প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মেঘনার জলোচ্ছ্বাসে রামগতি-কমলনগরে কৃষির ক্ষতি ১৯ কোটি

আমজাদ হোসেন : [২] দীর্ঘ মেঘনার ভাঙনে ফসলি জমির ক্ষতি প্রতি বছরেই কোটি টাকা। তার মধ্যে হঠাৎ মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারে জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগর উপজেলা হাজার হেক্টর ফসলি জমি। এ অস্বাভাবিক জলোচ্ছ্বাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি জমির উৎপাদিত ফসল। এতে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে ক্ষতি পরিমান নির্ধারন করে প্রায় ১৯ কোটি টাকা।

[৩] মেঘনার জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি ও দু’দফার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে ১২ হাজার ৭৫৫ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ৭৩৪ হেক্টর সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। আর এতে ৮০৫ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

[৪] জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও পূর্ণিমা-অমাবস্যার প্রভাবে ৪ থেকে ৬ আগস্ট প্রথম দফায় এবং ১৮ থেকে ২২ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় মেঘনার জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় ফুট বেড়ে যায়।

[৫] এতে কমলনগর উপজেলার মতিরহাট, চরসামছুদ্দিন, পশ্চিম মার্টিন, নাছিরগঞ্জ, কাদিরপণ্ডিতেরহাট, পশ্চিম চরলরেন্স, চরজগবন্ধু, মাতাব্বরহাট, লুধুয়া ফলকন ও পাটারীরহাট এবং রামগতি উপজেলার সুজনগ্রাম, জনতা বাজার, পশ্চিম বালুরচর, মুন্সীরহাট, সেবাগ্রাম, চরআলগী, বড়খেরী, চরগাজী, চরগজারিয়া ও তেলিরচর জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়।

[৬] এছাড়াও লঘুচাপ ও পূর্ণিমা-অমাবস্যার প্রভাবে অতিবর্ষণে দুই উপজেলার অন্য এলাকায়ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল। যে কারণে, ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়।

[৭] উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৫০০ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা, ১০ হাজার ৯৩০ হেক্টর রোপা আমন, ০৮ হাজার হেক্টর আউশ ও ৫৫ হেক্টর শাকসবজিসহ কমলনগর উপজেলায় ১৯ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে এবং রামগতি উপজেলায় ২৪ হাজার হেক্টরে রোপা আমন ও ২০০ হেক্টর জমিতে শাকসবজি আবাদ করা হয়। এর মধ্যে গত আগস্ট মাসের দু’দফায় মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের নোনা পানি এবং অতিবৃষ্টিতে কমলনগর উপজেলার ০৮ হাজার ৬৬৫ হেক্টর এবং রামগতি উপজেলার ০৪ হাজার ৯০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। এতে কমলনগর উপজেলার ৪১৪ হেক্টর এবং রামগতি উপজেলার ৩২০ হেক্টর ফসলি জমি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।

[৮] সূত্র জানায়, কমলনগর উপজেলায় ৩৯৫ হেক্টর জমির রোপা আমনের বীজতলা, রোপা আমন ধান ও উঠতি আউশ ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ০৬ হাজার ৫৯১ টন ধান কম উৎপাদন হবে এবার। এতে ৪১৫ জন কৃষকের ক্ষতি হয়েছে ১৬ কোটি ২৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এ ছাড়াও ১৯ হেক্টর জমিতে ১৯০ টন শাকসবজির উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এতে ১৫ জন কৃষকের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা।

[৯] অন্যদিকে, রামগতি উপজেলায় ২৬০ হেক্টর জমিতে এক হাজার ৩০০ টন ধান উৎপাদন ব্যাহত হবে । এতে ২৪৫ জন কৃষকের ০১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার ক্ষতি হতে পারে। এখানে ৬০ হেক্টর জমির শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৩০ জন কৃষকের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা।

[১০] কমলনগর উপজেলার চরফলকন এলাকার সবজি চাষি মো. আফজাল জানান, প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি ৪০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছেন। অস্বাভাবিক জোয়ারের নোনা পানিতে তার সেই লাউক্ষেত ডুবে যায়। এতে গাছ পচে যায়। আরও অনেকে ক্ষতির অভিযোগ জানান।

[১১] রামগতি উপজেলার চরআব্দুল্লাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাজার এলাকার কৃষক মো. সুমন জানান, তার ১৬ শতক জমির আমনের বীজতলা জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত থাকায় চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তিনি প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

[১২] কমলনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. ইকতারুল ইসলাম ও রামগতি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার সরকার জানান, মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ার ও অতিবৃষ্টিতে দুই উপজেলায় আট হাজার ২৫১ টন ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে তাদের সহায়তা দেওয়া হবে। সম্পাদনা : আরাফাত

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত