প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্ত্রীর সাথে কখন মিথ্যা বলা যাবে? (ভিডিও)

ডেস্ক রিপোর্ট : মিথ্যা ইসলামের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও হারাম গোনাহগুলোর অন্যতম। মিথ্যা সর্বাবস্থায় হারাম।  সবচেয়ে জঘন্যতম মিথ্যা হলো- আল্লাহ বা তার রাসূল (সা.)-এর নামে, হাদিসের নামে বা ধর্মের নামে মিথ্যা বলা। এরপর জঘন্যতম মিথ্যা হলো- মিথ্যার মাধ্যমে কোনো মানুষের অধিকার নষ্ট করা, সম্পদ দখল করা। মিথ্যা কথা বলে কিছু ক্রয়-বিক্রয় করা। বিভিন্ন হাদিসে এমন কাজের জন্য কঠিন অভিশাপ ও কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে।

 

https://www.youtube.com/watch?v=sdhhvDuaBM8

 

ইসলামে হাসি-মশকরা, আনন্দ ও বিনোদনকে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। তাই বলে মিথ্যা বলা বৈধ করা হয়নি। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে হাস্য-রসিকতা করতেন, কিন্তু মিথ্যা পরিহার করতেন। এমন অনেক ঘটনা হাদিসে আছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষ হাসানোর জন্য মিথ্যা বলে তার জন্য ধ্বংস! তার জন্য ধ্বংস! তার জন্য ধ্বংস!’ -তিরমিজি ও আবু দাউদ

আরেক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা বর্জন করে, মশকরা বা কৌতুক করতেও মিথ্যা বলে না, তার জন্য জান্নাতের মধ্যদেশে একটি বাড়ির জন্য আমি দায়িত্ব গ্রহণ করলাম। ’ –আবু দাউদ

মশকরা ও কৌতুকচ্ছলে কাউকে ভয় দেখানোও জায়েয নয়। কোনো এক সফরে সাহারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে ছিলেন। একজন সাহাবি ঘুমিয়েছিলেন। তখন অন্য একজন গিয়ে তার রশিটি নিয়ে আসেন। এতে ঘুমন্ত ব্যক্তি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে উঠে পড়েন। তার ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থা দেখে অন্য সাহাবারা হেসে উঠেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা হাসছ কেন? তারা ঘটনাটি বললে তিনি বলেন, ‘কোনো মুসলিমের জন্য বৈধ নয় যে, সে অন্য মুসলিমকে ভয় পাইয়ে দিবে। ’ –আবু দাউদ

মানুষ হিসেবে আমরা অনেক সময় কৌতুকচ্ছলে কিংবা মন ভুলানোর জন্য শিশুদের সাথে মিথ্যা বলি। অথচ এরূপ মিথ্যাও মিথ্যা এবং গোনাহের কাজ। শুধু তাই নয়, এরূপ মিথ্যার মাধ্যমে আমরা শিশুদেরকে মিথ্যায় অভ্যস্ত করে তুলি এবং মিথ্যার প্রতি তাদের ঘৃণা ও আপত্তি নষ্ট করে দিই।

কিশোর সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আমির বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের বাড়িতে বসাছিলেন, এমতাবস্থায় আমার মা আমাকে ডেকে বলেন, এসো তোমাকে একটি জিনিস দিব। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, তুমি তাকে কি দিতে চাও? তিনি বলেন, আমি তাকে একটি খেজুর দিতে চাই। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তুমি যদি তাকে কিছু না দিতে- তবে তোমার নামে একটি মিথ্যার গোনাহ লেখা হতো। ’ –আবু দাউদ

মিথ্যার অনেক প্রকারভেদ অাছে। ইসলাম সব ধরনের মিথ্যা থেকে বেঁচে থাকার কথা বলে। ইসলাম মিথ্যার বিরুদ্ধে এসন অবস্থান নিয়েছে যে, ইসলামের দৃষ্টিতে নিজের সাথে নিজের মিথ্যা বলাকের গোনাহের কাজ বলে সাব্যস্ত করেছে। যেমন- কেউ যদি নিজের মনে শুধু নিজের জন্যই কোনো বিষয়ের কসম করে যে, আমি অমুক কাজটি করব বা করব না, কিন্তু পরে তার ব্যক্তিগত কসম না রাখতে পারে তবে তাকে কসমের কাফ্‌ফারা দিতে হবে। কাজেই নিজের মনে নিজের জন্য কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা পূরণ করুন, নিজের মনকে মিথ্যায় অভ্যস্ত করবেন না।

শুধু নিশ্চিত মিথ্যাই নয়, মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা আছে এরূপ কথা বলতে বা যা কিছু শোনা যায় সবই বলাবলি করতে নিষেধ করেছেন রাসূলুল্লাহ (সা.)। তিনি বলেন, ‘একজন মানুষের মিথ্যাবাদি হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনবে তাই বলবে। ’ –মুসলিম

এ অপরাধটি আমাদের সমাজের অনেকেই করি। ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র, বিশ্ব ইত্যাদি সম্পর্কে মুখরোচক গল্প, গণমাধ্যমের খবর ইত্যাদি যা কিছু শুনি তাই বলি। অথচ বিষয়টি সঠিক কি-না সে সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কথা বলা ঠিক নয়। যদি কোনো মানুষের ব্যক্তিগত মর্যাদাহানী বা গীবত (পরচর্চা, পরনিন্দা) জাতীয় কিছু না হয়, তবে সে ক্ষেত্রে বড়জোর বলা যেতে পারে যে, অমুক একথা বলেছে বলে শুনেছি, সত্য-মিথ্যা বলতে পারি না।

মিথ্যা মানুষকে পাপের পথে পরিচালিত করে এবং পাপ জাহান্নামে নিয়ে যায়। একজন মানুষ যখন মিথ্যা বলে এবং মিথ্যা বলার সুযোগ খুঁজে বেড়ায় তখন সে এক পর্যায়ে আল্লাহর নিকট মহামিথ্যাবাদী বলে লিখিত হয়ে যায়। তাই আমাদের মিথ্যা থেকে বেঁচে থাকতে হবে। মিথ্যা বর্জন করতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত