প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লিওঁকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে পিএসজির সঙ্গী বায়ার্ন

ডেস্ক রিপোর্ট : বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে গোল মিসের খেসারত সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়ে দিতে হলো অলিম্পিক লিওঁ’কে। ম্যাচের শুরুর দিকে সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি মেম্ফিস ডিপাই এবং কুকারেট। আর এমন ভুলে খেসারত দিতে হলো স্বপ্নের ফাইনাল থেকে স্পর্শসম দূরত্ব থেকে বিদায় নিয়ে। দ্বিতীয় সেমিফাইনাল মাঠে গড়ানোর আগে অনেকটা অনুমেয়ই ছিল বেশ সহজেই অলিম্পিক লিওঁ’র বাধা টপকে ফাইনালে জায়গা করে নেবে বায়ার্ন মিউনিখ। বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় রাত একটায় পর্তুগালের লিসবনের এস্তাদিও হোসে আলভালাদে মাঠে নামে দুই দল। আর নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ৩-০ গোলের ব্যবধানে লিওঁ’কে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় বায়ার্ন মিউনিখ।

তবে যতটা সহজ খাতা কলমের হিসেব বলছিল মাঠের খেলায় সেটা হয়নি মোটেও। অন্তত প্রথম ১৫ মিনিটে সহজ দুই সুযোগ হেলায় না হারালে ম্যাচের ভাগ্য হতে পারত অন্যকিছুও। হাই ডিফেন্সিভ লাইন কীভাবে জয় করতে হয় সেই টোটকা বের করে ফেলেছিল লিওঁ। তাও ম্যাচের ৪ মিনিটে। বায়ার্নের পাস ইন্টারসেপ্ট করে মিডফিল্ড থেকে দেওয়া থ্রু পাস মেম্ফিস ডিপাইকে নয়্যারের সঙ্গে ওয়ান অন ওয়ানে ফেলে দিয়েছিল। ডিপাইয়ের কাছে সময় ছিল অনেক, এগিয়ে আসা নয়্যারকে কোনাকুণি হারাতে গিয়ে তিনি মারলেন সাইডনেটে। আত্মবিশ্বাসী শুরুর পর আরও দুইবার বায়ার্নের বক্সের ভেতর দারুণ ক্রস ফেলল লিওঁ। কিন্তু সময়মতো কাজের লোকটা ছিলেন না জায়গামতো।

ম্যাচের ১৭ মিনিটে লিওঁ ফুলব্যাক টোকো একাম্বি বায়ার্নের বাঁ-পাশ দিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়ে শট নেন গোল বরাবর। তবে এবার বাধা হয়ে দাঁড়ায় গোলপোস্ট। ম্যানুয়েল নয়্যারকে ফাঁকি দিতে পারলেও বল গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসলে গোল বঞ্চিত হত লিওঁ। আর এমন দুই সুযোগ হাতছাড়া করে বায়ার্ন আগুনে পুড়তে হয়েছে লিওঁ’কে।

ম্যাচের ১৮তম মিনিটে জশুয়া কিমিখের কাছ থেকে প্রায় মধ্যমাঠের একটু সামনে বল পান সার্জ গ্যানাব্রি। আর বল পেয়েই অবিশ্বাস্য হয়ে ওঠেন গ্যানাব্রি। দুর্দান্ত ড্রিবলে লিওঁ’র চার খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন লিওঁ’র ডি বক্সে আর ঠিক ডি বক্সের ভেতরে বাঁ-পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল পাঠিয়ে দেন জালে। আর বায়ার্ন এগিয়ে যায় ১-০ গোলের ব্যবধানে।

আর গোল করেই যেন নতুন করে নিজেদের খুঁজে পায় বাভারিয়ানরা। একের পর এক আক্রমণে ছিঁড়েখুঁড়ে খেতে থাকে লিওঁ’র রক্ষণভাগ। এরপর ম্যাচের ৩৩ মিনিটে ইভান পেরিসিচের দুর্দান্ত ক্রসে পা ছোঁয়ান রবার্ট লেভান্ডোফস্কি। তবে তা রুখে দেন লিওঁ গোলরক্ষক। আর বল রুখে দেওয়ার পরই ভুলটা করে বসেন অ্যান্থনি লোপেস। লেভন্ডোফস্কির শট ঠেকানোর পর তার হাত থেকে বল ছুটে যায় আর বল পেয়ে যান সার্জ গ্যানাব্রি। লেভান্ডোফস্কি ভুল করলেও ভুল করেননি গ্যানাব্রি। জোরালো শটে বল জড়ান জালে। আর ম্যাচের মাত্র আধা ঘণ্টা পার হতেই বায়ার্ন এগিয়ে যায় ২-০ গোলের ব্যবধানে।

এই গোলের মাধ্যমেই ২০১৩/১৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদের গড়া রেকর্ডে ভাগ বসান বাভারিয়ানরা। সেবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল-সহ মোট ১৩ ম্যাচে রেকর্ড ৪১টি গোল করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ আর ২০১৯/২০ মৌসুমে এসে সেই রেকর্ডেই ভাগ বসাল বায়ার্ন। যদিও বায়ার্ন মিউনিখ নিজেদের ১০তম ম্যাচে এসে এই রেকর্ড স্পর্শ করল। শেষ পর্যন্ত যদিও ৪২ গোল করে রিয়ালের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাভারিয়ানরা।

প্রথমার্ধে আরও গোলের সুযোগ তৈরি করে বায়ার্ন তবে গোলরক্ষক লোপেসের দুর্দান্ত কিছু সেভে ২-০’তে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় লিওঁ।

বিরতি থেকে ফিরে গোল পরিশোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে লিওঁ। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের আরও সামনের দিকে ঠেলতে শুরু করে ফ্রান্সের ক্লাবটি। কিছু সুযোগও তৈরি করে লিওঁ, তবে আবারও ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় গোলের দেখা মিলছিল না। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে প্রায় এক গোল শোধ করে ফেলেছিল লিওঁ, তবে নয়্যারের দৃঢ়তায় সে যাত্রাও গোল বঞ্চিত লিওঁ।

এদিকে বার্সার বিপক্ষে শেষ ১০ মিনিটে জাদু দেখানো ফিলিপ কুতিনহো লিওঁ’র বিপক্ষে সময় পান ১৫ মিনিট। আর মাঠে নামার ৪ মিনিটের মধ্যেই গোল দিয়ে ফেলেছিলেন কুতিনহো। তবে গোল করার সময় অফসাইড পজিশনে থাকায় তা বাতিল হয়ে যায়। এর আগে বাঁ-প্রান্ত থেকে লিওঁ’র রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন কুতিনহো আর বল পেয়ে শট নেন গোল বরাবর তবে কুতিনহো আর গোলের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ান অ্যান্থনি লোপেস। কুতিনহোকে গোল বঞ্চিত করেন লিওঁ গোলরক্ষক। আর দলের পিছিয়ে থাকার ব্যবধান তখনও ২-০ গোলেই রাখেন তিনি।

তবে শেষ পর্যন্ত ব্যবধান বাড়ান দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রবার্ট লেভান্ডোফস্কি। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে জশুয়া কিমিখের নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে ডি বক্সের ভেতরে থাকা লেভান্ডোফস্কি মাথা ছুয়িয়ে বল জালে জড়ান আর দলকে এগিয়ে নেন ৩-০ গোলে। এটি লেভান্ডোফস্কির চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫তম গোল। এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ১৭ গোল করে শীর্ষে আছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ফাইনালে জোড়া গোল করতে পারলেই রোনালদোকে স্পর্শ করবেন লেভা।

আগামী ২৪ আগস্ট বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পিএসজির বিপক্ষে লড়বে বায়ার্ন মিউনিখ।

সূত্র- সারাবাংলা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত