প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সম্পত্তি লিখে নিয়ে বাবার পায়ে দড়ি দিলো সন্তানরা

ডেস্ক রিপোর্ট: বাঙালি নাকি আবেগপ্রবণ জাতি। পারিবারিক বন্ধনের ক্ষেত্রেও বাঙালির রয়েছে হাজার বছরের ঐতিহ্য। অথচ বৃদ্ধাশ্রমগুলো দিন দিন ভরে যাচ্ছে। নিজের হাতে গড়া সংসারে আজ বৃদ্ধদের কোনো ঠাঁই নেই। সেটা অবশ্য সমাজের উপরতলার বাস্তবতা। আর অসচ্ছল পরিবারগুলো তো বয়স্কদের ব্যাপারে একেবারেই নির্মম। আয়-রোজগারের ক্ষমতা না থাকলে কেড়ে নেওয়া হয় তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও। আর মধ্যবিত্তের বয়স্করা বিড়ম্বনায় পড়েন অসুস্থ হলে। কে চিকিৎসার ব্যয় বহন করবে তা নিয়ে রীতিমতো লড়াই শুরু হয়ে যায়। কারও এক ছেলে হলে লড়াই হয় স্ত্রীর সঙ্গে। যে মা-বাবা সন্তান জন্ম দিলেন, তিল তিল করে বড় করে তুললেন, মানুষ করলেন- বিয়ের পর তারাই হয়ে যান পর। সন্তানের প্রতি মা-বাবার যে অধিকার, তা থেকে হন বঞ্চিত।

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার শরিয়া গ্রামের অশীতিপর বৃদ্ধ মজিবর ফকির। গ্রামে যিনি মজি ফকির হিসেবেই বেশি পরিচিত। বছর দুয়েক আগেও সুস্থ-স্বাভাবিক ছিলেন। কিন্তু এখন তার পায়ে পড়েছে দড়ি। খোলা কুঁড়েঘরের পাশে টয়লেটসংলগ্ন একটি চকিতেই বসে থাকেন সারাদিন। লোক দেখলেই বলেন- ‘খাবার দে হামাক খাবার দে।’ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার, চিকিৎসাসহ অন্যান্য সেবা-যত্ন না পাওয়ায় মজি ফকির এখন অনেকটাই মানসিক ভারসাম্যহীন।

স্থানীয়রা জানান, মৃত বয়তুল্লাহ ফকিরের ছেলে মজিবর ফকির। বছর দুয়েক আগে ছেলেদের মাঝে কিছু সম্পত্তি লিখে দেন। কৌশল করে বড় ছেলে আবদুল খালেক এক সময় বসতবাড়িসহ বাকি সম্পত্তির অধিকাংশই নিজের নামে লিখে নেন। এর পর থেকেই কিছুটা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন ওই বৃদ্ধ। রাস্তায় বের হয়ে অস্বাভাবিক আচরণ, দোকানে গিয়ে খাবার ছিনিয়ে খেয়ে ফেলাসহ নানা রকমের পাগলামি শুরু করেন। কিন্তু কোনো চিকিৎসা না করেই এক বছর ধরে পায়ে দড়ি বেঁধে রেখেছে তার সন্তানরা। বিষয়টি খুবই অমানবিক।

মজিবরের দ্বিতীয় স্ত্রী ফরিদা বেগম দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার, সুচিকিৎসা, সেবা-যত্ন না পাওয়ায় এবং দড়িতে বেঁধে রাখার কারণে দিন দিন মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছেন ওই বৃদ্ধ। বড় ছেলে তিনবেলা যে পরিমাণ খাবার দেয় তাতে ক্ষুধা মিটে না তার। এ কারণে তার কাছে যারাই যায় মজিবর তাদের কাছে খাবার চান। তিনি আরও বলেন, ‘বড় ছেলে বসতবাড়িসহ বেশি সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর থেকেই আমার স্বামীর মাথার সমস্যা দেখা দেয়। অভাবের সংসার তাই আমাকে মেয়ে-জামাইয়ের ওপর নির্ভর হয়ে থাকতে হয়। তার পরও যতটুকু পারি তাকে যত্ন করার চেষ্টা করি। তবে অধিকাংশ সময় মেয়েদের বাড়িতেই থাকতে হয় আমাকে। তখন স্বামীকে দেখার আর কেউ থাকে না। নোংরা ওই কুঁড়েঘরেই তাকে অবহেলা আর অযত্নে পড়ে থাকতে হয়। সারাদিন মশা-মাছির সঙ্গেই যুদ্ধ করতে হয় তাকে। সুচিকিৎসা, ভালো সেবা-যতœ, পর্যাপ্ত খাবার ও মুক্ত পরিবেশ পেলে তিনি হয়তো সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।’

মজিবরের বড় ছেলে আবদুল খালেক অবশ্য বলেন, ‘জ্ঞান থাকতেই বাপ আমাদেরকে সম্পত্তি দিয়েছেন। আমি তাকে তিনবেলা খাবার দিই। তবে তার কোনো চিকিৎসা এখন পর্যন্ত করানো হয়নি। অস্বাভাবিক আচরণ করার কারণে পায়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছি।’

একডালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল লতিফ বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। আমি খোঁজখবর নেব। স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে যদি কোনো কিছু করার সুযোগ থাকে অবশ্যই তা করব।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, ‘ইতিপূর্বেও আমরা এ রকম একাধিক ব্যক্তিকে সরকারি সহায়তা দিয়েছি। মজিবর ফকিরের খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত তার জন্য কিছু করার পদক্ষেপ নেব। এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থাও করার চেষ্টা করব।’ সূত্র: আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত