প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কমলগঞ্জে বিদ্যালয়ের পাশেই ইটভাটা, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে

স্বপন দেব: [২] জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যালয়ের পাশ ঘেষে ইটভাটা হওয়ায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে ও ঘনবসতি পূর্ণ এলাকা, হাটবাজার ও কৃষিজমির উপর গড়ে উঠেছে এসব ইটের ভাটা। ছড়িয়ে পড়া কালো ধোঁয়ার বিষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা পরিবেশ বিপর্যয়ের সন্মুখীন হচ্ছেন।

[৩] সরেজমিনে এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মুন্সীবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালিপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়, সাজেদা বারি কিন্ডার গার্টেন স্কুল ও বেগম জেবুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনায় গড়ে উঠেছে এসব ইটভাটা।

[৪] জালালিয়া এলাকায় গড়ে তুলেছে ‘মেসার্স মহসিন ব্রিকস’ নামের একটি ইটভাটা। এখানে ভবন পর্যন্ত ইটভাটার ছড়িয়ে পড়েছে। বিদ্যালয় সীমানার তিন পাশের আঙ্গিনায় কৃষিজমির জমির উপর বিশাল ইটভাটায় শারীরিক, মানসিক ও কৃষি উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি গুণছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাঘাত হওয়ায় বেগম জেবুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানালেও অদৃশ্য কারণে কোনো পদক্ষেপই নেয়নি প্রশাসন।

[৫] মুন্সীবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালিপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয় এবং সাজেদা বারি কিন্ডার গার্টেন স্কুল ও মুন্সীবাজার বাজারের পার্শ্ববর্তী কৃষিজমির উপর রয়েছে আরো ১১টি ইটভাটা। বিদ্যালয় আঙিনায় ইটভাটায় প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী ছাড়াও হাটবাজার, লোকালয়ের কয়েক হাজার বাসিন্দা প্রতিনিয়ত শ্বাস-প্রশ্বাসে ইটভাটার ধোঁয়ায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন। এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছেন।

[৬] ইট পুড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাহাড়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং লোকালয় থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোন ইটভাটা নির্মাণ করা যাবে না। কৃষিজমিতে ইটভাটা তৈরীর আইনগত নিষেধ থাকলেও কৃষিজমি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বনাঞ্চলের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে এসব ইট ভাটা গড়ে উঠেছে। বিনষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি।

[৭] জমির উর্বর মাটি ও গাছ গাছালি এসব ইটের ভাটায় চলে যাওয়ায় ফসল ফলানো কৃষি জমির উর্বরাশক্তি হারিয়ে যাচ্ছে। কৃষিজমির উর্বর মাটি দিয়ে এসব ইটভাটায় তৈরি করা হচ্ছে ইট। গ্রামের দরিদ্র কৃষক অর্থাভাবে কেউ কেউ ফসলি জমির উর্বর মাটি ইটভাটায় বিক্রি করছেন। সবকটি ভাটায় পরিবেশ আইন না মেনেই কোনমতে চিমনি লাগিয়ে ইট তৈরির হিড়িক চলছে। ফলে বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিবেশ।

[৮] এলাকাবাসী জানায়, বিদ্যালয় খোলা থাকলে ইটভাটার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নানা অসুখ লেগেই থাকে। পাশাপাশি এলাকার কয়েক হাজার মানুষ ধোঁয়ায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। লেখক আহমদ সিরাজ বলেন, বিষয়টি প্রশাসনকে এর আগেও জানানো হয়েছে। গত বছর উপজেলা পরিষদের আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও এই ভাটা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

[৯] মেসার্স মহসিন ব্রিকসের ব্যবস্থাপক পরিতোশ দেব বলেন, স্কুলের জায়গায় ইটভাটার কোনো কার্যক্রম হচ্ছে না। এই ইটভাটা ২২ বছর আগের। এসময় স্কুলটি প্রতিষ্ঠা হয়নি। এখন ভাটাটি কী করবো।

[১০] কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে ইটভাটা নিয়ে আইন শৃঙ্খলা সভায় উঠেছে। এরপরও ইটভাটার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত