প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাসুদ রানা: ইসলামবাদ নিয়ে প্রশ্নের উত্তর ও কিছু প্রাসঙ্গিক কথা

মাসুদ রানা: ফেইসবুকে আমার একটি পৌস্টের নীচে মন্তব্যের ঘরে এক পাঠক প্রশ্ন করেছেন, “ইসলামবাদী বলতে কি বোঝায়?” আমার ধারণা, প্রশ্নটি অনেকেরই। তাই এর জবাব মন্তব্যের ঘরে না দিয়ে আলাদা পৌস্ট হিসেবে দিচ্ছি। যে বা যারা ইসলামিজম বা ইসলামবাদের অনুসারী, তাকে বা তাদেরকে ইসলামিস্ট বা ইসলামবাদী বলা হয়। এই উত্তর যথেষ্ট নয় বিধায় আপনার দ্বিতীয় প্রশ্ন হতে পারেঃ “ইসলামিজম বা ইসলামবাদ বলতে কী বুঝায়?”।

ইসলামিজম বা ইসলামবাদ হচ্ছে একটি রাজনৈতিক কনস্ট্রাক্ট ও কনসেপ্ট, যা অন্যান্য যে-কোনো রাজনৈতিক কনস্ট্রাক্ট ও কনসেপ্টের মতোই নানাভাবে সংজ্ঞায়িত এবং সে-অর্থে বিতর্কিত। সংক্ষেপে, ইসলামবাদ বলতে একটি আদর্শ ও সর্বাত্মক রাজনৈতিক-সাংগঠনিক আন্দোলন বুঝায়, যা প্রয়োজনে শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে দেশে-দেশে এবং বিশ্বজুড়ে এক-কেন্দ্রিক ইসলামিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তবে, তারও রকম-ফের আছে। যেমন, সুন্নি ইসলামবাদ, শিয়া ইসলামবাদ, ওয়াহাবী ইসলামবাদ, মওদুদী ইসলামবাদ ইত্যাদি।

ধর্ম হিসেবে ইসলামের সাথে ইসলামবাদের পার্থক্য আছে। ধর্ম হিসেবে ইসলাম হচ্ছে যে-কোনো দেশের নাগরিকের কাছে একটি ঐচ্ছিক জীবন-বিধান, যা তারা গ্রহণ করতে পারে কিংবা প্রত্যাখ্যানও করতে পারে। এ-পর্যায়ে ইসলাম শান্তি ও স্বাধীনতার ধর্ম। কারণ, এতে প্রিস্টহুড নেই বলে, অনুসারীদের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্ব নেই।

কিন্তু ইসলামিজম বা ইসলামবাদ নাগরিকদের ইচ্ছার ভিত্তিতে নয়, বরং এই জিহাদীদের ইচ্ছার ভিত্তিতে তাদের ধারণায় মঙ্গলার্থে সকলের জন্যে ইসলামিক জীবন-ব্যবস্থা, সমাজ-ব্যবস্থা, শিক্ষা-ব্যবস্থা, বিচার-ব্যবস্থা, রাষ্ট্র-ব্যবস্থা ও বিশ্ব-ব্যবস্থার সজোর আরোপ করতে চায়।

আর, এখানেই কমিউনিস্টদের সাথে ইসলামিস্টদের দারুণ সাদৃশ্য। ইসলামিস্টরা চায় কুরআন-নির্ভর আল্লাহ্র শাসন বা আল্লাহ্র একনায়কত্ব, আর কমিউনিস্টরা চায় কমিউনিস্ট ইশতেহার-নির্ভর সর্বহারার একনায়কত্ব। ইসলামিস্ট ও কমিউনিস্টদের অভিন্ন কৌশল হচ্ছে এই যে, উভয়ই শুরুতে গণতন্ত্রের বিরোধিতা না-করে বরং গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে তাদের ভবিষ্যত একনায়কী শাসনের স্বরূপ চেপে বরং মঙ্গলবার্তা প্রচার করে রাজনৈতিকভাবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু তারা শুরু থেকেই সংকল্পবদ্ধ থাকে যে, তারা ভালোয়-ভালোয় যদি ভৌটে জিতেও ক্ষমতায় যেতে পারে, শেষপর্যন্ত তারা তাদের সর্বাত্মক আদর্শিক শাসন প্রতিষ্ঠা করবে।

মানুষের মৌলিক ধর্ম হচ্ছে ব্যক্তির স্বাধীনতা। কিন্তু এক ব্যক্তির স্বাধীনতা অন্য ব্যক্তির পরাধীনতার কারণ হয় বলেই যতো প্রকারের ধর্ম ও আদর্শের সৃষ্টি, যার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের স্বাধীনতা নিরঙ্কুশ করা, যদিও কোনো ধর্ম বা আদর্শই সকলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারেনি। যে-সমাজে ব্যক্তির স্বাধীনতা মৌলিক বলে স্বীকৃত, সে-সমাজে রাষ্ট্রের হওয়া চাই ধর্মনিরপেক্ষ ও আদর্শনিরপেক্ষ। ০৭/১১/২০২০। লণ্ডন, ইংল্যাণ্ড। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত