প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী : সুতরাং সাধু সাবধান

দীপক চৌধুরী: ‘চিরচেনা’ আইনী পথে আমরা চলে থাকি। কিন্তু যে আইন সাধারণ মানুষের স্বার্থ দেখে না, যে আইন মানুষের সাংবিধানিক অধিকারের, মত প্রকাশের স্বাধীন কথা বলবে- সেটাই মানুষকে আকৃষ্ট করবে। সমাজের প্রতি আমাদের যে একটি দায়বদ্ধতা রয়েছে তা যেন ইচ্ছা করেই আমরা এড়িয়ে চলি। মাইণ্ড এইড হাসপাতালের মতে প্রাইভেট হাসপাতাল কী দেশে একটিই? পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুল করিমের মৃত্যু আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে এদেশে ‘আইন’ বলতে একটি ‘শব্দ’ রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তার এভাবে মৃত্যু না হলে আমরা এই হাসপাতালের অন্দরের কথা, নেপথ্যে থাকা অনেক কিছুই জানতে পারতাম না। হাজি সেলিম কী একদিনে এমন ‘দাপুটে হাজি সেলিম’ হয়েছেন? তাঁকে জমি দখল করতে কে সাহায্য করেছে? নিশ্চয়ই ভূতের কাজ নয়! দীর্ঘ বিরতির পর হাজি সেলিমের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন পুরোনো মামলা নড়াচড়া করছে এখন। হাজি সেলিমের দুর্নীতির মামলার নথি তলবের ঘটনা একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত হাজি সেলিমের ছেলের বড় পরিচয় তিনি একজন নির্বাচিত কাউন্সিলর।

তিনি সংসদের স্টিকার লাগানো পিতার গাড়িটি কেন ব্যবহার করেছিলেন? বাড়াবাড়ি ভালো নয়। বাড়ে বন পোড়ে। আলাপ-আলোচনায় এসব কথা উদাহরণ হিসেবে আমরা ব্যবহার করি। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে, শুধু বাড়াবাড়ি নয়,ক্ষমতাপ্রাপ্ত মানুষের সীমাহীন বর্বরতা, অনাচার, অবিচার, দুর্নীতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। একটা জিনিস আমরা সহজেই ভুলে যাই, লাঠির শাসন চূড়ান্ত নয়। লাঠিও ভাঙ্গে। ওই যে বললাম, বর্বরতা। মানুষের বর্বরতা দেখেছি, আদাবরের মাইন্ড এইডে। সেখানে ভর্তির কয়েক মিনিটের মাথায় মারা যান পুলিশের সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম। পরে প্রতিষ্ঠানটির সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ নিশ্চিত হয় সেখানকার কর্মচারীদের মারধরে আনিসুল করিমের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসার নামে বর্ববর দেছে আমরা ফুটেজে। মামলা হেয়েছে, আসামিদেরও গ্রেপ্তারে ক্ষুব্ধ মানুষ মানসিক স্বস্তিতে। কিন্তু ঘটনা অন্যদিকে মোড় নিয়েছে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার ও রিমাণ্ডের পর। চিকিৎসককে গ্রেপ্তারের পর তেজগাঁও জোনের পুলিশের ডিসি হারুন-রশিদ সাংবাদিক ডেকে সম্মেলন করে যে ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজে’ কথা বলেছেন তাতে সংশ্লিষ্টদের অনেকেই ক্ষুব্ধ। পুলিশ কর্মকর্তার অভিযোগ হলো, আনিসুল করিমের চিকিৎসায় ডা. আবদুল্লাহ আল মামুনের সংশ্লিষ্টতা ছিলো। অপরদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, প্রশ্নই আসে না। পত্রিকায় যা দেখলাম তা হচ্ছে : বৃহস্পতিবার (১৯/১১/২০) হাসপাতালের পরিচালক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাসপাতালের তদন্ত প্রতিবেদনে এটা প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো পর্যায়েই ডা. আবদুল্লাহ আল মামুনের সংশ্লিষ্টতা ছিলো না।

হাসপাতালের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডা. শাহানা পারভীন আউটডোর টিকেটে প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে দেন। রোগীর সঙ্গে আগত পুলিশ সদস্যদের সিসিতে আউট লিখে স্বাক্ষর দেন। তারপর রোগী আনিসুল করিম, তার বোন, ভগ্নিপতি এবং আগত পুলিশ সদস্যরা হাসপাতাল ছেড়ে যান। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস (বিএপি) বলেছে, পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুল করিমের মৃত্যুর ঘটনায় ডা. মামুনের সংশ্লিষ্টতা ছিলো না। মামুন মুক্তি না পেলে কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন মনোরোগ চিকিৎসকরা।
সংবাদ সম্মেলনে বিএপির সভাপতি অধ্যাপক ওয়াজিউল আলম চৌধুরীর পক্ষে লিখিত বক্তব্যে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অধ্যাপক আজিজুল ইসলাম বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের ওই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সেদিন যা ঘটেছিল বলে জানা গেছে, বেলা ৯টার দিকে রোগীর ভগ্নিপতি এবং উপস্থিত স্বজনরা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শাহানা পারভীনের সঙ্গে দেখা করেন।

রোগীর ভগ্নিপতি ডা. শাহানার পূর্ব পরিচিত। রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে জরুরিভিত্তিতে ডা. শাহানা পারভীন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। কিন্তু তার ভগ্নিপতিসহ অন্যান্য স্বজনরা তাকে ভর্তি করতে অসম্মত হন। পরবর্তীকালে তারা ভালো বেসরকারি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করাতে উপস্থিত চিকিৎসদের কাছে পরামর্শ চান। চিকিৎসকরা কয়েকটি প্রাইভেট হাসপাতালের নাম উচ্চারণ করেন। এরমধ্যে মাইন্ড এইড হাসপাতালের নামও ছিলো। আনিসুল করিমকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত