প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডা. মুশতাক হোসেন: পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন সুবিধা রাখা প্রয়োজন

ডা. মুশতাক হোসেন: করোনাভাইরাস মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে সরকারের প্রথম সফলতা ছিলো ছড়িয়ে পড়ার আগেই মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে পারা। বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করতে পারাও ছিলো সরকারের অন্যতম সফলতা। ফলে ইউরোপ ও আমেরিকায় করোনার প্রথম ঢেউ যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছিলো তা থেকে আমরা রক্ষা পেয়েছিলাম। শুরুতেই করোনার সংক্রমণ বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়া বিলম্ব করাতে পেরেছিলাম, যা ইরান করতে পারেনি। তাই বাংলাদেশের ডাক্তাররা ভাইরাস সম্পর্কে কিছুটা অভিজ্ঞতা ও কৌশল অর্জনের সুযোগ পেয়েছিলো। আমরা হাইফ্লো-অক্সিজেন, আইসিইউসহ সব ধরনে করোনা চিকিৎসা ব্যবস্থার দিকে মনোযোগ দিতে পেরেছিলাম। তবে শুরুর দিকে সরকারের অনেক সিদ্ধান্ত ছিলো ঝুঁকিপূর্ণ। সবকিছু খুলে দেওয়া সরকারের ভুল পদক্ষেপ ছিলো। প্রান্তিক মানুষকে সরকার সহায়তা দিতে না পেরে কাজকর্ম করার জন্য সবকিছু খুলে দিয়েছিলো। মৃত্যুর সংখ্যা কম হলেও আক্রান্তের হার অনেক বেশি ছিলো। ব্রাজিলের মতো আমাদের দেশেও অনেক বড় সমস্যা হতে পারতো। তাদের যে সক্ষমতা আছে সে সক্ষমতা আমাদের নেই। প্রান্তিক মানুষকে সরকার যে সহায়তা করেছিলো দুর্নীতির কারণে তা নষ্ট হয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় সবকিছু চালু করে দেওয়া ঠিক ছিলো না। পর্যায়ক্রমে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা যেতো। মানুষও অভ্যস্ত হতে পারতো। পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বাজার-ঘাট, অফিস- আদালত খুলে দিলে ক্ষয়ক্ষতি আরও কম হতো। তবে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো থাকায় মৃত্যু হার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।

ডাক্তারদের অবদানের কারণে বাংলাদেশ করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সফলতা দেখিয়েছে। প্রথমদিকে বিশৃঙ্খল অবস্থা ছিলো। ডাক্তারদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব ছিলো। চিকিৎসকদের কোনো প্রশিক্ষণ ছিলো না এবং তারা অনেক ভয়ভীতির মধ্যে ছিলো। মৃত্যু হার কম থাকার প্রধান কৃতিত্ব ছিলো আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের। সংক্রমণ প্রতিরোধে হাসপাতালগুলোর সীমাবদ্ধতা এখনো দূর হয়নি। শুধু মাস্ক পড়লেই হবে না সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য হাসপাতালগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন সুবিধা রাখতে হবে। হাসপাতালগুলোর ক্যান্টিনেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে কারণ অনেক স্বাস্থ্যকর্মীরাই সেখানে পিপিই খুলে ফেলে। হাসপাতালের ক্যান্টিনের ভিড় কমাতে হবে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার দিকে নজর দিতে হবে। পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা হাসপাতাল গুলোতে থাকতে হবে। প্রথম দিকে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি যেহেতু এখন করোনার সংক্রমণ আবার বাড়ছে তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। শহরের মানুষের পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়ে আইসোলেশনে রাখতে না পারা সরকারের বড় সীমাবদ্ধতা ছিলো।

প্রথম দিকে কিছুটা বাস্তবায়ন করা গেলেও পরবর্তী সময়ে সব সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়। সরকার যদি উদ্যোগ না নেয় তাহলে আইসিইউতে রোগীর সংখ্যা বাড়বে। আইসিইউর চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল যা সাধারণ মানুষের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। আইসিইউতে যাতে না যেতে হয় সে ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সরকারকে টাকা ব্যয় করতে হবে। কারণ আইসিইউ স্থাপন করা অনেক ব্যয়বহুল। গরিব মানুষ আক্রান্ত হলে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের জন্য খাদ্যর ব্যবস্থা করে আইসোলেশন নিশ্চিত করতে হবে। সংক্রমণের উৎস খুঁজে বের করে পদক্ষেপ নিতে হবে। গরিবদের বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করতে হবে। গরিবরা দিন আনে দিন খায়। নিজেদের টাকা দিয়ে মাস্ক কিনতে চায় না। বর্তমানে করোনা মোকাবেলায় সরকারের সক্ষমতা বেড়েছে। তবে আক্রন্তের সংখ্যা এভাবে আবার বাড়তে থাকলে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না। সরকার হাসপাতলগুলোতে সরঞ্জাম ও লোকবল বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। যথাসময়ে ভ্যাকসিন পাওয়া সরকারের অন্যতম সফলতা। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের আগেই বাংলাদেশ ভ্যাকসিন কর্যক্রম শুরু করতে পেরেছে যা সকলের কাছেই প্রশংসিত। তবে ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ না হওয়ায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ  ভ্যাকসিন নিতে পারছে না। সেচ্ছাসেবী, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সহজ প্রক্রিয়ার ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা উচিত। নিবন্ধন সহজ করলে ভ্যাকসিন নেওয়ার হার বাড়বে। শহরেও ওয়ার্ড পর্যায়ে টিকাদান কেন্দ্রে চালু হয়নি। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখতে হবে। পরিচিতি : লেখক : আইইডিসিআর-এর অন্যতম উপদেষ্টা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহিন হাওলাদার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত