শিরোনাম
◈ শেষ পর্যন্ত থামেনি উত্তেজনা, ২–২ ড্রয়ে শেষ জাপান-নেদারল্যান্ডস লড়াই ◈ গভীর রাতে টেকনাফে গুলিবর্ষণ, আতঙ্কে নির্ঘুম জুম্মাপাড়ার মানুষ ◈ দিল্লিতে প্রবেশে বাধা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে, ফয়েজের ফেসবুক স্ট্যাটাস ◈ দেড় লাখ মানু‌ষের দেশ কুরাসাও বিশ্বকাপ খেল‌ছে, জার্মা‌নির বিরু‌দ্ধে গোলও ক‌রে‌ছে ◈ ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ◈ এবার ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের যে সুখবর দিলেন ভারপ্রাপ্ত এমডি! ◈ লন্ডন থেকে যাত্রাপথে দুবাইয়ে এআই ফেস রিকগনিশনে ধরা পড়লেন বেনজীর! শনাক্তকরণ নিয়ে চাঞ্চল্য ◈ দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে: দুদক ◈ জামায়াতের দুই নারী সদস্যকে নিয়ে মন্তব্য করায় আবারও উত্তপ্ত সংসদ (ভিডিও) ◈ নারী টি-‌টো‌য়ে‌ন্টি বিশ্বকাপে সুন্দর সূচনা বাংলাদেশের

প্রকাশিত : ২৯ নভেম্বর, ২০২০, ০৪:৪১ সকাল
আপডেট : ২৯ নভেম্বর, ২০২০, ০৪:৪১ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘সুখের খোঁজে’ সংসার ভাঙল ফারিয়ার

সাদেক আলী : পরিচ্ছন্ন অভিনয়শিল্পী হিসেবে প্রীতি কুড়িয়েছিলেন শবনম ফারিয়া। বেশ কিছু কাজের পর ‘দেবী’ ছবিতে অন্য রকম এক চরিত্রে পাওয়া গিয়েছিল তাঁকে। টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ স্বরূপে তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছিল ভক্তদের কাছে। তাঁর বিয়ের খবরে কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি, ‘ক্রাইসিস’ আসবে হাস্যোজ্জ্বল ফারিয়ার জীবনে। বিচ্ছেদের পথে হাঁটতে হবে তাঁকেও। তবে এই বিচ্ছেদকে ‘ক্রাইসিস’ নয়, ইতিবাচকভাবে দেখছেন ফারিয়া। ফেসবুকে এক যৌথ বিবৃতি দিয়ে সেটা খোলাসা করেছেন তাঁরা, ‘যে সুখের জন্য আলাদা হলাম, সেই সুখ যেন আমরা খুঁজে পাই।’

২০১৫ সালে ফেসবুকে ফারিয়া-অপুর পরিচয়। সেখান থেকে বন্ধুত্ব ও প্রেম। তিন বছর পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁরা আংটি বদল করেন। গত বছরের পয়লা ফেব্রুয়ারি জমকালো আনুষ্ঠানিকতায় বিয়ে হয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া ও বেসরকারি চাকরিজীবী হারুন অর রশীদ অপুর। মিরপুর ক্যান্টনমেন্টের চোখজুড়ানো অবকাশযাপন কেন্দ্র ‘জল-জোছনা’য় খোলা আকাশের নিচে ছিল তাঁদের বিয়ের নান্দনিক আয়োজন। আনুষ্ঠানিক বিয়ের ঠিক ১ বছর ৯ মাসের মাথায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছিন্ন হলেন তাঁরা। গতকাল শুক্রবার বিচ্ছেদপত্রে সই করেন দুজন। কেন এমন হলো? জানতে চাইলে প্রথম আলোকে ফারিয়া বলেন, ‘সমস্যা যতটা না আমাদের দুজনের, তার চেয়ে বেশি আমাদের দুই পরিবারের। আমার বাবা নেই, মাকে নিয়ে আমার পরিবার। তার ওপর আমি বিনোদন অঙ্গনে কাজ করি। আর দশজন মেয়ের বিবাহবিচ্ছেদ আর আমার বিবাহবিচ্ছেদ একেবারে ভিন্ন। আমি একটা মেয়ে, আমাদের সমাজ মেয়েদের দোষটাই আগে দেখবে জানি। সে কারণে অনেকভাবে চেষ্টা করেছি, যাতে সংসারটা টেকে। কিন্তু কোনোভাবেই সেটা সম্ভব হয়নি।’

তবে সাবেক স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রকার তিক্ততা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন ফারিয়া। পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিচ্ছেদের এই ধকল সামলাতে চেষ্টা করছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে, কিন্তু ভালোবাসা বা বন্ধুত্বে বিচ্ছেদ হয়নি। যত দিন বেঁচে আছি, আমাদের ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব থাকবে।’ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তাঁরা লিখেছেন, ‘শুধু বৈবাহিক বন্ধন থেকে আমাদের সম্পর্কের ইতি টানলাম। এ ঘটনা আমাদের জীবনের গতিকে হয়তো রোধ করবে, ছন্দপতন আনবে, কিন্তু জীবন তো থেমে থাকবে না।’

বিচ্ছেদের পর দীর্ঘ এক পোস্টে ফারিয়া লিখেছেন, ‘আমাদের জীবনে কিছু মানুষ আসে। তাদের কেউ কেউ স্থায়ী হয়, কেউ কেউ কিছু কারণে স্থায়িত্ব ধরে রাখতে পারে না। আমার মা সব সময় একটা কথা বলেন, “আল্লাহর হুকুম ছাড়া গাছের একটা পাতাও নড়ে না, আমরা শুধু চেষ্টা করতে পারি!” ঠিক সেভাবেই আমি আর অপু অনেক দিন ধরেই একসঙ্গে থাকার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দেখলাম, বিষয়টা একপর্যায়ে খুব কঠিন হয়ে যায়। “মানুষ কী বলবে” ভেবে নিজেদের ওপর একটু বেশিই টর্চার করে ফেলছিলাম আমরা। “জীবনটা অনেক ছোট, এত কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকার কী দরকার?” ভেবে এ বছরের শুরু থেকেই সিদ্ধান্তে আসি, আমরা আর একসঙ্গে থেকে কষ্টে করতে চাই না। তবু পরস্পরকে বুঝতে বছরখানেক সময় নিয়েছি। ফাইনালি “আল্লাহ্ যা করেন ভালোর জন্যেই করেন” ভেবে আমরা আমাদের প্রায় আড়াই বছরের বৈবাহিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে আবারও পুরানো বন্ধুত্বে ফিরে গেছি। অপুর জন্যে দোয়া, ভালোবাসা আর শুভকামনা। যে সুখের জন্যে আমরা আলাদা হলাম, আমরা যেন সেই সুখ খুঁজে পাই, সবাই সেই দোয়া করবেন।’

ঘটনাকে অন্যভাবে না ভাবার অনুরোধ জানিয়ে ফারিয়া লিখেছেন, ‘দয়া করে “মিডিয়ার বিয়ে টেকে না” ধরনের কথা বলে আমাদের কারণে আমার অন্য সহকর্মীদের ছোট করবেন না। আমরা সম্পূর্ণ “পারিবারিক কারণে”, পারিবারিকভাবে, পারিবারিক সম্মতিতেই বিয়ের মতো ইনস্টিটিউশন থেকে বের হয়ে এসেছি। আমাদের কখনো ভালোবাসা বা বিশ্বাসের অভাব ছিল না, হবেও না। দুজন মানুষের বিবাহবিচ্ছেদ মানে, দুটো পরিবারের বিচ্ছেদ, অনেক স্মৃতির বিচ্ছেদ। বিচ্ছেদটা কারও জন্য সুখকর অনুভূতি না। তবু আমরা পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে চাই।’ প্রথম আলো

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়