতির সম্পদের পরিমান আরো অনেক বেশি বলেই জানাচ্ছে গণমাধ্যম। তাই এই সংখ্যাটা সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসুত।
দ্বিতীয়ত, পশ্চিমা দেশগুলোতে বিচ্ছেদের সময় আর্থিক হিসেবনিকেশের প্রক্রিয়া অনেক জটিল, বিশেষ করে কেউ যদি সরকারি সামাজিক সুযোগসুবিধা নিয়ে বেঁচে থাকা কার্যত গরিব এবং কোন সম্পদের মালিক না হোন। যারা নিয়মিত চাকুরিজীবী তাদেরই এই হিসেব করতে উকিল নিতে হয়, আর কোটিপতিরাতো মোটামুটি উকিলের বহর নামান। আর যে দম্পতি বিচ্ছেদ করছে তাদের একপক্ষ চাইলে অন্যপক্ষকে অকারণে হেনস্থা করতে বিষয়টি জটিল থেকে জটিলতর করার চেষ্টা করতে পারে। আর তখন আদালতকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে হয়।

আপাতত খবর হচ্ছে, বিল গেটস এই বিষয় সুরাহায় তিনটি ল’ ফার্ম নিয়োগ দিয়েছেন। অর্থাৎ বিচ্ছেদের পর কে, কত সম্পদের মালিক হবেন বা থাকবেন সেটা এক্ষুণি কোনভাবেই বলা যাচ্ছে না। বরং এজন্য দীর্ঘ এক আইনি প্রক্রিয়া অপেক্ষায় আছে।

তৃতীয়ত, বিচ্ছেদ কখনো কখনো অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে সত্য, তবে সেটা কোনভাবেই মহিমান্বিত করার মতো কোন বিষয় নয়। বিশেষ করে যে দম্পতি বেশ কয়েক বছর সংসার করেছে এবং সন্তান রয়েছে, তাদের নিজেদের এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরক্ষেত্রে এই বিচ্ছেদের মানসিক এবং শারীরিক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। যে কারণে পশ্চিমা দেশগুলো আইনি এবং সামাজিক কাঠামোতে বিচ্ছেদকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করে। জার্মানিতে একটি দম্পতি আলাদা থাকা শুরু করার পর এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় ডিভোর্স পেতে। এই সময়টা দেয়া হয় যাতে তারা চাইলে আবারো ফিরতে পারে এক ছাদের নীচে। প্রয়োজনে বিনা খরচায় সেই দম্পতিকে মিলিয়ে দিতে নানা কাউন্সিলিংয়েরও আয়োজন করে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সংগঠন।

চতুর্থত, ঠিক কেন একটি দম্পতির বিচ্ছেদ হচ্ছে সেটা জানাও সহজ নয়। আর মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় বলে সেটা জানতে চাওয়াও উচিত নয়। তবুও আমাদের সমাজ বা কোন এক পক্ষ বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে পুরুষ হলে তাকে অত্যাচারকারী, পরনারীতে আসক্ত বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। নারীরক্ষেত্রে তাদের বিবেচনায় সেটা হতে পারে লোভ, নারীবাদ কিংবা পরপুরুষে আসক্তি। কোনো কোনোক্ষেত্রে হয়ত এসব সত্যি। কিন্তু অনেক সময় দু’জনের মধ্যে শুধু আস্থা, মর্যাদা আর বিশ্বাসের ঘাটতির কারণেও ভেঙ্গে যেতে পারে সংসার।
তাই, সহজ সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়ার আগে একটু ভাবুন যে যাদের নিয়ে কথা বলছেন অকারণে তাদের সম্মানহানী করছেন নাতো। বেশ কয়েকবছর সংসার করে, সন্তানদের একত্রে বড় করে কেউই মনের আনন্দে হুট করে বিচ্ছেদ বেছে নেয়না। তাই বিচ্ছেদকে মহিমান্বিত করার কিছু নেই। বরং ওটা সবার শেষে আসা উচিত। তার আগে যতটা সম্ভব সংসারটা ধরে রাখার চেষ্টা অনেকেই করেন। সেটা হয়ত অনেকের পক্ষে সম্ভব হয়না, যাদের হয় তারা জয়ী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত