প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শামীম আহমেদ: হাবলু ও ক্রিকেট খেলার গল্প

শামীম আহমেদ: ফেসবুকে মা ও ছেলের ক্রিকেট খেলা নিয়ে জেরবার কাণ্ড দেখে বিভ্রান্ত হয়ে গেছে হাবলু। হাবলুর মাথায় সমস্যা বলে তার মামা। হাবলুর মাথায় সমস্যা কিনা জানা নেই, তবে হাবলুর মাথায় চুল কম। ছোটকালে দূর সম্পর্কের এক চাচা বলতো মাথায় বুদ্ধি বেশি বলে চুল কম। এদিকে বড় হবার পর পাড়া-প্রতিবেশীরা বলে হাবলু বেকুব শ্রেণির মানুষ। কিছু বোঝে না। সমবয়সী মেয়েরা হাবলুকে দেখলে মুখ চিপে হাসে। সমবয়সী ছেলেরা এড়িয়ে চলে। হাবলুর সাথে যেহেতু কেউ মেশে না, হাবলু সারাদিন পড়ালেখা করে। বই পড়ে, পত্রিকা পড়ে, এমনকি ফেসবুকও পড়ে। ফেসবুক পড়তে গিয়েই হয়েছে যতো বিপত্তি। এক মা ও তার ছেলের ক্রিকেট খেলার ছবি নিয়ে বিজ্ঞজনদের মন্তব্য পড়ে হাবলু বিভ্রান্ত। হাবলু নানা জনের, দলের মতামত পড়ে। প্রথম দল এটি একটি অসামান্য ছবি। একজন মা ও তার ছেলে ক্রিকেট খেলছে। মা বোরখা পরে আছেন। ছেলে পাঞ্জাবি সদৃশ্য পোশাক। তারা খেলছে।

মা ইসলামী পোশাকে আছেন, আবার ছেলের সাথে খেলা করছেন। এমনই হওয়া উচিৎ। খেলাও হবে, ধর্মও মানা হবে। দ্বিতীয় দল এটি একটি দূর্ভাগ্যজনক ছবি। এই ছবিতে আমাদের সংস্কৃতি ফুটে উঠেনি। বোরখা আমাদের পোশাক নয়, আমাদের সংস্কৃতি নয়। বোরখা পরা নারীর ছেলের সাথে ক্রিকেট খেলা কোনো প্রশংসার বিষয় হতে পারে না। তৃতীয় দল ক্রিকেট খেলা ইসলামে নিষিদ্ধ। যে কোনো খেলাই নিষিদ্ধ। বোরখা পরে ক্রিকেট খেলাও গুনাহের কাজ। বোরখা পরে ক্রিকেট খেলা আসলে ইসলাম ধর্মেরই অবমাননা। চতুর্থ দল যেহেতু মহিলা বোরখা পরেছেন। আর কিছু দেখার দরকার নেই, এখানে সবই ভুল, সবই দৃষ্টিকটু। দেশটা ইসলামী জঙ্গিতে ভরে গেছে। পঞ্চম দল যেহেতু মহিলা বোরখা পরেছেন। সুতরাং সবই ঠিক। বোরখা পরে উনি ক্রিকেট, ফুটবল যাই খেলুন চলবে। দেশে এভাবে পর্দা প্রথা বজায় রাখতে হবে। হাবলু বিভ্রান্ত। হাবলু ইসলাম সম্পর্কে কম জানে। কোরআন শরীফ ১৭ পারা পড়ার পর ৩ গোয়েন্দায় মন দিয়েছে, তারপর মাসুদ রানা। ইসলাম নিয়ে খুব বেশি পড়া হয়নি। ম্যাট্রিকে অষ্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট প্লেয়ারদের ‘জবান’ দিয়ে বানানো ইসলামী উক্তি লিখে ইসলাম শিক্ষায় পেয়েছিলো ৭৬, তার ক্লাসে সবচেয়ে কম। আবার হাবলু নাস্তিকতাও বোঝে না। বিগ ব্যাং থিওরি শুনলে হাবলুর ব্যাঙের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর আওয়াজের কথা মনে হয়। হঠাৎ করে একটা ঝামেলা থেকে পৃথিবী তৈরি হয়ে গেছে, আবার আরেকটা ঝামেলায় শেষ হয়ে যাবে, এইটাও হাবলুর কম চুলের মাথায় ঢোকে না।

এদিকে হাবলু জানে বোরখা কোনো ইসলামী পোশাক নয়। এটি আরব পোশাক। ইসলামে পর্দার কথা বলা হয়েছে সেটাও হাবলু জানে। হাবলু জানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের কাপড় পরে ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী নারীরা পর্দা করেন। সেটা বোরখা হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বোরখা যে কেবল মুসলমানরা পরে তা না। সেই সময়ে আরবে সব ধর্মের নারীরাই বোরখা পরতো। সুতরাং বোরখা পরলেই তাকে সমর্থন করতে হবে, এটা হাবলু মানে না। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন এটি বাঙালি মা নয়, বাঙালি পোশাক নয়। তা নিয়েও হাবলু বিভ্রান্ত। হাবলু জানে সেলোয়ার কামিজও বাংলা পোশাক নয়। হাবলু জানে প্যান্ট-শার্ট-ট্যাগা (ট্যাগাও হইতে পারে, হাবলুর ইংরেজি খারাপ) এগুলোও বাঙালি পোশাক নয়। হাবলু জানে বাঙালি পোশাক হচ্ছে শাড়ি। কিন্তু যারা বোরখা বাংলাদেশি পোশাক না বলে বিরোধীতা করেছে। তারা আবার বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের পোলো-শার্ট, ট্রাউজার পরা ক্রিকেট খেলোয়াড়দের ব্যাপক সমর্থন করেছে কেন তাও হাবলু বোঝে না। তাহলে কী বোরখা ছাড়া অন্য কিছু পরলেই নিয়ম শিথিল হবার সুযোগ আছে? অনেকটা সামরিক শাসকদের সান্ধ্য আইনের আলোকে, হাবলু বোঝে না। হাবলু ভাবে, নিশ্চয় তাহলে সামনে বাংলাদেশে সকল নারীর শাড়ি পরে ক্রিকেট খেলার বাধ্যবাধকতা আসবে। হাবলু এবার চিন্তায় পড়লো পুরুষদের নিয়ে। দেশের পুরুষদের দেশীয় পোশাক কী আসলে? লুঙ্গি আর গেঞ্জি। যারা এইসব নিয়ে আলাপ করেন। তারা কিংবা তাদের স্বামীদের তো হাবলু বেশিরভাগ সময় হাফ-প্যান্ট পরে ঘুরতে দেখে। তারা তাহলে কবে দেশি পোশাক পরবে। কবে বাংলাদেশি পুরুষরা লুঙ্গি-গেঞ্জি পরে ক্রিকেট খেলবে। হাবলু এবারও বোঝে না, হাবলু কনফিউজড। হাবলু নিজেকে জিজ্ঞেস করে সে এখন কী করবে? হাবলু ঠিক করলো, সে যে কোনো মায়ের তার ছেলের সাথে ক্রিকেট খেলাকে ভালোবাসে, সমর্থন করে। যে কোনো মায়ের বা বাবার সন্তানের সাথে কাটানো সুন্দর সময় হাবলুর মতো বোকা মানুষকে আনন্দ দেয়। তারা বোরখা পরে না টপস, লুঙ্গি পরে না ট্রাউজার, তাতে হাবলুর কিছু যায় আসে না। হাবলু এবারের মতো নিজের সাথে দফা-রফা করে, অরুণ বাবুর বাগান থেকে তোলা লাউ দিয়ে ইলিশ মাছ রান্নার একটা রেসিপি দেখতে বসলো ইউটিউবে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত