প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরুল হাসান মামুন: বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষায় নীরবে একটা প্যারাডাইম শিফট ঘটে গেলো

কামরুল হাসান মামুন: ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও অধ্যাপক মাহবুব মজুমদারের হাত ধরে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষায় নীরবে একটা প্যারাডাইম শিফট ঘটে গেল। এটা নিয়ে কোথাও কোন আলোচনা দেখছি না। যার নেতৃত্বে এই প্যারাডাইম শিফট ঘটেছে তিনি হলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক মাহবুব মজুমদার। তিনি বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের কোচ এবং মেন্টর। তার নেতৃত্বে আমাদের কলেজ (উচ্চ মাধ্যমিক) লেভেলের ছাত্ররা আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে দিন যতই যাচ্ছে ততই আরো বেশি সফল হচ্ছে। এইবার টীম বাংলাদেশের একজন সিলভার এবং পাঁচ জন ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে। যেই ছাত্র সিলভার পদক পেয়েছে সে ইতিমধ্যেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। প্রতি বছরই এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ভালো করারা আমেরিকার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে আসছে।

কিন্তু এইবার একটি ব্যতিক্রম ঘটেছে। এইবার গণিত অলিম্পিয়াডে পদক প্রাপ্তদের মধ্যে তিনজন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে। এই ব্যাপারে মাহবুব মজুমদারের কৃতিত্বতো অনস্বীকার্য একই সাথে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনও কৃতিত্বের দাবিদার। ২০১৯ সালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় স্যার আবেদ স্কলারশিপ নামে একটি স্কলারশিপ প্রোগ্রাম চালু করে। এই স্কলারশিপের অধীনে ৮ জন ছাত্র “whiz kids of mathematics” এই স্কলারশিপ পেয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। এদের তিন জন হলো এইবারের ব্রোঞ্জ ম্যাডালিস্ট বাকি ৫ জন হলো ১৫ জনের গণিত অলিম্পিয়াড স্কোয়াডের সদস্য। এদের প্রত্যেকেই পশ্চিমা দেশের ভালো কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারতো। তা সত্বেও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারণ ওখানে আছে মাহবুব মজুমদার আর অধ্যাপক Tibra Ali! এই দুইজন না থাকলে হয়ত স্কলারশিপ দিলেও এখানে ভর্তি হতো না। এই এক দুইজন মানুষ কি সাংঘাতিক ইমপাক্ট ফেলতে পারে তা বুঝতে পারেন?

এইসব আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্ভব না কারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃস্থানীয় পদে যারা আছেন তাদের এইসব নিয়ে কোন চিন্তাই নাই। তাদের প্রায়োরিটি অন্য কোন জিনিসে অন্য কোথাও। সেই অন্য কোথাও আসলে রাজনীতি। শিক্ষা, গবেষনা, শিক্ষায় মানের উন্নয়ন ইত্যাদি নিয়ে তাদের তেমন কোন ভিশন নেই বললেই চলে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে এই ড্রাইভিং ফোর্স না থাকার কারণেই আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দিনদিন আদমজী পাটকল, চিনিকল, টেলিটক ইত্যাদি সরকারি প্রতিষ্ঠানের fate বরণ করবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত