প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চিরশান্তির সবক দিয়েছে কোরআন

আল ফাতাহ মামুন: সালাম থেকে ইসলাম। সালাম শব্দের অর্থ শান্তি। প্রত্যেক মুসলমানই একেকজন শান্তির পায়রা। মুসলমানরা একে-অন্যকে ‘সালাম-শান্তি’ বলে অভিবাদন জানায়।

মেশকাতের একটি হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘এক মুসলমান আরেক মুসলমানের সঙ্গে দেখা হলে প্রথম যে কথা বলবে তা হল সালাম বা শান্তি। তোমরা পরস্পর শান্তি বিনিময় করে বা আল্লাহর কাছে শান্তির দোয়া করে আলাপচারিতা এবং অন্যান্য কাজকর্ম শুরু কর।’

আরেকটি হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমার ভাই থেকে যদি একটি পাথর, গাছ বা ঘরের আড়ালও হও, তারপর আবার তোমার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলে শান্তি কামনা করে পারস্পরিক কথা বা কাজ শুরু কর।’ (দুটো হাদিসই মিশকাত শরিফের কিতাবুল আদবের বাবুস সালাম থেকে নেয়া)।

প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ এক প্রবন্ধে লেখেন, মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় আচার নামাজের শেষে ডানে এবং বামে সালাম বলে তবেই নামাজ সমাপ্ত করতে হয়।

এর তাৎপর্য হল- প্রতিটি মুসলমান ঘোষণা করে, আমার ডানে যারা অর্থাৎ বন্ধু-আপনজন-শুভাকাক্সক্ষী তাদের জন্য শান্তি এবং আমার বামে যারা অর্থাৎ শত্রু-দুশমন-দুর্জন তাদের জন্যও শান্তি।

ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদের জীবনী পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পৃথিবীতে একমাত্র শান্তি প্রতিষ্ঠার মিশন নিয়েই তিনি এসেছিলেন। শান্তি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো উদ্দেশ্য নবীজির ছিল না। নবুয়্যাতি জীবনের আগে এবং পরে তিনি যতগুলো পদক্ষেপ নিয়েছেন সবকিছুর উদ্দেশ্য একটিই ছিল- শান্তি। শান্তিময় পরিবেশের বিপরীত অবস্থা বোঝানোর জন্য পবিত্র কোরআনে ফাসাদ শব্দ ব্যবহার হয়েছে।

সমাজে যারা শান্তি বিনষ্ট করে কোরআন তাদের ‘মুফসিদিন’ বলেছে। সূরা তওবায় আল্লাহতায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘হে নবী! যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার প্রভুর প্রেমময় শান্তির ধর্ম প্রতিষ্ঠিত না হয়ে যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মুফসিদিন-শান্তি বিনষ্টকারীদের যেখানে পাবে হত্যা করবে।’

পরম প্রেমময় আল্লাহ শান্তি বিনষ্টকারীদের ব্যাপারে কত কঠোর এ আয়াত থেকেই বোঝা যায়। আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘সমাজে শান্তি বিনষ্ট করা হত্যার চেয়েও ভয়াবহ অপরাধ।’

আফসোস! আজ বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, অন্যরা তো বটেই মুসলমানরাও দেদার শান্তি বিনষ্ট করে যাচ্ছে। ইহুদি-খ্রিস্টানরা যা করার সাহস করে না, আরব বিশ্বের রাজা-বাদশাহদের তা করতে বুক কাঁপে না।

ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, লাদাখ, উইঘুরসহ যেখানেই আজ মুসলমানদের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হচ্ছে, প্রমাণিত হয়েছে এ সবের পেছনে মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানরাই জড়িত।

মুসলমানরা যেদিন থেকে কোরআন এবং রাসূলের আদর্শ ছেড়ে দিয়েছে, সেদিন থেকেই তাদের জীবনে অশান্তির আজাব শুরু হয়ে গেছে। মুসলমানদের ঘরে-বাইরে, আত্মায় কোথাও আজ আর প্রশান্তির বৃষ্টি ঝরে না। ঝরবেই বা কীভাবে, তারা তো কোরআন ছেড়ে অন্যের কাছে ভিক্ষার হাত পেতে বসে আছে।

কোরআন শুধু দুনিয়ার শান্তির কথা বলেনি। নবীজি (সা.) মানুষকে আখেরাতের শান্তির স্বপ্নও দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হে মানুষ! আখেরাতে তোমাদের জন্য এক অনাবিল সুন্দর শান্তির জগৎ রয়েছে। সে শান্তিময় জগৎ পেতে চাইলে, দু’দিনের এ দুনিয়ায় শান্তি ছড়াও, শান্তি বিলাও।

কোরআন জান্নাতের সুখ ও সৌন্দর্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছে, ‘সেখানে তারা কোনো অশান্তি পাবে না, অশালীন কথা পর্যন্তও শুনবে না।

তারা একে-অন্যকে শুধু একটি কথাই বলবে, তা হচ্ছে সালামান! সালামা! শান্তি! শান্তি!’ পাঠক! আসুন শপথ নিই, আজ থেকে আমরা শান্তি বিলাব, শান্তি ছড়াব, অশান্তির বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে রুখে দাঁড়াব।

সূত্র : যুগান্তর

সর্বাধিক পঠিত