প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চারলেনসহ একনেকে ৬,৬০০ কোটি টাকার ৬ প্রকল্প পাস

সাইদ রিপন: [২] জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন বলেন জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক বৈঠকে ৬টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। এসময় পরিকল্পনামন্ত্রী গণভবনেই উপস্থিত ছিলেন। একনেকের বাকি সদস্যরা রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষ থেকে যুক্ত হন। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানান।

[৩] প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জলাশয় বা জলমগ্ন এলাকায় যেসব সড়কের কাজ করা হবে, সেখানে অনেক বেশি কালভার্ট রাখতে হবে। প্রাকৃতিক কিছু খাল আছে, সেসব খাল তো রাখবোই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বাড়তি বা কিছুদূর পর পর একটি করে কালভার্ট করবেন। যাতে অবাধে পানি চলাচল করতে পারে। মাছ অবাধে চলাফেরা করতে পারে। জলজ প্রাণীর স্বাধীনতা আমরা সম্মান করি।

[৪] মন্ত্রী আরও বলেন, হাওর অঞ্চলের যেসব আদিম গাছগাছালি আছে, হিজল, করচ, তমাল এসব রক্ষা করতে হবে। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য যা আছে, প্রাণিজ জলজ বৃক্ষ রক্ষা করতে হবে। জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, হাওর এলাকায় ছোট ছোট চিংড়ি মাছ রয়েছে এগুলো রক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। খাদ্য সংরক্ষণাগার তৈরির জন্য উপক‚লীয় অঞ্চলে প্লাস্টিকের মটকা কিনে দেওয়া হবে। ফলে প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় খাদ্যশস্য নষ্ট হবে না। এছাড়া বড় বড় সাইলো তৈরি করা হবে।

[৫] ‘সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক পৃথক এসএমভিটি লেনসহ ৪ লেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্প প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে সব আন্তঃজেলা সড়ক মহাসড়ক এবং সব মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করা হবে। এর অংশ হিসেবেই এ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। এটি চলতি বছর থেকে জুন ২০২৫ সালে বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর । এ প্রকল্পে ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে ২ হাজার ৯৭০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। বাকি টাকা সরকারি তহবিল থেকে পাওয়া যাবে।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে, সিলেট হতে তামাবিল পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনসহ ৪-লেনে উন্নীত করা, ঢাকা-সিলেট-তামাবিল করিডোরের মাধ্যমে উপ-আঞ্চলিক সংযোগ স্থাপন করা, স্থলবন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চল, রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে যাতায়াত সহজীকরণ, পর্যটন বিকাশে সুযোগ সৃষ্টি করাসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রকল্পটি অবদান রাখবে। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। গুরুত্ব বিবেচনায় তখন প্রকল্পটির ওপর পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাথে ভারত, ভুটান, নেপাল, মায়ানমার এবং চীনের ক্রস বর্ডার সংযোগ স্থাপনসহ উপ-আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে এবং দক্ষিণ-পুর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে আমদানি-রপ্তানি ও ব্যবসা-বাণিজ্য স¤প্রসারণ করার পথ সুগম হবে।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে- মতলব-মেঘনা-ধনাগোদা-বেড়িবাঁধ সড়ক উন্নয়ন ও স¤প্রসারণ প্রকল্প। যেখানে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক পৃথক এসএমভিটি লেনসহ ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের ব্যয় হবে ৩ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। এছাড়া সারাদেশে পুকুর খাল উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় হবে ১ হাজার ৬৪৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৪১ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আর ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্যচাষ প্রযুক্তি সেবা স¤প্রসারণ প্রকল্পে ১০৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত