প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কোভিডে আয় কমলেও মানিকগঞ্জে বেড়েছে বাজার দর

জাহিদুল হক: [২] মানিকগঞ্জে করোনার প্রভাবে নানা পেশার মানুষের আয় কমে গেলেও বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমেনি। একদিকে করোনায় আয় রোজগার কমে যাওয়া অন্যদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়াতে বিপাকে পড়েছেন সাধারন মানুষ।
চালের বাজারে বেড়েছে হাজার টাকা

[৩] করোনা শুরুর আগে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এখন তা সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে। করোনাকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা চালের দাম দিগুণ বাড়িয়েছেন বলে দাবি সাধারন ক্রেতাদের। করোনা শুরুর আগে মিনিকেট চাল ১ বস্তা ( ৫০ কেজি) ২ হাজার একশো টাকা হলেও এখন তা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার আটশো টাকা, উনত্রিশ ও আটাশ চাল প্রতি বস্তা ১ হাজার পাঁচশো টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার পাঁচশো টাকা,আতব চাল প্রতি বস্তা ১ হাজার তিনশো টাকার বস্তা হয়েছে ২ হাজার দুইশো টাকা।

[৪] উচুঁটিয়া এলাকার টুটুল মিয়া জানান, স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করে সংসার চালাতাম। করোনাকালীন সময়ে কারখানার উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাকরি চলে যায়। তার মধ্যে চালের দাম দিগুণ হওয়ায় পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছি৷ সবধরনের চালের বস্তায় প্রায় ১ হাজার টাকা করে বেড়েছে। করোনায় লক ডাউনের সময়ে সাধারণ মানুষ বাড়তি চাল কেনার সুযোগে দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। এখনও বন্যার দোহাই দিয়ে সেই দামই বহাল রয়েছে।

[৫] খুচরা ব্যবসায়ী মো.হাবিব মিয়া জানান, চাল সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও বন্যায় বিভিন্ন এলাকায় ধানের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া ধানের দামও বেড়ে গেছে। ফলে চালের মিলারদারদের বাড়তি দামে ধান কেনার ফলে চালের দাম বেড়েছে । মিলাররা চালের দাম বাড়ানোর ফলে আমাদেরও বাড়তি মূলধন বিনিয়োগ করতে হচ্ছে।
দুধ বাজার চালের মোকামের ভাই ভাই রাইস এজেন্সীর বজলুর রহমান জানান, দিনাজপুর, কুষ্টিয়াসহ স্থানীয় কিছু মিলারদের কাছ থেকে আমরা চাল ক্রয় করে খুচরা বাজারে বিক্রি করি৷ মিলাররা চালের দাম বাড়ালে আমাদের কেও বাড়তি দামে চাল কিনতে হয়৷

[৬] পেঁয়াজের দাম কমলেও স্বস্তি নেই গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ৫ টাকা কমলেও পেঁয়াজের বাজারে স্বস্তি নেই সাধারন মানুষের। মাস খানেক আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ টাকা দরে কেনার সুযোগ থাকলেও এখন কিনতে হচ্ছে ৮০ টাকা দরে।

[৭] খুচরা বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা হাফিজুর রহমান জানান, প্রায় ১ মাস আগে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। আড়তদারদের বেশি দামে আমদানি করাতে পেঁয়াজ বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।

[৮] আড়তদার মিল্টন রহমান জানান, অনেক সময় পর্যাপ্ত পেঁয়াজ থাকার পরও আমদানিকারকদের কাছ থেকে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারে তার দাম বেড়ে যাচ্ছে। সবজি বাজারে আগুন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সাথে সাথে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। এ জেলায় টমেটো,লাউ,কুমড়া,ঢেড়স,পেঁপে,ঝিঙ্গার পর্যাপ্ত আবাদ হলেও সম্প্রতি বন্যায় বেশিরভাগ সবজির আবাদ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে প্রতিদিনই বাজারে সবজির দাম বেড়েই চলেছে।

[৯] ইয়াসিন নামের এক সবজি ক্রেতা জানান,সবজির বাজার তো পুরাই আগুন। প্রায়ই প্রতিদিন সবজির দাম বাড়ছে। কোন সবজিই আগের দামে নেই। কিছু একটা সবজি কিনতে গেলেই গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

[১০] সবজি খুচরা বিক্রতা মো. তৈয়ব মিয়া জানান,সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকায় দাম বেড়েছে। সব ধরনের সবজি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাইকার বাজারে সবজির যোগান কম।

[১১] ডিমের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ কম । কিন্তু কম আয়ের মানুষের কাছে ডিমই একমাত্র ভরসা। কিন্তু সেই ডিমের দামও বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের বাজার খরচ বেড়েই চলেছে।

[১২] মো. আলমগীর নামে ডিমের পাইকার ব্যবসায়ী জানান, বন্যায় জেলার বেশিরভাগ ডিম উৎপাদনকারী পোল্ট্র ফার্ম পানিতে ডুবে যায়। ফলে ডিমের সরবরাহ কমে গেছে। আগে ১০ টি পোল্ট্রি ফার্ম থেকে ডিম কেনার সুযোগ ছিল। এখন মাত্র ৪ টি পোল্ট্রি ফার্ম থেকে ডিম পাচ্ছি।

[১৩] কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ( ক্যাব) মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক এ.বি.এম শাসুন্নবী তুলিপ জানান,বন্যার পানিতে সবজির ক্ষেত ও পোল্ট্রি মুরগির ফার্ম ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। এ জেলায় বেশিরভাগ চাল রাজশাহী,নাটোর,কুষ্টিয়াসহ অন্যান্য জেলা থেকে সরবরাহ করা হয়। চালের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও ওই সকল জেলার মিলার সিন্ডিকেটের দাম বৃদ্ধির কারনে এ জেলার আমদানিকারকদের বাড়তি দামে চাল কিনতে হচ্ছে। পেঁয়াজের বাজারেও দাম বৃদ্ধির জন্যও সিন্ডিকেটই দায়ি। এসকল কারনেই চাল ও পেঁয়াজের পাইকার ও খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে। প্রশাসনের সর্বাত্বক প্রচেষ্টায় এ সকল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বাজার দর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

[১৪] জেলা ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, কয়েকদিন আগে মন্ত্রণালয় চালের দাম নির্ধারন করে দিয়েছি। চালের মিলাররা এ দামে চাল বিক্রি করলে পাইকার ও খুচরা বাজারে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার সুযোগ থাকবো। ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর পক্ষ থেকে সব সময় জেলার বিভিন্ন বাজারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

সর্বাধিক পঠিত