প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী: করোনা মহামারি : সফল হওয়ার সূত্র আমাদের জানা আছে

ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী: করোনা একটা নতুন ধরনের ভাইরাস। বিশ্ব এই ভাইরাস মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশকিছু ভ্যাকসিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকৃতি দিয়েছে, যেগুলো এখন বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার  হচ্ছে। কোনো ভ্যাকসিনই দাবি করছে না, তা শতভাগ কার্যকর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপির তত্ত্বাবধায়নে বাংলাদেশ যেভাবে করোনা মোকাবেলা করেছে, সেটি ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। যখন পৃথিবীর অনেক দেশ সংশয়ে ছিলো কীভাবে করোনা মোকাবেলঅ করবে, তখনো জননেত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন দৃঢ়। তিনি নির্দেশ দিলেন এবং টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হলো, জনগণের জীবন-জীবিকা রক্ষা করার প্রচেষ্টা নিলেন। এর ফলে আমাদের অর্থনীতি মোটামুটি বেশ ভালো আছে। কারণ পুরোপুরি লকডাউন করা হলে জীবনও বেশি রক্ষা পেতো না, জীবিকাতেও সাংঘাতিক ক্ষতি হতো।

বিশ্বে এখন আবারও করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। বাংলাদেশেও কিছুটা বাড়ছে। যদিও বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে একটু কম বাড়ছে, অন্য দেশের তুলনায়। তবুও সম্প্রতিকালে আমাদের এখানে বাড়ছে। তবুও আমরা দৃঢ় পদক্ষেপে এগোচ্ছি। করোনা মোকাবেলায় সফল আমরা আবারও হবো। তবে আমাদের বেশকিছু সমস্যা রয়েছে। যেমন আমাদের অনেকেই মাস্ক পরতেই চান না। রাস্তায় বের হলে দেখা যায়, তরুণরা মাস্ক পরে না। কোনো কোনো গবেষণায় দেখা যায়, মাস্ক পড়লে ৮০-৮৫ শতাংশ প্রটেকশন হয়। এটা আমাদের সবচেয়ে সহজ করণীয় কাজ। দুইটা মাস্ক নিজেরাই তৈরি করে নিলে হয়। দুইটা মাস্ক হলে একটা সারাদিন ব্যবহার করে ধুয়ে পরের দিন আরেকটা ব্যবহার করতে পারে। এটাই সবচেয়ে সহজ কাজ। অথচ আমরা এটা করতে আগ্রহ দেখাচ্ছি কম। হাত ধোয়াটা চেক করা যায় না, তবে আশা করা যায় সবাই হাত ধুবেন। অনেকে বাড়িতে গিয়ে গোসল করেন, এটাও ভালো অভ্যাস। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, একজন আরেকজন থেকে দূরত্ব মেনে চলাফেরা করবেত হবে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা করার প্রয়াস চালাতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে, অনেক অফিসিয়াল ফাংশনে দেখছি, শারীরিক দূরত্বের বিষয়টি একদমই সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। এ বিষয়ে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। কোনো কোনো পোগ্রামে দেখা যায়, প্রধান বক্তারাও দূরত্ব মেনে বসছেন না, অন্যদের তো  কোনো হিসেবই নেই! করোনার আরেকটা সমস্যা হচ্ছে অনেক ভ্যারাইটিজ আসছে। এখনকার করোনা ভাইরাস ৭০-৯০ শতাংশ বেশি শক্তিশালী।

প্রবাসীদের ব্যাপারে সরকার কঠোরভাবে কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশ দিচ্ছে, হোটেলে কিংবা হাজী ক্যাম্পে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, যারাই ক্ষমতাশালী তারা এয়ারপোর্টে গিয়ে আমাদের চিকিৎসকদের ধমকান, তদবির করে। এতে করে সঠিকভাবে কোয়ারেন্টাইন মানানো যাচ্ছে না। ভ্যাকসিন সবাইকে নিতে হবে। দুঃখজনক হলেও বলতে হয় বিএনপির সিনিয়ার যুগ্ম-সচিক রিজভী কিছুদিন আগে বলেছিলেন, তিনি মারা গেলেও ভ্যাকসিন নেবেন না! এমন মন্তব্য করার পরপরই তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে সায়েন্স নিয়ে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ কোনো ভ্যাকসিনই দাবি করেনি, ১০০ ভাগ প্রটেকশন দেবে। বেশি মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসতে পারলে করোনাকে কন্ট্রোল করা সম্ভব হবে। প্রথমদিকে আমাদের স্বাস্থ্যখাত বুঝে উঠতে পারেনি বলে হিমশিম খাচ্ছিলো। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনাব জাহিদ মালেক এমপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্বাস্থ্যখাতের সবাইকে নিয়ে সঠিকভাবেই করোনা মোকাবেলা করেছেন এবং বিশ্বাস করি আমরা ইনশা  আল্লাহ সফল হবো।পরিচিতি : প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্যবিষক উপদেষ্টা। অনুলেখক : আমিরুল ইসলাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত