প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উদিসা ইসলাম: ফিরে দেখা, ২৮ ডিসেম্বর ১৯৭২ বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলছেন বঙ্গবন্ধু

উদিসা ইসলাম: বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন, আজ পড়ুন ‘আমাদের নতুন সময়’ ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বরের ঘটনা। ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারা দেশে বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে জনসভা ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দলীয় সভায় অংশ নিচ্ছেন। আগামী ২ জানুয়ারি বরিশালে ও ৯ জানুয়ারি নাটোরের জনসভায় যাবেন। সেখানে বীরোচিত সংবর্ধনা দেওয়া হবে তাকে। তার প্রতিনিধিদের কাজে খুশি হলে আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি এবং প্রধানমন্ত্রীর পদের প্রতি তার বাড়তি আকাক্সক্ষা নেই বলে এর আগের জনসভাগুলোতে জানান। ১৯৭২ সালের ২৯ ডিসেম্বরের পত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর ২৮ ডিসেম্বরের কার্যক্রম নিয়ে বড় পরিসরে কোনো সংবাদ প্রকাশিত হয়নি। এই দিন ভারতের আইনমন্ত্রী এইচ আর গোখলে বাংলাদেশ সফরে আসেন। ৯ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর পরবর্তী নাটোর সফরের বিস্তারিত জানানো হয়।
নাটোরে নির্বাচনি ইশতেহারের বৈঠক : জাতির জনক প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৯ জানুয়ারি নাটোরে এসে পৌঁছালে তাকে বীরোচিত অভ্যর্থনা জানানো হবে বলে পত্রিকার খবরে জানানো হয়। নাটোর থেকে কয়েক মাইল দূরে উত্তরবঙ্গের গণভবনে ৯ জানুয়ারি তিনি এসে পৌঁছাবেন। বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনা জানানোর উদ্দেশ্যে নাটোর ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে একশ’ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। বঙ্গবন্ধু সেখানে আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী কমিটির এক জরুরি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন। গুরুত্বপূর্ণ ওই অধিবেশনে দলের নির্বাচনি ইশতেহার অনুমোদন করা হবে। ১০ জানুয়ারি তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে কমিটির বৈঠক শুরু হবে। উত্তরবঙ্গ গণভবনে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। বৈঠকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে।

একই আদর্শের ওপরে বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে : ভারতের আইনমন্ত্রী শ্রী এইচ আর গোখলে ১৯৭২ সালের এই দিনে বলেন, ‘জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার মৌলনীতি ও একই আদর্শের ওপরে বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্ব গড়ে উঠছে। উভয় দেশের জনগণই একে অপরের আপন ও প্রিয়জন। এদিন বিকালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যালয় প্রাঙ্গণে আইনমন্ত্রী গোখলে এই অভিমত ব্যক্ত করেন। সংবর্ধনা সভায় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ দফতরের মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। ভারতীয় আইনমন্ত্রীকে সমর্থন জানিয়ে সভায় বক্তৃতা দেন আইন ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। ভারতের এই মন্ত্রী তার ভাষণে বীরত্বপূর্ণ স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘ভারতের জনগণ বাংলাদেশের জনগণের এই সংগ্রামের ইতিহাসে প্রশংসায় মুখরিত।’ তিনি বলেন, ‘ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ উভয়ই দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সুদীর্ঘকাল থেকে সংগ্রাম করে এসেছে। জনগণের কল্যাণে উভয় দলই অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে।’

বাংলাদেশের সংবিধানে উচ্চ গতির নিশ্চয়তা : বাংলাদেশ সফররত ভারতের আইনমন্ত্রী এইচ আর গোখলে বাংলাদেশের সংবিধানের প্রশংসা করে বলেন, এটি একটি উত্তম দলিল। জনগণ যাতে প্রগতির পথে এগিয়ে যেতে পারে, সে জন্যই যথেষ্ট নমনীয়তার নিশ্চয়তা বিধান করা হয়েছে এই দলিলে। তিন দিনের সফরে ঢাকায় নেমে তিনি এসব কথা বলেন। গোখলে বলেন, ‘সংবিধানের মৌলিক অন্যান্য অধিকার রক্ষার সঙ্গে সঙ্গে যথেষ্ট স্থিতিস্থাপকতা বিধানের জন্য আপনারা খুব চেষ্টা করেছেন। দেশের অগ্রগতির জন্য কোনও রকম প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে আপস না করে মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় স্থিতিস্থাপকতার মধ্যে ভারসাম্য বিধান করা হয়েছে।’ সংবিধান প্রণয়নে বাংলাদেশ আমাদের (ভারতের) অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত