প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরুল হাসান নাসিম: ‘বয়কট সালাহউদ্দীন’ নিয়ে প্রজন্মের চলমান আন্দোলনটি জমছে না

কামরুল হাসান নাসিম: ফুটবল প্রিয় মানুষেরা, সু-চিকিৎসা চেয়ে ‘দাবিদার’ হওয়া যায় কিন্তু চিকিৎসক যদি সবাই হয়ে পড়ে, তাহলে তো সমস্যাই। ফুটবল নিয়ে প্রজন্মের চলমান আন্দোলনটি জমছে না। তারা বলছে, ব্যক্তি বিশেষকে বয়কট করুন, আবার কারও জন্য ভোটও চাইছে। সাংঘর্ষিক এমন সাংস্কৃতিক উদ্যোগটি তাই, কারো পক্ষে লড়াই করবার মতো হয়ে যাচ্ছে। যারা আবার, রাস্তার ছেলে বলে কটাক্ষ করছে, তারা জিতেও যাচ্ছে। কারণ আমি বললাম, তোমরা ধীরে ধীরে প্রায় এক লাখ চিঠি লিখতে থাকো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেখুক ও জানুক যে, প্রজন্মের লেখাপড়াটাও ঠিক আছে। ওরা লিখতে জানে, বলতে জানে, ফুটবল সম্পর্কে জানে। কিন্তু, কোথায়? কেউ লিখতে পারোনি। একটা পত্র কে না কে লিখেছে, সেটি কপি ও পেস্ট করে চলছে। এভাবে তোমরা পারবে না। ফেডারেশন কীভাবে চলবে, সেটির জন্য যারা আসে দায়িত্বে, তারা কি কিছুই বুঝে না? ভালই বুঝে। অভিজ্ঞতা আছে তো তাদের। তাই আমি বললাম, তোমরা এসব ফেডারেশন নিয়ে আন্দোলনকে গৌণ করে দেখে মন্ত্রণালয় চাও। কারণ ফেডারেশন চালায় ফিফা, এএফসি। কাজেই বাংলাদেশ সরকার যদি আলাদা করে মন্ত্রণালয় করে, তাহলে এই ফেডারেশনে কে এলো বা গেলো তা নিয়ে নজর না দিলেও চলে। মন্ত্রণালয় একটা হলে ফেডারেশন তখন আন্তর্জাতিক দূতিয়ালি মূলক সাংস্কৃতিক সংস্থা হয়ে পড়বে। কিন্তু, ফুটবলের উন্নয়ন করবে একটি মন্ত্রণালয়।

ফুটবলের জন্য তো হাজার হাজার কোটি টাকা বাজেটে বরাদ্দ করবে না। হ্যাঁ, এক সময় যখন আমরা পেরে উঠবো, বাজেটও সরকার দেবে। কাজেই আগভাগেই বলবে যে, দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী হবে, সে কিছুই করবে না। এভাবে দেখবার সুযোগ নেই। বরং, সে একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে। অল্প বাজেট নিয়ে ঘুম ব্যতিরকে সে ফুটবলের জন্য কাজ করবে। কিন্তু তোমরা সেদিকে না গিয়ে, বিচ্ছিন্ন এমন আঙ্গিকের আন্দোলন কি কোনো কাজে আসবে? তোমরা আমার আদরের। কিন্তু, চিকিৎসক হতে যেও না। চিকিৎসা চাও একজন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। সূত্রমতে, জাতীয় সংসদের বিশেষ একটি অধিবেশন চালু হতে যাচ্ছে। ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের কাছে যাও। বল গিয়ে, কথা দিন, আমাদের ফুটবলের জন্য সংসদে ফ্লোর নিয়ে মন্ত্রণালয় চাইবেন। যতোক্ষণ পর্যন্ত একেকজন এমপি রাজি না হন, তাদের বাসার সামনে বসে থাকবে। দেখবে, ভালো কিছু হচ্ছে। আমি কি ফুটবল মন্ত্রী হতে চাচ্ছি? আমার কি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ আছে? একজন ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে নয়, নাগরিক হিসেবে মনে করি, বাংলাদেশের ফুটবলকে এগিয়ে যেতেই হবে। যারা ফিফা র‌্যাংকিংয়ের কথা বলে প্রতিশ্রুতি দেয়, আমি বলবো, তাদের মাথায় ঘোল ঢেলে পাগলা গারদে পাঠানোর আর বেশি দেরি নেই। দয়া করে নিজেদেরকে প্রমাণ কর। খুব ইচ্ছে ছিল, তোমাদের নিয়ে (অন্তত ১০০০০) একটি ফুটবলের সমাবেশে ভাষণ দেবো। ইচ্ছেটাকে কাজে লাগাতে পারলে না। আমার কাছে মনে হয়নি তোমরা ফুটবলের জন্য সবাই লড়ছো। কাউকে খুবই রহস্যময় মনে হয়েছে, কাউকে কারো পক্ষে কাজ করছে বলে মনে হয়েছে। আবার কেউ কেউ সত্যিই ফুটবলের প্রতি আসক্তিতে ‘বয়কট সালাহউদ্দীন’ উচ্চারণ করতে দেখেছি। মনে রাখবে, ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠিগত স্বার্থ নয়, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তুমি লড়তে পারলে ‘পরিবর্তন’ আসার ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হয়, যে লক্ষণগুলো তোমাদের আন্দোলনে অনুপস্থিত রয়েছে বলে মনে করবার সুযোগ আছে। ফেসবুক থেকে

 

সর্বাধিক পঠিত