প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে ব্যবসায়িদের বিক্ষোভ

জিয়া উদ্দিন সিদ্দিকী: লকডাউনের প্রথম দিনে বরগুনার আমতলী পৌর শহরের কাঁচা ও মাছ বাজারের ব্যবসায়ীদের উপর পুলিশের অতর্কিত লাঠিচার্জে ২০ ব্যবসায়ী আহত হয়েছে। পুলিশের অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা সড়কে বিক্ষোভ করেছে।

মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার ৭ দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষনা করেছে। এই লকডাউনে মাছ ও কাঁচা বাজার সকাল ৯ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা রয়েছে। ওই নির্দেশনা অনুসারে লকডাউনের প্রথম দিন আজ (বুধবার) পৌর শহরের মাছ ও কাঁচা বাজার ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান খুলে বসে। সকাল ৯ টার দিকে আমতলী থানার এসআই আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে দুই পুলিশ সদস্য হঠাৎ ওই ব্যবসায়ীদের উপর অতর্কিত লাঠিচার্জ শুরু করেন। এ সময় বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ হামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মানুষ দৌড়াদৌড়ি করতে থাকে। এক পর্যায়ে কাঁচা ও মাছ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ মাহবুবুর রহমান হিমু গাজীর নেতৃত্বে পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে ও ব্যবসায়ীদের রক্ষায় উভয় বাজারের ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে ব্যবসায়ীরা শান্ত হয়।

অপরদিকে আমতলী থানার এসআই আব্দুল মান্নান বলেন, লকডাউনে ব্যবসায়ীদের নিয়ম অনুসারে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা করতে বলায় তারা ক্ষেপে গিয়ে পুলিশের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। এ সময় ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে মাত্র।

এ ঘটনায় পুলিশের হামলায় অন্তত ২০ জন ব্যবসায়ী আহত হয়েছে বলে উভয় বাজারের ব্যবসায়ীরা দাবী করেন। আহত ব্যবসায়ীদের মধ্যে মোজাম্মেল, কাওসার মিয়া, রুবেল হাওলাদার, আব্দুল করিম, জাকারিয়া, উজ্জল হাওলাদার, মজিবুর মোল্লা, রাজা মিয়া, রাজিব ও বাতেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনার পরে বেলা ১১ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবসায়ীদের শান্ত করেন। পরে তিনি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে উভয় ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করতে তাদের নির্দেশ প্রদান করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী বেশ কয়েকজন জানান, অহেতুক পুলিশ মাছ ও কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ীদের উপড় লাঠিচার্জ করেছে। পুলিশের লাঠিচার্জে উভয় বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীসহ বাজার করতে আসা সাধারণ মানুষ হুড়োহুড়ি করে পালানোর চেষ্টা করে।

চৌরাস্তার মুদি মনোহরদি ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, সকালে দোকান খোলা মাত্রই এসআই মান্নান এসে কিছু না বলেই মারধর শুরু করে। এতে আমি আহত হয়েছি। তিনি আরো বলেন, পুলিশ তার দোকানের ১০ ব্যাগ মুড়ি রাস্তায় ফেলে দিয়েছে।

কাঁচাপণ্য ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, কোন কিছু না বলেই পুলিশ এসে আমাদের উপড় লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে আমাদের অনেক ব্যবসায়ী আহত হয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার দাবী করছি।

কাঁচাপণ্য ব্যবসায়ী উজ্জল হাওলাদার বলেন, পুলিশ এসে আমাকে বেধরক পিটিয়েছে। এ সময় পুলিশ আমার ৭ হাজার টাকার ফুটি (বাঙ্গি) সড়কে ফেলে নষ্ট করে দিয়েছে।

মারধরের শিকার মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানায়, পুলিশ এসে বিনা কারনে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার দাবী করছি।

কাঁচা ও মাছ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ মাহবুবুর রহমান হিমু গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লকডাউনের নিয়ম মেনেই কাঁচা ও মাছ বাজার ব্যবসায়ীরা দোকান খুলেছে। কিন্তু বিনা কারনে পুলিশ আমার ব্যবসায়ীদের উপর অতর্কিত লাঠিচার্জ করেছে। এতে আমার অনেক ব্যবসায়ী আহত হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার দাবী করছি।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহআলম হাওলাদার মুঠোফোনে বলেন, লকডাউনে দোকান খোলা নিয়ে মাছ ও কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল তা সমাধান হয়ে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে ব্যবসায়ীদের সামাজিক দূরত্ব রজায় রেখে সরকারী নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, পুলিশের সাথে অপ্রীতিকর ঘটনায় উভয় পক্ষের ভুল বোঝাবুঝির সমাধান হয়েছে। আগামীকাল থেকে আমতলী সরকারী কলেজ মাঠে উভয় বাজার বসবে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত