প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আসিফুজ্জামান পৃথিল: স্পুৎনিক গাইড হয়ে এক নতুন পৃথিবীর পথ দেখাক

আসিফুজ্জামান পৃথিল: রুশিরা ভ্যাক্সিন বানিয়েছে। পরীক্ষা ঠিকমতো হয়নি হয়তো। এই ভ্যাক্সিন পুরোপুরি কার্যকর না হয়তো। এমনকি অন্য দেশ থেকে হয়তো তথ্যও চুরি হয়েছে। কিন্তু এটা অস্বীকারের কিছু নাই, রাশিয়া করোনাভাইরাসের ভ্যাক্সিন বানিয়েছে। বিশ্বের প্রথম করোনা ভাইরাস ভ্যাক্সিন।

রুশিরা স্পুৎনিক নামের কৃত্রিম উপগ্রহটা যখন আকাশে ছুড়লো এর তেমন কার্যকরিতা কি ছিলো? উত্তরটা হলো একদম না। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র যা আকাশে পাঠিয়েছে সেগুলোর তুলনায় স্পুৎনিক একটা টিনের বাক্স। কিন্তু মহাকাশ প্রথম জয় করেছে কে? উত্তরটা আপনারা জানেন। রুশিরা ঝুঁকি নিয়ে লাইকাকে মহাকাশে পাঠিয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে ইউরি গ্যাগারিনকে মহাকাশে পাঠিয়েছে। অন্যরা মানুষ পাঠানোর আগেই তেরেসকোভাকে পাঠিয়েছে। এই জাতটা অদ্ভূত। এদের প্রধান শক্তি কঠোর গবেষণা নয়। এদের প্রধান শক্তি ঝুঁকি নেয়া, জুয়া খেলা। এসব জুয়া খেলতে গিয়ে গর্ভাচেভ পুরা রাষ্ট্রকাঠামোকে যেমন ডুবিয়েছেন, রুশিরা তেমন অনেক ক্ষেত্রে সাফল্য পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশযান সেই কবে ইন্টারস্টেলার স্পেস পেরিয়েছে। ভারত-চীন এখন মঙ্গলের আশেপাশে ঘুরাফেরা করছে। আর রুশিদের মহাকাশ সাফল্য? ওই সব কিছুতে প্রথম হওয়াটাই। এর বেশি কিই বা তারা করেছে।

স্পুৎনিক শব্দটার গুরুত্ব রুশিদের কাছে অনেক। নতুন কিছু তৈরি করতে পারলেই স্পুৎনিক নাম রেখে দেয়া তাদের বদভ্যাস। যেদিন তারা প্রথম স্পুৎনিক ওয়ান নিক্ষেপ করলো, আমেরিকা হতবাক কয়ে গিয়েছিলো। রুশিদের গবেষণার কথা তো কিছুই শোনা যায়নি! এরকম মিডিয়া সাইলেন্স তো রহস্যজনক। আসলে যেই দেশে প্রথাগত গণমাধ্যমই নেই, সেই দেশে কোনও কিছু নিয়ে হাইপ তৈরিরও কারণ নেই। আর জাতিগতভাবে রুশরা গোপনীয়তা ভালোবাসে। লো প্রোফাইল মেইনটেন করা তাদের রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্যের অংশ। আমরা রুশ প্রপাগাণ্ডার গল্পটাই খালি জানি। তাদের গোপনিয়তার পরম্পরার কথা মনে রাখি না। স্পুৎনিক একটা স্পেস রেস শুরু করেছিলো। শুরু হয়েছিলো স্নায়ু যুদ্ধ। সেদিন অবশ্য আমেরিকান নেতারা বলেছিলেন, তারা সোভিয়েতদের সঙ্গে কোনও ধরণের স্পেসরেসে নামবেনই না। বাজে কথা ছিলো সেটা। আজ মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, তার দেশ রুশিদের সঙ্গে কোনও ধরণের ভ্যাক্সিন রেসে নেই। অথচ ফাউচির মতো ভদ্রলোককে বলতে শুনি, রুশরা কি বানিয়েছে দেখার দরকার নেই, রুশরা বানিয়েছে, মানে তা ভালো না।

ভ্যাক্সিনটার নাম স্পুৎনিক। রুশ ভাষায় এর অর্থ স্ত্রী। আবার এর আরেক অর্থ পথপ্রদর্শক। প্রথম স্পুৎনিক পথ দেখিয়েছিলো এক আজব প্রতিযোগীতার। যে প্রতিযোগীতা সামরিক বিজ্ঞান বিশেষত আকাশ বিজ্ঞানকে এক অনন্য উচ্চতা দিয়েছিলো। এই স্পুৎনিক কি আবারও স্নায়ু যুদ্ধ আর বিজ্ঞান প্রতিযোগীতার জন্ম দেবে। দেক না। তবে এবার যেনো অস্ত্র নির্মানই না হয় উৎকর্ষ সাধনের পথ। এইবার যেনো প্রতিযোগিতা হয় কিভাবে মানব উন্নয়ন করা যাবে তা নিয়ে। স্পুৎনিক গাইড হয়ে এক নতুন পৃথিবীর পথ দেখাক। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত