প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরুল হাসান মামুন: আমল যে দলেরই হোক, আমলাদের চুরি-চামারি কখনো থামেনি

কামরুল হাসান মামুন: এই দেশের নারীরাই কেবল ধর্ষণের শিকার নয়, বাংলাদেশ নামক আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিও ক্রমাগত ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। নিচে কেবল দুজন ধর্ষকের কথা কাট পেস্ট করলাম। [১] ৫০০ কোটি টাকা পাচার করেছেন গরিব সরকারি কর্মকর্তা বিডি মিত্র। তিনি কখনো নিউইয়র্কে কখনো টরন্টোতে থাকেন। পেনশনের টাকা উত্তোলনের আবেদনে নিজেকে অর্থকষ্টে থাকা গরিব অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। [২] কানাডায় সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব আব্দুল হালিমের হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্ষমতা ও দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ তৈরি ও বিদেশে রপ্তানিতে বাংলাদেশের আমলারা সিদ্ধহস্ত। আমলাদের সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এ এস এম আব্দুল হালিম কানাডায় বিপুল পরিমাণ সম্পদ করেছেন। এরা দুই আমলের দুই আমলা। আমল যেই দলেরই হোক আমলাদের চুরি চামারি কখনো থামেনি।

১৯৮২ ব্যাচের বিসিএস কর্মকর্তা বিডি মিত্র। স্বেচ্ছায় অবসর নেন ২০১৭ সালের ১৯ নভেম্বর। এরপর উত্তর আমেরিকাই তার ঠিকানা। তার স্ত্রী রাখি মিত্রের নামে নিউইয়র্কে ৩টি বাড়ি আর টরেন্টোতে দুটি বাড়ি রয়েছে। ২ মিলিয়ন ডলার নগদ পরিশোধ করে নিউইয়র্কের জ্যামাইকা এবং ফরেস্ট হিলে ৩টি বাড়ি কিনেছেন। কানাডার টরন্টোতে ৩ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার দিয়ে বাড়ি কিনেছেন দুটি। নিউইয়র্কে নাসির আলী খান পলের কাছ থেকে প্রথম বাড়িটি কেনেন ২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। ওই বাড়ির মূল্য ৭ লাখ ৬০ ডলার হাজার (বাংলাদেশি টাকায় ৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা) নগদে ক্রয় করেন। বাড়ির ঠিকানা ৮৭-৩০ ১৬৯ স্ট্রিট কুইন্স। দ্বিতীয় বাড়ি (৮৫-২৭, ১৬৮ প্লেস, জ্যামাইকা) কেনেন ওই বছরের ডিসেম্বরে। ওই বাড়ির মূল্য ৭ লাখ ৮৫ হাজার ডলার। ওই অর্থও নগদে পরিশোধ করা হয়। ১১৩-৮১ এভিনিউ কিউ গার্ডেনস ঠিকানার তৃতীয় বাড়ি কেনেন ২০১৮ সালের ১২ জুন।

ইয়েলেনা সেডিনার কাছ থেকে ওই বাড়ি কেনা হয় ৭ লাখ ৭৫ হাজার ডলারে। ২০১৭ এর নভেম্বরে অবসর গ্রহণের মাত্র ২ মাসের মধ্যে কানাডার টরন্টোতে কেনেন ১৪ লাখ ডলার (কানাডিয়ান) দিয়ে একটি বাড়ি। সর্বশেষ গত বছর টরেন্টোতেই ৯ লাখ কানাডিয়ান ডলার দিয়ে কিনেছেন আরও একটা বাড়ি। বিডি মিত্রের জন্মস্থান হবিগঞ্জ। ২০১২ সালে তদ্বির করে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে ইকোনমিক মিনিষ্টার পদে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে দেশে এসে তিনি খাদ্য বিভাগে ভারপ্রাপ্ত সচিব হন। চাকরি জীবনে যেখানেই গেছেন সেখানেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে। কিন্তু এসব অভিযোগের পরও তিনি সচিব পর্যন্ত পদোন্নতি পেয়েছেন। সরকারি হিসেব অনুযায়ী তার বিদেশে সম্পদের পরিমান প্রায় ২০০ কোটি টাকা। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৫০০ কোটি টাকারও বেশি তিনি বিদেশে পাচার করেছেন। বিডি মিত্র অধিকাংশ সময়ে নিউইয়র্ক এবং টরন্টোতে থাকেন। তবে মাঝে মধ্যে দেশে থাকেন। তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির মামলা নেই।

ক্ষমতা ও দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ তৈরি ও বিদেশে রপ্তানিতে বাংলাদেশের আমলারা সিদ্ধহস্ত। আমলাদের সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এ এস এম আব্দুল হালিম কানাডায় বিপুল পরিমাণ সম্পদ করেছেন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির ওপর মহলের সাথে ভালো সম্পর্কের পুরষ্কার পান তিনি। নিয়োগ পান মন্ত্রী পরিষদ সচিব হিসেবে। তিনি ২০০৫ সালের নভেম্বর মাসের ২৭ তারিখ নিয়োগ পান এবং ২০০৬ সালের আগস্ট মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত তিনি মন্ত্রী পরিষদের সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। তাকে এই পদে নিয়োগ দিতে তৎকালীন বিএনপি সরকার মন্ত্রী পরিষদ সচিব নিয়োগে জ্যেষ্ঠতার নীতিমালা ভঙ্গ করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিএনপির আমলের দুর্নীতির যে উৎসব শুরু হয়েছিলো, সেই দুর্নীতির টাকার একটি অংশ পেতেন এই মন্ত্রী পরিষদ সচিব। দুর্নীতির টাকা কানাডায় পাচার করে তৈরি করেছেন বিপুল সম্পদ।

কানাডায় তার সম্পদের মধ্যে আছে বিলাসবহুল দুটো বাড়ি, একটি জ্বালানি পাম্প, একটি হোসিয়ারি ও একটি স্টেশনারি শপ। তবে নিজেকে এসব থেকে ছোঁয়ার বাইরে রাখতে কোনো সম্পদই নিজের নামে করেননি তিনি। সবই বানিয়েছেন আত্মীয় স্বজনদের নামে। আত্মীয় স্বজনরাই এসব দেখাশোনা করেন। দায়িত্ব থেকে অবসরের পর বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত হন তিনি। তার স্ত্রী একজন আইনজীবী। আব্দুল হালিম থাকেন ইস্কাটনের একটি বাসায়। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচন করেন আব্দুল হালিম। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত