প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শেখ রোকন: ‘ভাটির দেশ’ হিসেবে বাংলাদেশের অধিকার ও বঞ্চনার কথা

শেখ রোকন: দেশে করোনা আসার আগে, গত ফেব্রুয়ারিতে, আন্তঃসীমান্ত নদী নিয়ে ভারতের পন্ডিচেরিতে এক সেমিনারে গিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছিলাম। ঠিক যেমন পড়েছিলাম ঢাকায় পড়তে এসে। আমার আগে চৌদ্দগোষ্ঠীর কেউ ঢাকায় পড়তে আসেনি। আগের প্রজন্ম বড়জোর রংপুর গেছে, তারও আগের প্রজন্ম পড়তে যেতো গৌহাটির দিকে। তো, ঢাকায় এসে প্রথমদিকে যেসব ‘সাংস্কৃতিক হোঁচট’ খেয়েছিলাম, তার একটি হচ্ছে ‘সেই সেই’। আমি হয়তো কোনও বিষয়ে অভিমত দিচ্ছি, শ্রোতা নিয়মিত বিরতিতে শুধু বলে চলছেন- ‘সেই সেই’। এর অর্থ কী? বুঝেছিলাম আরও পরে।

যাহোক, ফেব্রুয়ারির পন্ডিচেরি ঢাকার মতোই জীবনের প্রথম সফর। কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারী অনেকেই অবশ্য ছিলো পূর্বপরিচিত। গত দুই দশক নদী নিয়ে কাজ করার সুবাদে এই কূটনীতিক, অধ্যাপক, গবেষক, একটিভিস্টদের একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত বন্ধুও হয়ে উঠেছেন। যা হয়, এর আগে বিভিন্ন সময়ে ভারতে গিয়ে অনানুষ্ঠানিক আড্ডায় ‘ভাটির দেশ’ হিসেবে বাংলাদেশের অধিকার ও বঞ্চনার কথা বললে সেখানকার বন্ধুরাও ‘যথাসাধ্য সহমর্মীতা প্রদর্শন করতেন। কিন্তু ‘উজানের দেশ’ হিসেবে কূটনীতি, রাজনীতি ও ভূ-রাজনীতির জটিল হিসাবও কেউ কেউ বুঝিয়ে দিতেন ঠারে ঠারে।

এবার দেখি, পরিস্থিতি ভিন্ন। ভারতীয় বন্ধুরাই বারবার বলছে, তারা ‘ভাটির দেশ’। ব্রহ্মপুত্রে চীনা বিভিন্ন প্রকল্পের জের ধরে ‘ভাটির দেশ’ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে ইত্যাদি। একজন ভারতীয় বন্ধু যখন আড্ডায় এই প্রসঙ্গে ইংরেজিতে নাতিদীর্ঘ আলাপ করছিলেন, আমি শুনছিলাম আর নিয়মিত বিরতিতে বাংলায় বলছিলাম ‘সেই সেই’। তিনি কথা থামিয়ে জানতে চাইলেন, সেই সেই অর্থ কী? আমি বললাম না যে, ঢাকাই শ্রোতা কোনো বিষয়ে পক্ষে বা বিপক্ষে মত দিতে না চাইলে ‘সেই সেই’ বলে থাকে। বরং বললাম, এর অর্থ কঠিন। সহজ করে বুঝতে হলে আপনাকে ঢাকায় যেতে হবে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত