প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘মামুনুলকাণ্ড’ লাইভ করা সাংবাদিককে তুলে এনে বেধড়ক মারধর-অপমান(ভিডিও)

ডেস্ক রিপোর্ট : নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সোনারগাঁ প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান। হঠাৎই তার বাড়িতে হামলা চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা। এসময় তারা তার বাড়িঘর ভাঙচুর করে তাকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক পেটায়। তার আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে হেফাজতকর্মীরা পালিয়ে যায়।

গতকাল রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের ভাটির চর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিককে ওই রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় আজ দুপুরে সাংবাদিক হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৭০ থেকে ৮০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জানা গেছে, রাজধানীর অদূরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার দিঘিরপাড় এলাকায় রয়েল রিসোর্টে গত শনিবার (৩ মার্চ) বিকেলে হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে স্থানীয়রা এক নারীসহ অবরুদ্ধ হয়। ওই সময় স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করে ফেসবুকে লাইভ করেন।

ঘটনার সময় সাংবাদিক হাবিবুর রহমান মামুনুল হকের দাড়ি ধরে টান দিয়েছে, এমন অভিযোগ তোলে হেফাজতকর্মীরা। এ ঘটনার পর থেকে হেফাজত নেতাকর্মীরা তাকে মারধরের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে সাংবাদিক হাবিবুর রহমান আত্মগোপনে থাকেন। গতকাল সোমবার রাতে সনমান্দি ইউনিয়নের ভাটির চর গ্রামে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় হেফাজতকর্মীরা হামলা চালায়। এসময় তারা তার বাড়িঘর ভাঙচুর করে তাকে তুলে রাস্তায় নিয়ে যায়।

পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে হাবিবুরকে ক্ষমা চাইতে বলে মামুনুলের কাছে। মামুনুলের শতাধিক অনুসারী সাংবাদিক হাবিবকে লাঞ্ছিত করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে। লাইভে ক্ষমা চাওয়ার পর ফেসবুক লাইভ বন্ধ করে তাকে মারধর করে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে হেফাজতকর্মীরা। পরে তার পরিবার এলাকাবাসীর সহযোগিতায় হাসপাতালে ভর্তি করে।

আহত সাংবাদিক হাবিবুর রহমান বলেন, হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকের অনুসারীরা শনিবার (৩ এপ্রিল) থেকেই আমাকে নানাভাবে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। তাদের ভয়ে আমি শনিবার থেকেই ঘরবন্দি। গতকাল শতাধিক হেফাজতকর্মী বাড়িতে হামলা চালালে আমি সোনারগাঁ থানা পুলিশের সহযোগিতা চাই। পুলিশ পৌঁছানোর পূর্বেই তারা আমাকে মারধর করে। আমার চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

লিখিত অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেসোনারগাঁ থানার ওসি (তদন্ত) খন্দকার তবিদুর রহমান বলেন, সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

প্রসঙ্গত, রয়েল রিসোর্টে গত ৩ এপ্রিল বিকেলে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। নারী নিয়ে রিসোর্টে উঠেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। তবে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সোনারগাঁয়ে আসেন। জাদুঘর ঘুরে দেখে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য রিসোর্টটিতে উঠেন। এসময় কিছু লোকেরা এসে স্ত্রীসহ তাকে নাজেহাল করে। তাকে আক্রমণ করা হয়।

এদিকে, রিসোর্টে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর শুনে সেখানে সন্ধ্যার পর জড়ো হতে থাকেন তার সমর্থকরা। একপর্যায়ে রয়েল রিসোর্টে হামলা চালিয়ে মামুনুল হককে নিয়ে যান তারা।
সূত্র- নিউজ২৪

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত