প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বিএসএমএমইউ’র আরো সাতশো শয্যার কাজ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে: ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ

শাহীন খন্দকার: [২] বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ)’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ সোমবার অতিরিক্ত ৭০০ শয্যাবিশিষ্ট দেশের প্রথম সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের নির্মাণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। নির্মাণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তাৎক্ষণিক সভা করেন। সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি সংশ্লিষ্টদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার নিদের্শনা প্রদান করেন। বিশেষ করে চলতি বছরের মহান বিজয় দিবস অর্থাৎ ১৬ই ডিসেম্বরের পূর্বেই যাতে এই কার্যক্রম সম্পন্ন হয় সেজন্য জোর তাগিদ দেন তিনি।

[৩] দক্ষিণ কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে ও সহযোগিতায় নির্মাণাধীন হাসপাতালের বিষয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে বাংলাদেশের অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। নির্মাণাধীন সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল দক্ষিণ কোরিয়ান সরকারের সহযোগিতার একটি অন্যন্য দৃষ্টান্ত। বর্তমানে কোরিয়ান প্রতিনিধিগণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিগণ করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট প্রাদুর্ভাব ও সংকটের মাঝেও দিনরাত পরিশ্রম করে এর কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের গতিশীল কর্মকাণ্ডে মহান বিজয় দিবসের ৫০ বছর পূর্তিতে এই হাসপাতালটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করতে পারবেন বলে আশা করছি।

[৪] এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জুলফিকার রহমান খান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. আবু নাসার রিজভী, উপ- প্রকল্প পরিচালক সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. নূর ই এলাহী, পরামর্শক দাতা প্রতিষ্ঠান সানজিন ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অর্কিটেক্ট এর প্রধান কনস্ট্রাকশন ম্যানেজার মি. লি কিউং হো (Mr. Lee Kyung-Ho), ডিজাইন কো-অর্ডিনেটর মি. কিম ডং হিউন (Mr. Kim Dong Hyun), ডেপুটি কনস্ট্রাকশন ম্যানেজার জনাব শ্রীকান্ত রায় প্রমুখ।

[৫] সভায় জানানো হয় ইতোমধ্যে সুপার স্পেশালাইজড হাসাতালের মূল ভবন ২তলা বেজমেন্টসহ ১১ তলা ভবনের সকল ফ্লোর নির্মাণসহ কাঠামোগত (স্ট্রাকচারাল) কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ভবনে ইটের কাজ (ব্রিক ওয়ার্ক), প্লাস্টার, ফিনিশিং ওয়ার্ক, বেস প্যানেল, টেরাকোটা প্যানেল, এলমোনিয়াম লুবার, এলমোনিয়াম শীটসহ অন্যান্য কাজসহ সামগ্রিক কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের ভবনের অভ্যন্তরে ফিনিশিং কাজ চলছে।

[৬] বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জুলফিকার রহমান খান জানান, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটিতে একজন রোগী একই সেন্টার থেকে সব ধরণের সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। হার্ট, কিডনী, লিভারসহ বিভিন্ন ধরণের জটিল রোগে অক্রান্ত রোগীদের একই সেন্টার থেকে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। বিশ্বমানের সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতিতে সমৃদ্ধ থাকবে হাসপাতালটি। রোগীদের সকল রেকর্ড রাখা হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে।

উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং তারিখে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের ভিত্তিরপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

[৭] প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল হবে একটি রোগী বান্ধব সবুজ হাসপাতাল। হসপিটাল ইনফরমেশন সেন্টার চালু করার মাধ্যমে রোগী ও হাসপাতাল পরিচালনা হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে। বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাসহ জনসাধারণ এখানে সাশ্রয়ীমূল্যে (Affordable Price) আন্তর্জাতিক মানের (State of Art) চিকিৎসাসেবা পাবেন। এই সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি স্বাস্থ্য সেবার এক নতুন দিগন্ত উম্মোচন করবে। বিশেষ করে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি উন্নত গবেষণা ও প্রশিক্ষণের দিগন্ত প্রসারিত হবে। সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটির মাধ্যমে “বিদেশ নয়, দেশেই সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা” দেয়া সম্ভব হবে। চিকিৎসাসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার সংবিধানের এই স্বীকৃত বাণী বাস্তবায়নে বাংলাদেশ আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে। টিটু ভাই ও রাশেদ ভাই সালাম নিবেন। নিউজটা দেখে দিবেন প্লিজ। নিউজের ভিতরে ইংরেজি শব্দ আছে ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত