প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী : যারা গুজব ছড়ান হেফাজতকে ধরতেই ‘লকডাউন’ আসলে তারা কারা?

দীপক চৌধুরী: বিভিন্ন ইস্যু সামনে আসায় আমরা অনেক ঘটনা-ই ভুলে যাই। নতুন ইস্যু শুরু হয়। ঢেউ ওঠে, নতুন ঢেউ। কিন্তু কিছু বিষয় রয়েছে যা চাইলেও ভুলবার নয়। হেফাজত ইস্যু কী ভুলবার? যারা আমাদের অস্তিত্বের ওপর আঘাত হানতে নিদানপক্ষে চিন্তা করে না। আজ সেই মে, ৫ মে, ২০১৩। সার্বভৌম বাংলাদেশের যাত্রাপথ থামিয়ে দিতেই ওদের প্রত্যয়। আমাদের বাঙালিত্বকে আঘাত করতে ওরা ঘৃণ্য খেলা শুরু করে অবলীলায়। ওদের চক্রান্ত এখন স্পষ্ট। আমরা জানি, হেফাজত ইসলামে বহু ধর্মপ্রাণ মানুষ যুক্ত হয়েছেন। তারা সরল বিশ্বাসে এ সংগঠনে গেছেন। সেইসব ধর্মপ্রাণ মানুষকে তারা ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থে ফায়দা লুটেছে। হেফাজত যে কীরকম ভয়ংকর জঙ্গি তা দেখা গেছে বহু জায়গায়। তারা দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি-আসামীর মুক্তি চায়। এখন আমাদের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা র‌্যাব-পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের একমাত্র কাজ হচ্ছে এদের অর্থাৎ জঙ্গি- হেফাজতিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা। ওরা এখন ঘাপটি মেরে আছে। লুকিয়ে আছে বিভিন্ন লেবাসে। ওরা সীমান্ত এলাকায় ঘাপটি মেরে আছে। তাই বলি, আমাদের সবারই উচিৎ সতর্ক থাকা।
এবার আসি ‘লকডাউন’ প্রসঙ্গে। যেখানে সর্বাত্বক ‘লকডাউন’ দেওয়া দরকার ছিল সেখানে ‘লকডাউন’ না দেওয়ার জন্য বিক্ষোভ কর্মসূচি করা হয়। ‘লকডাউন’ দিলে নাকি ‘না খেয়ে’ মরতে হবে। সুতরাং মার্কেট খুলে দিতে হবে। মার্কেটের এক শ্রেণির লোকের কী চোটপাট! খুলে দেওয়ার পর আমরা অবাক হয়ে দেখলাম, মার্কেটের ভয়ংকর ভিড়। এতো মানুষ! এতো ক্রেতা! মানুষ নাকি না খেয়ে মারা যাবে তাহলে সারাদেশের বিভিন্ন মাকের্টে এতো ভিড় কেন? আমরা কী আসলেই গরিব? লোকে লোকারণ্য শপিং মল। রাজধানীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা উঁচু উঁচু বিপণীবিতানগুলোতে মানুষ আর মানুষ। তাহলে কেন শুনতে হয়, আমরা না খেয়ে মরবো। এটা কারা বলে, কেন বলে? সরকারকে উভয় সংকটে ফেলবার ষড়যন্ত্র যে নতুন নয়, আমরা জানি। ষড়যন্ত্র ছাড়া এটা কী? দেখেছি, যারা দিনমজুর তারা কোথাও ভিড় করে না। সাহায্য যাদের পাওয়ার কথা, যাদের হক তা নিশ্চিত করি না, এগিয়ে যাই না সাহায্যের হাত বাড়িয়ে। অথচ আমরা উল্টো ব্লেম দিচ্ছি। নিজের কাজটি নিজে করি না। খালি ব্লেম দিচ্ছি। আমরা জানি, ষড়যন্ত্রকারীরা ঘুমোচ্ছে না, ওরা গোখরা সাপের মতন ফণা ধরে আছে।

ভারত কর্তৃক আমাদের টিকা দেয়ার সাময়িক অক্ষমতাকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল সমালোচনা করে বললেন, ‘এটা বন্ধুত্বসুলভ আচরণ নয়।’ ভারতই যেখানে বিপদে সেখানে তো আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, ভারতের প্রতি আমরা আমাদের ছোটহাত এগিয়ে দেবো, সাহায্যের হাত বাড়াবো। এটাই তো মানবিকতা। শুধু যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ভারত নয়- করোনা বিশ্বের জন্য আতঙ্ক। আইপিএলের মতো এতো প্রাণবন্ত খেলা ফেলে সাকিব-মুস্তাফিজরা ফিরে এসেছেন এরপরও কী নতুন করে বলবার কিছু আছে?

১৫ লাখ পরিবার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পাচ্ছে ‘নগদ’-এ। চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বিভিন্ন পেশায় কাজ হারানো ১৪ লাখ ৯৭ হাজার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার বিতরণ শুরু করেছে ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’।
জিটুপি পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত প্রতিটি পরিবার ২৫০০ টাকা করে সহায়তা পাচ্ছে, যা ঈদের আগেই বিতরণ শেষ করবে দেশের অন্যতম শীর্ষ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অপারেটর ‘নগদ’। ‘নগদ’ ছাড়াও আরো দুটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সব মিলে এই দফায় প্রায় ৩৩ লাখ ৩৯ হাজার পরিবারকে ঈদ উপহার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এই দফায় ‘নগদ’-এর মাধ্যমে মোট সুবিধাভোগীর ৪৫ শতাংশ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হবে।

শুরু করেছিলাম হেফাজত নিয়ে। পূর্বেই বলেছি, আজ ৫ মে, ২০১৩। সেইদিনের ভয়াবহতা ভুলবার নয়। হেফাজত কীভাবে তাণ্ডব করেছিল। ঢাকার মতিঝিল-দিলকুশা-পল্টন-বায়তুল মোকারমের ত্রাস-তাণ্ডবের কথা জাতি কখনো ভুলবে না। দীর্ঘ আট বছরের পুলিশি কার্যক্রম ছিল ঢিলেমি। এখন পুরনো মামলাগুলো ধরে গ্রেপ্তার ও তদন্ত চাঙ্গা হচ্ছে। যুক্ত হচ্ছে নতুনভাবে করা হেফাজতিদের সন্ত্রাসী মামলাগুলো। শোনা যায়, হেফাজতের কিছু নেতা সরকারের সঙ্গে আপসফর্মূলায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। খানিকটা গভীরভাবে ভাবলে দেখা যাবে সুনসান শান্ত নদীর জল হঠাৎ ঘোলা করে তুলেছিল ওরা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ আগমনকে কেন্দ্র করে গত মার্চের ২৫, ২৬, ২৭ ও ২৮ তারিখ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ঢাকাসহ দেশজুড়ে যে সহিংস ঘটনা ঘটেছে, তাতে প্রশ্ন উঠেছিল দেশে কী সরকার আছে? এরপর সরকারের উচ্চমহলের সিদ্ধান্তে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়। এসব নাশকতার পেছনে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত ২২ জন কেন্দ্রীয় হেফাজত নেতা গ্রেপ্তার ও পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন। এর মধ্যে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়্যাল রিসোর্টে নারীসহ জনতার হাতে ধরা পড়েন। এতে নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়লে হেফাজত হুঙ্কার হুমকি দিয়েছিল। অবশ্য সেই মামুনুল এখন জঘন্য অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ রিমান্ডে। শোনা যায়, তারা ভেবেছিল সরকার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সাহস পাবে না। এখন নাকি সরকারের কারণে কোণঠাসা হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা সমঝোতার চেষ্টা করছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন হেফাজত ইসলামের পাঁচ নেতা। মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় এসেছেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার একটি প্রতিনিধি দল। ধানমন্ডিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ওই বৈঠক হয়েছে। জানা গেছে, ওই বেঠকে হেফাজত আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীও থাকার কথা ছিল। কিন্তু এ বৈঠকে তাকে না থাকতে কঠিন নির্দেশ দেওয়া হয়। অবশ্য, সংগঠন থেকে বলা হয়েছে, অসুস্থতার কারণে তিনি ঢাকায় আসেননি। যদিও মিষ্টি কথায় হেফাজতিদের ছাড় দেওয়ার পরিণতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক। কারণ, ওদের বিশ্বাস করা কঠিন। গুজব ছড়ানো হচ্ছে হেফাজতকে ‘সাইজ’ করার জন্য ‘লকডাউন’! অবাক করা কথা নয় কী? সুতরাং আপাতত মাটির গর্তে ঢুকে গেলেও ‘গাখরার ফণা’ সম্পর্কে জাগ্রত থাকতেই হবে।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

সর্বাধিক পঠিত